নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ভোটে জয়ী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রায় ২০০ র ওপর বেশী আসন নিয়ে তারেক রহমান জিতেছেন। তারেক রহমান শপথ নিয়ে কাজও শুরু করে দিয়েছেন। তার সঙ্গে শপথ নিয়েছেন ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। নির্বাচনে অংশ না নিয়ে মন্ত্রী হয়েছেন খলিলুর রহমান। খলিলুর রহমানকে নিয়ে বাংলাদেোশের রাজনৈতিক মহলে কম বিতর্ক হয়নি। অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমরী খসরুর মাহমুদ চৈধুরীকে বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রাণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনীতিবিদরা বলছেন, আমীরের সহ্গে ভারতের সম্পর্ক অত্যন্থ ভালো। ২০১৮ সালে তিনি ৩ সদস্যের প্রতিনিধি নিয়ে ভারত সপর করেছিলেন। এছাড়াও তিনি কয়েকদিন পর পর ভারতে যান সফরে। কিন্তু সেমিনারে যোগ দেন আমীর খসরু। একটি ছবি কিছুদিন আগে ভাইরাল হয়। ভাইরাল ছবিতে দেখা যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে তিনি দেখা করেছিলেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভারতের সঙ্গে যাতে বিএনপির সম্পর্ক ভালো হয় সেই দায়িত্ব নিয়েছেন আমীর। ইউনূসের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক ভারতের থাকলেও তারেকের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অনেক ভালো। শপথ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তিনি গিয়েছিলেন। সেই ছবি আমরা প্রত্যেকেই দেখেছি। প্রধানমন্ত্রী তিনি তারেককে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তারপরই বিএনপির তরফ থেকে বলা হয় তারা ভারতের সহ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলবে। কারণ তারেকের দেশে ফেরার ক্ষেত্র নয়াদিল্লির যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করেছেন আমীর যদি এই ছবি সত্যি সত্যিই সঠিক হয় তাহলে বিএনপির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক যে ভালো হবে সেকথা বলাই বাহুল্য। তারেক রহমান আর কিছুদিনের মধ্যেই তিনি যে বিদেশ সফর শুরু করবেন তার মধ্যে প্রথমেই থাকবে ভারত। এবার প্রশ্ন হচ্ছে, ভারত সফরে এসে কী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করবেন তারেক? কারণ হাসিনা তো ভারতের আশ্রয়েই রয়েছেন। আর তারেক বাংলাদেশের দায়িত্বে আসার পর আওয়ামী লীগের একের পর এক অফিস খুলে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের কর্মীরা বলছেন, তারা এই দিনগুলি দেখার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ফলে তারেক যদি ভারতে এসে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন তাহলে খুব একটা অবাক হবে না রাজনৈতিক মহল। তবে এই সংবাদ গোপন রাখা হবে সর্বসম্মুখে আসবে না ঠিক যেমন হাসিনা কোথায় আছে ভারতের সেটা কেউ জানে না। লাস্ট কিছুদিনের দিকে যদি খেয়াল করি তারেক বা হাসিনা কেউ কিন্তু কারো সম্বন্ধে কোনও বেফাস মন্তব্য করেননি। ফলে রাজনীতিতে এটা খুব প্রাসঙ্গিক একটা বিষয় হয়ে উঠেছে। তাই সেদিকে অবশ্যেই নজর থাকবে, তারেক রহমান ভারত সফরে গিয়ে হাসিনার সঙ্গে দেকা করবেন কিনা। অন্যদিকে, সালাউদ্দিন আহমেদ তিনি আবার শেখ হাসিনার প্রত্যপর্ণে দাবি জানিয়ে শোরগোল ফেলে দিয়এছিলেন। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের শাসনকালে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম হওয়ার পর টক অফ দ্য কান্ট্রি তে পরিণত হয়েছিল সালাউদ্দিন আহমেদ। ২০১৫সালের ১০ ই মার্চ নিখোঁজ হন বিএনপির এই নেতা। গোয়েন্দা পরিচয়ে তাকে তার উত্তরার বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়। নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি নিজেকে আবিষ্কার করেছিলেন ভারতের শিলংয়ে। মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘোরাফেরা করার সময় তাঁকে আটক করেছিল শিলং পুলিশ। তার নামে ঠুকে দেওয়া হয় অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা। সালাউদ্দিন আহমেদ যখন মেঘালয়ে আটক হন।তখন তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। ভারতের জেলে থাকাকালে বিএনপি তাকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য করে। সেই বছরই প্রায় ২ মাস পর সালাউদ্দিনকে পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের ৫ অগস্টের পর ১১ অগস্ট বাংলাদেশে ফেরেন সালাউদ্দিন। ২০২৪-র ১১ আগস্ট দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে বিএনপির সিনিয়র কয়েকজন নেতা, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে সালাউদ্দিনের হাতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দায়িত্ব দিয়েছেন তারক রহমান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্ব তার উপর। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, তারেক এমনি এমনি তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দায়িত্ব দেননি। কিছু ভেবেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাও আবার একেবারে নিজের মন্ত্রীসভায় দায়িত্ব দিয়েছেন তারেক। ভারতের যারা বন্ধু তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন তারেক নিজের জায়গায়। রাজনৈতিক মহল তাকিয়ে আছে কবে তারেক শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করবে সেই দিকে। পাশাপাশি, তারেকের মন্ত্রীসভায় ভারতের যারা বন্ধু তাদের জায়গা দেওয়ারী কী কারণ সেই দিকেও নজর থাকবে আমাদের।












Discussion about this post