হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ইউনূসের ওপর প্রবল চাপ। প্রবল চাপ আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের। সেই চাপ আরও বাড়িয়েছে জুলাই সনদ। এই সনদ নিয়ে প্রথম থেকে বেশ কয়েকটি দল তাদের আপত্তির কথা জানিয়ে দেয়। তদারকি সরকার চাইছে জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়িত করতে। সম্প্রতি জুলাই সনদ নিয়ে সর্বদল বৈঠক ডাকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সেখানেও মেটেনি মতপার্থক্য। সরকারের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাজনৈতিকদলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে যাবতীয় বিভেদ মিটিয়ে নিতে হবে। সরকারের তরফে আর কোনও আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে না। এর জন্য তদারকি সরকার থেকে তাদের এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।
এই ডামাডোলের আবহে বিএনপি তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকায় দেখা গিয়েছে, দলনেত্রী খালেদা জিয়া লড়বেন তিনটি আসনে। আর পুত্র তারেক রহমান লড়বেন একটি আসনে। সোমবার বিএনপি তাদের প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকায় দেখা যাচ্ছে খালেদা জিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ফেনী ১, বগুড়া ৭ দিনাজপুর ৩ আসন থেকে। পুত্র তারেককে দল প্রার্থী করেছে বগুড়া – ৬ আসন থেকে। সোমবার বিকেলে ঢাকার গুলশনে বিএনপির চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করা হয়। প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রার্থীতালিকা প্রকাশের আগে বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ দল জরুরী বৈঠকে বসে। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দেন তারেক রহমান। কিছুদিন আগে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাকে এই সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের জবাবে তারেক বলেছিলেন ‘প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সিদ্ধান্ত দল ও জনগণের। ’তারেক রহমানকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে কি না। জবাবে খালেদা পুত্র বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত আমার নয়। এই সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশের জনগণ। ’ এই অবস্থায় তারেকের সঙ্গে দেখা করতে লন্ডন রওনা দিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। বিএনপি সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেকের ডাকেই সালাহউদ্দিন আহমেদ লন্ডন গিয়েছেন। তবে কী কারণে তাঁকে তারেক ডেকে পাঠিয়েছেন, তা এই খবর লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।
এর আগে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ডাকে গত ২০ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্য যান সালাহউদ্দিন আহমদ। লন্ডনে বড় মেয়ের বাসায় ছিলেন তিনি। সফরকালে বিএনপির আগামী দিনের রাজনীতি, আগামী জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও যুক্তরাজ্য বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।
সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যম থেকে দাবি করা হয়েছে, বিএনপিকে নাস্তানাবুদ করতে মাঠে নেমেছে সরকারের একটি অংশ। তাদের পাশে রয়েছে জামায়াত এবং এনসিপি। বিএনপি’র সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত। এদিকে, আবার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও গণভোট আয়োজন নিয়ে মতপার্থক্য নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে আলোচনা চায় আট ধর্মভিত্তিক দল। সেই আলোচনায় তারা ইউনূসকে আবার রেফারির ভূমিকায় দেখতে চায়। সোমবার বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কার্যালয়ে আট দলের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমে তিনি এই আহ্বান জানান।
তাহের বলেন, ‘আমরা যে ঐকমত্যে পৌঁছেছিলাম, তাতে একটি দল হঠাৎ বিরোধিতা করেছে। আমরা আশা করি, তারা তাদের দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করবে। ’












Discussion about this post