টানা ১৮ বছর বাংলাদেশের বাইরে…কেবলমাত্র ৫০ দিনের প্রচার…আর তাতেই বাজিমাত। যে কাজ ৫ বছরেও করতে পারেন না বর্ষীয়ান নেতারা, মাত্র ২ মাসের মধ্যেই সেই কাজ করে দেখালেন বাংলাদেশের ডার্ক প্রিন্স! ঘোল খাওয়ালেন নোবেল জয়ী ইউনুস থেকে শুরু করে পাকিস্তান পন্থী জামাতিদেরও! অবসান ঘটালেন ২০২৪-এর জুলাই মাসে শুরু হওয়া গণঅভ্যুত্থানের! হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন, আমরা আজ কথা বলছি, বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানকে নিয়ে। যিনি একসময়ে টানা ১৮ মাস রাত কাটিয়েছেন জেলে, আর আজ তিনিই মাত্র কয়েক দিনে জয় করে ফেলেছেন গোটা বাংলাদেশের মন! কিন্তু, এই তারেক রহমান আসলে কে? হঠাৎ করে কীভাবে প্রবেশ করলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে? ঠিক কীভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করে হয়ে গেলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী? কীভাবেই বা তিনি কাবু করলেন জামাতি ও ইউনুসদের? জানলে অবাক হবেন বাংলাদেশের মানুষের মন জয় করার জন্য তিনি সাহায্য নিয়েছিলেন মোদী-মমতার নীতিরও! চলুন প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা আলোচনা করি। ২০২৪ সালে সারা বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয় আন্দোলন। আন্দোলনের মাত্রা বহুদুর পর্যন্ত যায় অনেকেই বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। পরিস্থিতি ক্রমশই ভয়াবহ আকার নেয়। প্রতিবাদ আর হিংসায় দেশ রীতিমতো জ্বলছে। চাপের মুখে পড়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট দেশ ছেড়ে দিয়ে চলে যান হাসিনা। এর ঠিক ৩ দিন পর অগস্ট মাসে বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব তুলে নেন নিজের কাঁধে। তারপর টানা দেড় বছর ধরে চলতে থাকে অরাজকতা। বাড়তে থাকে দিন দিন সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার, বাড়তে থাকে ধর্মীয় হিংসা এবং ভারত-বিরোধী করাযকলাপ বাড়তে থাকে। এই সময়ে সারা দেশ জুড়ে আওয়ামী লীগ কর্মীদের নিষিদ্ধ করা হয়। অন্যদিকে, শেখ হাসিনাকে শুনতে ফাঁসির সাজা। তারপর ২০২৫-র ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান। যার ফলে একপ্রকার অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। ঠিক সেইসময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ENTRY হয় তারেক রহমানের। ২০২৫ র পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারেনি। আওয়ামী লীগ অংশ নিতে না পারায় বিএনপি সামনের দিকে উঠে আসে। যার নেতৃত্ব দেন তারেক রহমান। অন্যদিকে, উঠে আসে জামাত ইসলামী, জুলাই গণঅভ্যুথানের সময় উঠে আসা নতুন দল এনসিপি। যদিও নির্বাচনের আগে জামাতের সঙ্গে জোটে অন্তর্ভুক্ত হয় NCP সহ আরও ৯ টি দল। নির্বাচনের আগে তারেক রহমান বাংলাদেশে ব্যাপক প্রচার করতে থাকে। তারপর ১৩ ফেব্রুয়ারী ভোটের ফল ঘোষণা হতেই দেখা যায় বিএনপি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশে ২৯৯ টি আসনের মধ্যে ২১২ টি আসনে জেতে বিএনপি। জামাত পায় ৭৭ টি আসন। একটি আসন পায় ইসলামী আন্দোলন এবং ১৩ টি আসনে জয়লাভ করে অন্যান্য দল। যে দল গত নির্বাচনে অংশ নেয়নি সেই দল হঠাৎ করে বাংলাদেশে রেকর্ড ভোটে জিতেছে। এর পিছনে আসলব মাস্টারমাইন্ড অন্য কেউ নন তারেক রহমান। তারেক রহমান কিন্তু নতুন কেউ নন, ১৯৭১-র মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের প্রধানম্নত্রী হন শেখ মুজিবর রহমান তখন দেশের সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পান জিয়াউর রহমান। ১৯৭৭ সালে দেশের রাষ্ট্রপতি হন জিয়াউর রহমান। ঠিক তার ৬ বছর পর। তারপরই প্রতিষ্ঠা করেন বিএনপি। জিয়াউর রহমানের স্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। জিয়াউরের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৮৪ সাল থেকে দলের চেয়ারপার্সন ছিলেন। ২০২৫ র সালের ৩০ ডিসেম্বর দেহত্যাগ করার আগে পর্যন্ত তিনিই ছিলেন বিএনপির সর্বেসর্বা। এই গোটা সময়ে তিনবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আর তিনি ছিলেন দেশের মহিলা প্রধানমন্ত্রী। জিয়াউর রহমানের বড় ছিলেন তারেক রহমান। তিনি LAW নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও মাঝপথে শুরু করেন আন্তর্জাতিক নিয়ে পড়াশোনা। কিন্তু শুরু করলে কী হবে সেই পড়াশোনাও মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। তারপর শুরু করেন ব্যবসা। ১৯৮৮ সালে নিজের রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ২০২৬-র এই জয়ের পর তাঁকে আখ্যা দেওয়া হয়েছে ডার্ক প্রিন্স নামে। এখন প্রশ্ন কেন তারেক রহমানকে বাংলাদেশের মানুষ মেনে নিল? কারণ বিএনপি জামাতে সঙ্গে হাত না মিলিয়ে বেছে নেন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজকে। যেমন, কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশ বাসীর মন জয় করেন তিনি। উগ্রমৌলবাদ ছেড়ে বেছেন নেন উন্নয়নকে। ৫ পদ্বতিতে জেতে মানুষের মন। প্রথমত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর বাণ্ডার প্রকল্পের আদলে ঘোষণা করেন ফ্যামিলি কার্ড। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, প্রতিটি পরিবারকে মাসে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চায়ে পে চর্চা শুরু করেন । সাধারণ মানুষের আরও কাছে পৌছে যান। তৃতীয়ত গুরুত্ব দেন বহু দিনের সমস্যা সমাধানের। ঘোষণা করেন জাতির আরোগ্য চতুর্থত, বিনামূল্যে মহিলাদের পড়াশোনার কথা বলেন। রেলকে উন্নত করার কথা বলেন। লাস্ট যে পয়েন্ট সেটা হন তারেক রহমান নজর দেন জেন জি দের ওপপর। তার প্রচারে ছিল মিড ডে মিল এবং রিল তৈরীর প্রতিযোগীতা। সবচেয়ে বড় বিষয় তারেক রহমান দাবি করেন স্বাধীন বিদেশ নীতির। বলেছেন, আমরা কারোর প্রক্সি করবো না। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা দেখেছিলাম তারেকের শপথ গ্রহমে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। ভারতের পক্ষ থেকে তারেককে আমন্ত্রণ জানান হয়েছে। আপনাদের কী মনে হয় তারেক রহমান কী সোনার বাংলা বানাতে পারবেন? সেই দিকে নজর থাকবে আমাদের।












Discussion about this post