যদি প্রশ্ন করা হয়, বর্তমান প্রযুক্তির যুগে বাঙালির সব থেকে বড়ো আবিষ্কার কী? প্রশ্নটা ঘুরিয়ে এভাবেও করা যেতে পারে, এমন কোন যন্ত্র যেটা একমাত্র বাঙালি আবিষ্কার করতে পেরেছে? উত্তর খোঁজার জন্য সকলে বইয়ের পাতা ওল্টাতে শুরু করবেন। উত্তর কিন্তু খুব সহজ। যন্ত্রটির নাম ষড়যন্ত্র। খেলদুনিয়া থেকে রঙিন পর্দা – প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে কোনও অঘটন ঘটলে প্রথমেই যে তত্ত্বটি মাথায় আসবে সেই তত্ত্ব হল ষড়যন্ত্র। জাতীয় ক্রিকেট দল থেকে বাদ গেলে অমনি শুরু হবে ষড়যন্ত্র করে বের করে দেওয়া হয়েছে। চলচিত্রের ক্ষেত্রেও তাই। প্রতিটি ক্ষেত্রে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব খোঁজা। সকলের যে ভিত্তি নেই, তা নয়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব খাটে না। ধরা যাক জাতীয় দলে কোনও বাঙালি ক্রিকেটার জায়গা পেল না। অমনি শুরু হবে ষড়যন্ত্র করে তাকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তালিকায় জায়গা না পাওয়ার ক্ষেত্রে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব আর জায়গা পেলে? ? ? ? আপাতত তা তুলে রাখা থাক।
নতুন করে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব পাওয়া গেল পদ্মাপারে। কেন্দ্র বিন্দুতে ঢাকা-১৭ আসনে জামাত প্রার্থী খালিদুজ্জামান। তিনি বন্দুকধারী নিয়ে সোজা ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশ করেন। আর তা নিয়ে পাহারায় থাকা সেনা সদস্যদের সঙ্গে তিনি তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে যান। পরিস্থিতি একসময় চূড়ান্ত উত্তেজনায় পৌঁছে যায়।
খলিদুজ্জামান যখন ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে প্রবেশ করতে যাচ্ছিলেন তখন তার পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। প্রার্থীর সঙ্গে থাকা একজন বলেন, ভাই উনি হলেন এই আসনের এমপি ক্যান্ডিডেট। ঠিক আছে?
কোন দলের স্যার? প্রশ্ন করেন ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশপথে থাকা সেনাসদস্য। জবাবে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর।
সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘বুঝতে পেরেছি স্যার। আমাদের ক্যান্টনমেন্টের নিরাপত্তার স্বার্থে গান নিয়ে…।তখন খালিদুজ্জামান বলেন, ‘আপনারা তো গান নিয়ে বসে আছেন। তারেক জিয়ার(বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান) ক্ষেত্রে তো আপনারা জিহ্বা দিয়ে রাস্তা চেটে ফেলতেছেন। আমরা কেন যেতে পারবো না…।’
তখন সেনা কর্মকর্তা বলেন, স্যার এটা তো আমাকে বললে হবে না…।জবাবে প্রার্থী বলেন, ‘আপনার পরিকল্পিতভাবে দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছেন । দিজ ইজ টোটালি, কিছু অফিসারের জন্য সেনাবাহিনী বিতর্কিত হচ্ছে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে আপনারা বিতর্কিত করছেন। প্রয়োজনে আমি সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলবো। এখানে যে দায়িত্বে আছেন আপনি তার সঙ্গে কথা বলতে পারেন। কেন আমার গাড়ি আটকে রাখবেন তিনি আরো বলেন, ‘না না আপনারা তো আটকে রাখছেন। দিস ইজ নট ফেয়ার। টোটালি সেনাবাহিনী সম্পদ। এই সম্পদকে আপনারা বিতর্কিত করছেন ব্যক্তি স্বার্থে। ব্যক্তি স্বার্থে সরকারকেও আপনারা বিতর্কিত করছেন।’
এ সময় ওই সেনাসদস্যকে ঊর্ধ্বতন অফিসারের কাছে ফোন করতে দেখা যায়।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন ডা. খালিদুজ্জামান। সেখানে তিনি বলেন, ‘বেশকিছু দিন আগে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের গর্ব ও অহংকার, সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী সেনাবাহিনীর দায়িত্বরত সদস্যদের সঙ্গে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম নেয়।’ তিনি আরও লেখেন, ‘বিষয়টি ইতোমধ্যে সমাধান হওয়া সত্ত্বেও দুঃখজনকভাবে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই সমাধানকৃত ইস্যুকে কেন্দ্র করে ঘোলা জলে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতিকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।’ পোস্টের শেষাংশে তিনি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘যাই হোক উক্ত ঘটনার বিষয়ে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ভূল বুঝাবুঝি আর না হয়, সে ব্যাপারে আমি সচেষ্ট থাকব। ইনশাআল্লাহ।’












Discussion about this post