আমরা ইতিমধ্যে জেনে গিয়েছি বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অপরাধ দমন আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি) মামলা দায়ের হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে নানা ধরনের মানবতা বিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার। সেই মামলার সাজা কী হবে, সেটা জানা যাবে আগামী ১৩ নভেম্বর। এদিকে, আওয়ামী লীগের অন্যতম শীর্ষনেতা জাহাঙ্গির কবীর নানক জানিয়েছেন, ওই দিন দেশজুড়ে পালিত হবে লকডাউন। লকডাউন বলতে কী বোঝায় তা আমরা সকলেই জানি। করোনাকালে ভারত সহ বিশ্ব সাক্ষী ছিল এই লক ডাউনের। এক আশ্চর্য নিস্তব্ধতা। এককথায় অচল হয়ে যাওয়া বা হয়ে পড়া। প্রায় সেই ধরনের কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছেন আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রবীণ নেতা। প্রশ্ন হল, তাঁর এই আগাম ঘোষণায় দলের বিপদ বাড়ল না তো।
প্রশ্ন তোলার কারণ রয়েছে। হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পুলিশের নিশানা হয়ে উঠেছে। তাদের গ্রেপ্তার করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন জেলে। প্রশাসনের এই অতিসক্রিয়তায় অসন্তুষ্ট জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকা কমিশন। কমিশন থেকে ইউনূস সরকারকে একটি কড়া চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের যে সব নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ দিতে হবে। প্রমাণ দিতে না পারলে তাদের জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে। চিঠিতে বলা হয়েছে আসন্ন নির্বাচন নিয়েও। নির্বাচন যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, তার জন্য তদারকি সরকারকে পদক্ষেপ করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ। তদারকি সরকার জানে, আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেবে না আন্তর্জাতিকমহল। এই অবস্থায় দলের অন্যতম প্রবীণ নেতা জাহাঙ্গির কবীর নানক ঘোষণা করলেন লকডাউনের। তার এই ঘোষণায় পুলিশ আরও সক্রিয় হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তার একটা আভাস পাওয়া গিয়েছে।
‘নিষিদ্ধ’ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জেসমিন আরা রুমাকে ময়মনসিংহ থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুলিশের তরফ থেকে এই গ্রেফতারি নিয়ে যে বয়ান দেওয়া হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, গত ৩ নভেম্বর সোমবার রাত ১২টা নাগাদ রুমাকে মালগুদাম এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বছর ২৭-য়ের রুমা ওই এলাকার অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মচারী আবু তাহেলের মেয়ে। স্বামী সুলতান মাহমুদ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। ওসি শিবিরুল ইসলাম এই গ্রেফতারির খবর দিতে গিয়ে বলেন, রুমা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি। তাঁর বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা আন্দোলনের সময় মিছিলে হামলার অভিযোগ রয়েছে। এই গ্রেফতারের আগে ছাত্রলীগের আরও এক সভাপতি বারিকুল ইসলাম বাধনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এই উত্তপ্ত আবহে আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রবীণ নেতা জাহাঙ্গির কবীর নানক জানিয়ে দিলেন ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচি। দলের বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে সে দেশের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ আগামী ১০ নভেম্বর থেকে তারা তাদের নির্ধারিত কর্মসূচি পালন করবে। আর ১৩ নভেম্বর হবে জাঠা। অনেকে বলছেন, জাহাঙ্গির কবীর নানক তো ভারতে রয়েছেন। সেখানে তাঁর অসুবিধে হওয়ার কথা নয়। কিন্তু তাঁর দলের যারা বাংলাদেশে রয়েছে, তারা তো রয়েছেন অনিরাপদ পরিস্থিতিতে। তাঁর এই ঘোষণায় তাদের বিপদ আরও বাড়ল না তো? পুলিশ এবার দমন-পীড়ন নীতি নেবে না তো?
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post