জায়গাটির নাম চিকেনস নেক। ভারতের অত্যন্ত স্পর্শকাতর অঞ্চল। পদ্মাপারে তদারকি সরকারের আমলে কয়েকজন তরুণ-তুর্কি নেতারা একাধিকবার চিকেনস নেক কেড়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এমনকী তদারকি সরকার প্রধানও তাঁর ভাষণে বারে বারে ভারতের এই স্পর্শকাতর অঞ্চল নিয়ে কথা বলেছেন। মুরগির গলার মতো দেখতে বলে, এই অঞ্চলটিকে চিকেনস নেক বলা হয়। উত্তর-পূর্বে অসম, অরুণচল প্রদেশ, মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা ও সিকিমের সঙ্গে সংযোগকারী এটি একমাত্র রাস্তা। এর পশ্চিমে রয়েছে নেপাল, উত্তর ভূটান, দক্ষিণ-পূর্বে বাংলাদেশ। ভূরাজনৈতিক পরিভাষায় বলা হয় ল্যান্ডলক। বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধান এবং ভারত বিদ্বেষী নেতাদের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ভারত এই স্পর্শকাতর এলাকার নিরাপত্তা আরও কঠোর করেছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি চিনও ভারতের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। সার্বিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সাউথব্লক চিকেনস নেকের কাছাকাছি তিনটি জায়গায় তৈরি করা করেছে নতুন সেনা ছাউনি। এবার রেলপথেও মাস্টারস্ট্রোক দিল মোদি সরকার।
ভারতের এই স্পর্শকাতর এলাকায় তৈরি হচ্ছে রেলপথ। উদ্দেশ্য শত্রুরা কোনওভাবে হামলা করলে রেলপথে ভারতীয় সেনার কাছে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পৌঁছে যাবে রসদ। রেলপথে এর কোনও প্রভাব পড়বে না। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণ সম্প্রতি এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। জানিয়েছেন, শিলিগুড়ি করিডোর জুড়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশ জুড়ে তৈরি হবে ভুগর্ভস্থ রেলপথ। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে বর্তমানে যে রেললাইন রয়েছে সেটিকে চার লাইনে উন্নীত করার কাজও হবে। ভূগর্ভস্থ রেল পথের উদ্দেশ্য রেলমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। অশ্বিনী বৈষ্ণ বলেন, উত্তর-পূর্বের সঙ্গে দেশের বাকি অংশকে রেলপথে যোগাযোগের জন্য এই পরিকল্পনা। এই ভূগর্ভস্থ রেলপথ তৈরি হবে মাটির ২০ থেকে ২৫ মিটির নীচে, তিনমাইল হাট থেকে রাঙামাটি।
সুনির্দিষ্ট কারণে এই দুটি স্টেশন বেছে নেওয়া হয়েছে। তিন মাইল হাট দার্জিলিং জেলার রাঙাপানিতে। শিলিগুড়ি থেকে দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। এদিকে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে খুব কাছেই রাঙাপানি। বাংলাদেশের পঞ্চগড় এখান থেকে মাত্র ৬৮ কিলোমিটার দূরে। আকাশপথে কোনও হামলা হলে ভূগর্ভস্থ রেলপথ অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে। তাছাড়া এর পরিকাঠামো শনাক্ত করা খুব কঠিন। ফলে, দেশে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হলে বা শত্রুপক্ষ অতর্কিতে হামলা চালালে সেনাবাহিনীকে দ্রুত ওই রেলপথের সাহায্যে প্রয়োজনীয় স্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভবপর হবে।
কীভাবে কাজে আসবে এই ভূগর্ভস্থ রেল? রেলপথ সবচেয়ে দ্রুত পণ্যপরিহণের মাধ্যম। ৩০০টি ট্রাকে যে পরিমাণ সামগ্রী থাকে, একটা মালবাহী ট্রেন সেই পরিমাণ সামগ্রী বহন করতে পারে। প্রশ্ন উঠেছে, কী কারণে ভারত এত তাড়াতাড়ি এই প্রকল্পে হাত দিল। তার একটা কারণ যেমন বাংলাদেশ ও পাকিস্তান, দ্বিতীয় কারণ ডোকালাম-অরুণচল সীমান্তে সব ঋতুতে উপযোগী করে তুলেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অস্থিরতা এবং সীমান্ত ঘিরে সে দেশের তৎপরতায় ভারতের কৌশলগত উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বাংলাদেশের রংপুর, লালমনিরহাট, বিমানঘাঁটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। তদারকি সরকারের এই সব পদক্ষেপে সাউথব্লক কিছুটা হলেও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। এই উদ্বেগের মধ্যেই ভারত নানা পদক্ষেপ করেছে। চোপড়া, বিহারের কিষাণগঞ্জ, অসমের লাচিত বরফুকন, চিনের জলপথে হামলার মোকাবিলায় হলদিয়াতেও নতুন নৌঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। যার ফলে, রেলপথে ক্ষেপণাস্ত্র পরিবহন, গোপন রাখা ও যে কোনও জায়গা থেকে উৎক্ষেপণ সম্ভব হবে। এই প্রেক্ষাপটে দাড়িয়ে শিলিগুড়ি চিকেনস নেকের কাছে ভুগর্ভস্থ রেলপথ শুধুমাত্র পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নয়। চিন ও বাংলাদেশের দ্বিমুখী চাপের মুখে ভারতের একটি সুস্পষ্ট কৌশলগত পদক্ষেপ।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post