আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা যে ইউনূসের কাল হল, সেটা এখন তিনি ভালোই টের পাচ্ছেন। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ভিত এমনিতেই মজবুত। রয়েছেন কয়েক লক্ষ সমর্থক। আওয়ামী লীগ মানে যে একটা আবেগ, সেটা ইউনূস এখন শেষ বেলায় এসে বুঝতে পেরেছেন। হাসিনা বর্তমানে রয়েছেন ভারতে। তিনি এর আগও সেখান থেকে দলের নেতাকর্মীদের জন্য ভিডিও বার্তা দেন। সেটা দেখে ভীষণ চটে যান ইউনূস। জাতিসঙ্ঘে সাধারণ সভার অধিবেশেন যোগ দেওয়ার এক ফাঁকে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। নমোর সঙ্গে বৈঠেক স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে হাসিনা প্রসঙ্গ। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, মোদিকে তদারকি সরকার বলেন, দিল্লি থেকে সামাজিক মাধ্যমে হাসিনার এই সব ভাষণ যাতে বন্ধ করা যায়, তার একটা ব্যবস্থা করতে। মোদি তাঁকে সাফ জানিয়ে দেন, সেটা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। কারণ, ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। সে দেশে সকলের বাক স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে। এই ইউনূস তখনই বুঝে যান, শেষের সে দিন ঘনিয়ে এসেছে।
সম্প্রতি শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয় তিন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। তার আগে অবশ্য তাঁর পুত্র জয়ের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছিল। নির্বাচন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, ‘ আর আওয়ামী লীগের ওপর থেকে তুলে নিতে হবে নিষেধাজ্ঞা। নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অন্তর্ভুক্তি জরুরী। নির্বাচন হতে হবে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু।’ তাঁদের দলের সঙ্গে সরকার যা করছে, সেটা তিনি প্রতিহিংসা পরায়ন রাজনীতি বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি এও জানিয়ে দেন নিষেধ এমন একটি সময়ে তুলে নিতে হবে, যাতে তাঁরা ভোটের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন।
অপর দিকে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে হাসিনার একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এটি শুধু অবিচার নয়, এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। পরবর্তী সরকারের বৈধতা আসবে নির্বাচনের মধ্য দিয়েই। কোটি মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে। তারা ভোট দেবে না। যদি কার্যকর রাজনৈতিক ব্যবস্থা চান, তাহলে এত মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না। ’
এর আগেও হাসিনাকে মুখ খুলতে দেখা গিয়েছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এক সঙ্গে এতজন প্রাক্তন এবং কর্মরত সেনাসদস্যদের বিচারের আওতায় আনার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন। বঙ্গবন্ধু কন্যাকে বলতে শোনা যায়, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর এত হেনস্তা দেখার পরেও সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ – জামান চুপ করে রয়েছেন। যে কোনও সময় সেনাপ্রধান ওয়াকার বাহিনীর টার্গেট হয়ে উঠবেন। এবার বাংলাদেশের আসন্ন ভোট নিয়ে তিনি মুখ খুললেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তিনি দলের সব নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে। কাজেই আওয়ামী লীগ ধ্বংস হওয়ার নয়। হামলা, মামলা, হত্যাকাণ্ড করায় সাময়িক একটা আঘাত এসেছে। এখন সময় এসেছে জনগণকে রুখে দাঁড়াবার। জনগণকে সচেতন হয়ে নামতে হবে। সব থেকে বড় কথা জনগণের পাশে যেতে হবে। যে যেখানে আছেন, সেখান থেকেই তারা জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সবাই জনগণকে সঙ্গে নেবেন। জনগণের শক্তি আসল শক্তি। ’
TC 1.12- 1.52
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post