বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সময়টা যে কতটা বিপজ্জনক সেটা এখন আর অনুমানের বিষয় নয়। এটা বাস্তব। গত ১৭ মাসে বিদেশি বিনিয়োগ আসেনি, বরং বিনিয়োগকারীরা দেশ ছেড়েছে। তৈরির পোশাক ও টেক্সটাইল খাত, যা দেশের রপ্তানি, রিজার্ভ ও কর্মসংস্থানের মূল ভরসা, আজ তা কার্যত লাইফ সাপোর্টে চলে গিয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথায় ঋণের বোঝা। একেকজনের মাথায় ঋণের পরিমাণ ২০ লক্ষ কোটি টাকা। আগামীবছর সেটা ছাড়িয়ে যাবে ২৩ লক্ষ কোটি টাকায়। পরের বছর সেটা গিয়ে ঠেকবে ২৬ লক্ষ কোটিতে।
তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পর বলেছিলেন, বাংলাদেশকে দরজায় দরজায় ঘুরতে হবে না। বাংলাদেশের দরজায় আসবে আধুনিক বিশ্বে শক্তিধর দেশেরা। তারা বাংলাদেশে মোটা টাকার বিনিয়োগ করবে। দেশে বাড়বে কর্মসংস্থান। রকেট গতিতে উত্থান হবে আর্থিক উন্নতি। কিন্তু দেড় বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। বাজারে পুঁজি থাকার পরেও লাভজনক, সেই সঙ্গে উৎপাদনশীল ক্ষেত্র পাওয়া না গেলে এক ধরনের সংকট তৈরি হয়। কার্ল মার্কসের ভাষায় ওভার অ্যাকিউমুলেশন অব ক্যাপিটাল। বাংলাদেশে এখন সেটাই হয়েছে। দেশের অর্থনীতির মূল কারণ নীতিগত ব্যর্থতা। হাসিনা সরকারের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। চুক্তি হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আসত নতুন জোয়ার। এই চুক্তি মুক্ত বাণিজ্য নিয়ে আওয়ামী সরকারের আমলে ইইউ-য়ের সঙ্গে এই নিয়ে আলোচনা চলছিল। ২০২৪-য়ের অগাস্টে সরকার পতনের পর সেই আলোচনা এগোয়নি। তদারকি সরকারও এই বিষয়ে কোনও আগ্রহ প্রকাশ করেনি। তাদের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, মুক্তবাণিজ্য নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের তরফে তাদের কাছে কোনও প্রস্তাব আসেনি।
বলা হচ্ছে, ভারতের সঙ্গে ইইউ যে চুক্তি করেছে, সেই চুক্তি হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের সঙ্গে। বাংলাদেশের আকাশ থেকে আশঙ্কার মেঘ সরে যাওয়ার পরিবর্তে ক্রমেই তা ঘনীভূত হচ্ছে। তা রীতিমতো বজ্রপাতের মতো আঘাত হানতে শুরু করেছে। ইউনূস ক্ষমতা দখলের পর জাতিকে তিনি যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, তা যে মিথ্যে, তাঁর আসল উদ্দেশ্য যে ক্ষমতায় টিকে থাকা এখন সেটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ড. ইউনূস নিজেকে আন্তর্জাতিক মাস্টার ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরে চেষ্টা করে গিয়েছেন। হায়ার করেছিলেন লুৎফে সিদ্দিকি, আসিক চৌধুরীর মতো তরুণদের। বলেছিলেন, এরা বিদেশ থেকে বাংলাদেশের জন্য বিনিয়োগ নিয়ে আসবে। কাউকে আর দরজায় দরজায় ঘুরতে হবে না। অথচ ইইউয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তদারকি সরকার প্রধান।
দেশে ২০২৩-২৪ অর্থবছর জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের হার ছিল ২৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। বিগত ২০২৪–২৫অর্থবছরেসেটিকমে২২দশমিক৪৮শতাংশেনেমেছে।সেবছরেমূলধনিযন্ত্রপাতিআমদানিহয়েছিল২৮১কোটিডলারের, যা কিনা আগের বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ কম। বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহও ছয় মাস ধরে ৭ শতাংশের নিচে। অথচ ক্ষমতাচ্যুত সরকারের শেষ মাসেও এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ শতাংশের বেশি।
প্রায় দু দশকের বেশি সময় ধরে আলোচনার পর ভারত ও ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছে। এটি কার্যকর হলে ভারতে রপ্তানি হওয়া ইইউয়ের প্রায় ৯৬ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত হবে। এই চুক্তিতে উদ্বেগে রয়েছে বালদেশ। এফটিএ কার্যকর হলে ইইউয়ের বাজারে তৈরি পোশাক, চামরাজাত পণ্য, হিমঘরের মাছ, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন পণ্যে ভারত মুক্তশুল্কের সুবিধা পাবে। আর সেটি হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের রফতানি প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে। ইতোমধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সব টেক্সটাইল মিল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ডাক দিয়েছে। কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন। তাদের অভিযোগ, দেশের সুতো তৈরির মিলগুলিকে রক্ষা করার জন্য তদারকি সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি। ফলে ভারতে তৈরি সুতো ছেয়ে গিয়েছে বাজারে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post