ব্যতিক্রম নাহিদ ইসলাম। কেন ব্যতিক্রম তা নিয়েই এই প্রতিবেদন। তার আগে কিছু কথা।
“আমাদের দায়িত্ব অনেক। ন্যায়ভিত্তিক একটা সমাজ গড়ার তোলার জন্য একসঙ্গে অনেকগুলো কাজ আমাদের হাত দিতে হবে। পহলা জুলাই থেকে ৫ অগাস্ট পর্যন্ত ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনকে দমন করতে যে সব ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, এর মধ্যে হত্যা মামলা ছাড়া বাকি সকল মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই সব মামলায় গ্রেফতারকৃত সকলে মুক্তি পেয়েছে।”
এই কথা তদারকি সররকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের। ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর তিনি তাঁর প্রিয় ‘দেশোবাসীর’ উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে এই সব কথা বলেছিলেন। তিনি নিজ মুখে স্বীকার করেছেন দায়িত্বের কথা আর একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার অঙ্গীকার। ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বলতে কী বোঝায়? চড়া দাগে বলতে গেলে যে সমাজ এবং যে সমাজের নীতি নির্ধারকেরা প্রতিটি ক্ষেত্রে নীতি নৈতিকতাকে গুরুত্ব দেবেন। কিন্তু গত দেড় বছরে তদারকি সরকার গৃহীত প্রতিটি পদক্ষেপে কি তার তিলমাত্র লক্ষ্মণ দেখা গিয়েছে? এক কথায় না। বাংলাদেশের সরকার যে কোনও নীতি-নৈতিকতার ধার ধারবে না, সেটা প্রথম দিকে বোঝা যায়নি। সময় যত গড়িয়েছে, ততই সেটা প্রকট থেকে প্রকটতর হয়েছে। সরকার করে গিয়েছে একের পর এক অনৈতিক কাজ। জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান একথাও বলেছিলেন যে বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছে। সব উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করবেন। ব্যতিক্রম নাহিদ ইসলাম। তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় তিনি তাঁর হলফনামায় সম্পদের তথ্য প্রকাশ করেছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের যে বিদায় আসন্ন সেটা খুব স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই, তাদের অনেকে লালপাসপোর্ট জমা দিতে শুরু করেছেন। সরকারি বাংলো ছাড়তে শুরু করেছেন। শোনা যাচ্ছে অনেক উপদেষ্টা ইতিমধ্যে বিদেশে পাড়ি দিয়েছে। গত ২০ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা বিশেষ পাসপোর্টের পরিবর্তে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন। যদিও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, কোনও কোনও উপদেষ্টা সাধারণ পাসপোর্ট দ্রুত পেয়ে প্রয়োজনীয় ভিসা নেওয়ার জন্য কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। তবে তিনি বা তাঁর স্ত্রী কেউ তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেননি। এমন টান টান উত্তেজনার মধ্যে এল আরও একটি খবর।
আওয়ামী লীগের আমলে যে কোনও দুর্নীতি হয়নি সেটা কিন্তু কেউ অস্বীকার করছে না। হাসিনাপুত্র জয় কিছুদিন আগে দেওয়া একটি ভাষণে সেই দুর্নীতির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। বলেছেন ভুল-ত্রুটির কথা। জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে সেই সব দুর্নীতির অবসান ঘটবে বলে মনে করেছিল বাংলাদেশের একাংশ নাগরিক। অধ্যাপক ইউনূস সরকার বাংলাদেশ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির নতুন সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। বাস্তবে দেখা গিয়েছে ঠিক উল্টোটা। আরও যেটা বিস্ফোরক তা হল উপদেষ্টাদের একজনও তাদের সম্পদের হিসেব প্রকাশ করেনি। বিবিসি বাংলা এই নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের টানা দেড় দশকের শাসনামলে যেভাবে একের পর এক দুর্নীতি ও লুঠপাটের ঘটনা ঘটতে দেখা গিয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের প্রত্যাশার জন্ম হয়েছিল। সেই প্রত্যাশা হল ইউনূস সরকার দেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির নতুন সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। কিন্তু একাধিক উপদেষ্টা ও তাদের পরিবারের সদস্য, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা অভিযোগ ওঠে। বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ – এর নির্বাহী পরিচালক আখতারুজ্জামান বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা জবাবদিহির নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, তাদের থেকে এই ধরনের অস্বচ্ছ কর্মকাণ্ড দেশবাসী মোটেই প্রত্যাশা করেনি।’
গত ১৭ মাসে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে তিনজন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। একজন প্রয়াত হয়েছেন।












Discussion about this post