প্রতিবেদন শুরু করা যাক সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও নিয়ে। নিউজ বর্তমান এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি।
ভাইরাল হওয়া ভিডিও এক মহিলাকে বলতে শোনা যায় “ জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। ”
সেটা শুনে আওয়ামী বিরোধী নেতা কুৎসিত ভাষায় তাঁকে গালি দেন। তারপরেও কিন্তু মহিলাকে থামিয়ে রাখা যায়নি। উল্টে ওই নেতাকে বলেছেন রাজাকারের বাচ্চা। তুই বেয়াদব। তুই যা এখান থেকে।
আওয়ামী লীগকে যে কোনও ভাবেই প্রতিহত করা সম্ভব নয়, সেটা আরও একবার জানিয়ে দিল ব্রিটেনের গণমাধ্য দ্য গার্ডিয়ান। তাদের ৩ ফেব্রুয়ারির সংস্করণে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক দলেক নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যার শিরোনামThe exiled Awami league members plotting a political comeback in Bangladesh – from India. জুলাই অগাস্টের অভ্যুত্থানের পর হাসিনা চলে যান দিল্লি। মনে করা হচ্ছে, তাঁর আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামন খান কামালও রয়েছে দিল্লিতে। দিল্লিতে রয়েছেন দলের আরও বেশ কয়েকজন নেতা। বলা হচ্ছি নির্বাচন হোক বা না হোক, আওয়ামী লীগ ফিরছেই। দেশে ফিরলে তাদের গ্রেফতার করা হতে পারে বা তারা মব সন্ত্রাসের শিকার হতে পারেন, সেটা ধরে নিয়েই তারা বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছেন।
রাজনীতিত একটি বহুল প্রচলিত কথা আছে তা হল – শেষ বলে কিছু নেই। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সেটা হয়তো আবারও সত্যি হতে চলেছে। জুলাই-অগাস্টের অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে ১৫ বছরের একটি শাসনামলের অবসান ঘটানো হয়েছিল। সেই সময় পদ্মাাপারের বহু বুদ্ধিজীবীকে বলতে শোনা যায় আওয়ামী লীগকে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তাদের আর ফিরে আসার কোনও সম্ভাবনা নেই। কিন্তু ১৫-১৬ মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশ কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে, তা সবিস্তারে দ্য গার্ডিয়ান তাদের প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে। এটা কোনও রাজনৈতিক প্রতিবেদন নয়। এই প্রতিবেদন বদলে যাওয়া ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ক্ষেত্রে একটা সতর্কবার্তা। আওয়ামী লীগ আজ নিষিদ্ধ। এই ভোটে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনও সুযোগ নেই। তাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী আত্মগোপন করে রয়েছেন। অনেকে আবার রয়েছে কারাগারে। তাদের কারও কারও ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ড। কলহরমুখর কলকাতা বা দিল্লিতে বসে যে ছক কষা হচ্ছে, সেটা প্রচলিত হিসেব নিকেশকে বড়ো ধরনের ধাক্কা দিচ্ছে। দ্য গার্ডিয়া পত্রিকার যে প্রতিনিধি আওয়ামী লীগ এবং হাসিনাকে নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন সেই হান্না এলিস পিটারসন তাঁর কপির ডেটলাইন রেখেছেন কলকাতা। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন খুঁটিয়ে পড়লে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে যাবে যে আওয়ামী লীগ কখনই দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে যায়নি। তার কারণ, বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির নিয়ন্ত্রক তারাই। আওয়ামী লীগকে রাজনীতির আঙিনা থেকে সরিয়ে দিলে আর কোনও রাজনীতি অবশিষ্ট থাকে না। ব্রিটেনেরএই পত্রিকা সে কথাই বলছে। পত্রিকা বলছে, আওয়ামী লীগ অপেক্ষা করছে প্রতিপক্ষের ভূলের। তদারকি সরকার প্রধানের ভুলের পাহাড়ের তলায় রয়েছে। তাদের অবস্থা এখন ভুলভুলাইয়া।
এখন প্রশ্ন হল আওয়ামী লীগ কেন মনে করছে, বাংলাদেশে তাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত?
প্রথমত তাদের রয়েছে সাংগঠনিক ক্ষমতা ও দক্ষতা। দেশের ভিতরে তাদের গোপন নেটওয়ার্ক এখনও সক্রিয়। তাদের বহু নেতাকর্মী আত্মগোপন করে রয়েছেন, অনেকে দেশ ছেড়েছেন। তারপরেও দেশের ভিতরে আওয়ামী লীগের নেটওয়ার্ক আগের মতই সচল ও সক্রিয়। গত ১৭ মাস ধরে দলের নেতা-কর্মীদের ওপর যেভাবে নির্যাতন ও নিপীড়ন করা হয়েছে, তার পরেও সেই নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়েনি। আওয়ামী লীগের মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেও যে কোনও লাভ হবে না সেটা হয়তো বুঝতে পারেননি তদারকি সরকার প্রধান। আর সেই না বোঝাই তাঁর কাল হল।












Discussion about this post