বাংলা বাগধারায় একটা প্রবাদ রয়েছে, ‘মশা মারতে কামান দাগা’। বাংলাদেশজুড়ে নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ দিতে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ একাধিক কর্মসূচির ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা সদরে মিছিল, প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ প্রদর্শণ করা হবে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত। আর ১৩ নভেম্বর, যেদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী নেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটির সাজা ঘোষণার তারিখ জানানো হবে, সেদিন ঢাকা লকডাউন বা শাটডাউনের আর্জি জানিয়েছে দলটি। কোনও বনধ বা হরতাল নয়, দেশের সাধারণ মানুষের কাছে আওয়ামী লীগের আবেদন আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ঘরে থেকে অফিস, কাছারি, আদালত, স্কুল, কলেজ, বাজার বন্ধ রেখে নিরব প্রতিবাদ করুন। এটা অহিংস আন্দোলন ছাড়া আর কিছু নয়। হয়তো আওয়ামী সমর্থকরা রাস্তায় নামবেন, মিছিল বা প্রতিবাদ, বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করবেন। কিন্তু সেটাও অহিংস পথে হবে বলে জানানো হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের জুজুতে এতটাই ভীত যে তাঁরা রীতিমতো রণসজ্জায় সেজে উঠছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম নর্থইস্ট নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রায় ৯ হাজার সদস্যের বেসরকারি মিলিশিয়ার কয়েক হাজার যুবককে পুলিশের ইউনিফর্ম পরিয়ে ১০-১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের ঘোষিত বিক্ষোভ দমনে মোতায়েন করা হচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া কয়েকদিন আগেই জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের তরুণদের জুডো, ক্যারাটে ও অস্ত্রচালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তাঁদেরই এবার আওয়ামী লীগ দমনে কাজে লাগানোর গোপন পরিকল্পনা নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। নর্থইস্ট নিউজের দাবি, তাঁদের হাতে বাংলাদেশ পুলিশের গোপনীয় ৯ পৃষ্ঠার “স্পেশাল সিকিউরিটি প্ল্যান” নামক গোপন নথি রয়েছে। ওই নথি অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, পুলিশের ইউনিফর্মে ‘অক্সিলারি ফোর্স’নথি অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীর ৯টি সেক্টরে মোট ৬,৮২৯ জন ‘পুলিশ’ কর্মী মোতায়েন করা হবে। এই দলগুলির মধ্যেই শত শত যুবককে রাখা হচ্ছে যারা আসিফ মাহমুদের নির্দেশে গঠিত, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অক্সিলারি ফোর্সের সদস্য।
যদিও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে থাকা প্রেস উইং এই খবরটি মিথ্যা ও ভুয়ো বলে দাবি করেছে। ফ্যাক্ট চেকিং করে বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, ঢাকায় প্রাইভেট মিলিশিয়া বাহিনী মোতায়েনের দাবি সত্য নয়। গত শনিবার. অর্থাৎ ৮ নভেম্বর রাজধানী ঢাকার ১৪২টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় একযোগে ‘বড় মহড়া’ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। সেখানে কোনও বেসরকারি মিলিশিয়া ছিল না। তাঁদের আরও দাবি, প্রায় ৯ হাজার তরুণ-তরুণীকে আত্মরক্ষার নানা কৌশল এবং আগ্নেয়াস্ত্র বিষয়ে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কর্মসূচি অন্তর্বর্তী সরকার হাতে নিলেও প্রশিক্ষণ এখনো শুরু হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম এখনও স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ করতে পারছে না। তাঁদের যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, তাঁরা সেভাবেই প্রচার করছে। আর বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং তো গোটা বিশ্বের যে কোনও সংবাদ, যা মুহাম্মদ ইউনুস এবং তাঁর সরকার বিরোধী হলেই তাঁকে ভুয়ো বলে দেগে দিচ্ছে।
এখন আসা যাক আসল প্রসঙ্গে। আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে এই প্রথম বড়সড় রাজনৈতিক ঝড়ের মুখোমুখি হতে চলেছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ও তাদের সমর্থক জামায়াতে ইসলামি, এনসিপি এবং বিএনপি। বিগত ১৫ মাসে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলার যে হারে অবনতি হয়েছে তাতে নতুন করে আর অবনতি হওয়ার জায়গা নেই বলেই মত অধিকাংশ বাংলাদেশির। সোমবার সকাল থেকে ঢাকার একাধিক জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছে। সোমবার ঢাকার মিরপুরে ইউনূসের বাড়ি ও গ্রামীণ ব্যাঙ্কের প্রধান দপ্তর এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের প্রতিষ্ঠান ‘প্রবর্তনা’-র সামনে বিস্ফোরণ হয়েছে। প্রায় একই সময়ে ধানমন্ডি-সহ আরও কয়েক জায়গায় অন্তত ৮টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে খবর। যদিও এই সমস্ত ঘটনায় কেউ আহত হননি, তবে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সোমবার থেকে রাজধানী ঢাকা-সহ সারাদেশে বাড়ানো হচ্ছে পুলিশের টহল, চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি। পাশাপাশি সেনাবাহিনীকেও মাঠে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। কিন্তু তার পরেও বেশ কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর মিলছে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ একা নয়, সাধারণ মানুষও তাঁদের পাশে রয়েছে। আর এটাই মূল মাথাব্যাথার কারণ মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ও তাঁর দোসরদের।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post