সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের পর্দা ফাঁস করে দিলেন সে দেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। হাসিনাকে সরাতে যত কান্ড করেছেন জেনারেল ওয়াকার। শুধু তাই নয় মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র নির্দেশেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনাকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। আর তাতে সরাসরি সামিল ছিল জেনারেল ওয়াকার। শুধু সামিল নয় তিনি ছিলেন মূল মাথা। হাসিনা জমানায় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতা আসাদুজ্জামান খান কামাল একটি বইয়ে এমনই দাবি করেছেন।এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে সাংবাদিক সহিদুল হাসান খোকন, দীপ হালদার এবং জয়দীপ মজুমদারের লেখা ‘ইনশাআল্লা বাংলাদেশ: দ্য স্টোরি অব অ্যান আনফিনিশড রেভলিউশন’ শীর্ষক বইটি প্রকাশিত হয়নি। তাতেও রন্ধে রন্ধে রয়েছে সেনাপ্রধানের যত কুকাণ্ডের কথা,তবে জাগারনট পাবলিশার্সের প্রেসে প্রকাশিত বইয়ের অংশ বিশেষ ইতিমধ্যেই ফাঁস হয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। তাতে রয়েছে কামালের সাক্ষাৎ। সেখানে তিনি বলেছেন, ”হাসিনার আত্মীয় ওয়াকার আদতে সিআইএ-র চর। তিনিই হাসিনার পিঠে ছুরি মেরেছিলেন।”আত্মীয় সমূহ ওয়াকারদের খুবই বিশ্বাস করতেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর সেই বিশ্বাসের ভরসাতের গোপনে হাসিনা উৎখাতের কুকাণ্ড চালিয়ে গেছেন জেনারেল ওয়াকার।
প্রসঙ্গত ২০২৪ সালের ২৩ জুন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান পদে ওয়াকারকে নিযুক্ত করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হাসিনাই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে তৈরি হওয়া হিংসাত্মক গণবিক্ষোভের জেরে গত বছরের ৫ অগস্ট প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন হাসিনা। লোকসমাজের চোখে হাসিনাকে পালাতে সাহায্য করেছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার কিন্তু তার ভিতরে রহস্য হয়তো শেখ হাসিনারও অজানা ছিল।সে সময় সে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, জেনারেল ওয়াকারই দ্রুত ইস্তফা দিতে চাপ দিয়েছিলেন হাসিনাকে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এর পরে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার একাধিক সামরিক-অসামরিক আধিকারিকের উপর পদক্ষেপ করলেও সেই তালিকায় জেনারেল ওয়াকার এর নাম না থাকায় রহস্যের গন্ধ পাচ্ছে বাংলাদেশ। কবে এটাও বলা ভালো ইউনুসের তালিকায় সেনাপ্রধানের নাম না থাকাটা দুইয়ে দুইয়ে চার অংকটা মিলেই যাচ্ছে খুব স্বাভাবিক ভাবেই।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অনুযায়ী, বইয়ের লেখকদের আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘সিআইএ দীর্ঘ সময় ধরে করা পরিকল্পনা করেছিল হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার। আমরা জানতাম না যে সিআইএ-র পকেটে ওয়াকার-ও রয়েছেন। এবং তিনি যে মূল ভূমিকায় পালন করেছেন তা সবারই অজানা ছিল। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা বাহিনী ডিজিএফআই, বাংলাদেশ গোয়েন্দা বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল ও বাংলাদেশের প্রিন্সিপাল সিভিলিয়ান ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি, জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগ কেউই প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করেননি যে ওয়াকার তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাকতা করবেন। আসলে হয়তো তা কারোর বোধগমবই ছিল না কারণ মাথায় রাখতে হবে জেনারেল ওয়াকার ছিল হাসিনার আত্মীয় শুধু আত্মীয়ই নয় নিকট আত্মীয়। এবং সেই ওয়াকারকেই হাসিনা সেনাপ্রধানের আসনে বসিয়েছিলেন, কিন্তু সেই হাসিনাকে যে গোপনে ওয়াকার ছুরি মারবে তা কেউ কল্পনাই করতে পারেনি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন হঠাৎ আমেরিকা গুপ্তচর বাহিনী বাংলাদেশে পালাবদল ঘটাতে সক্রিয় হল? এই প্রশ্নের উত্তরে আসাদুজ্জামানের দাবি, ”মূলত দু’টি কারণে— প্রথমত, দক্ষিণ এশিয়ায় যাতে একাধিক শক্তিশালী রাষ্ট্রনেতা না থাকেন। মোদী, শি জিনপিং, হাসিনার মতো শক্তিধর নেতারা থাকলে সিআইএ কী ভাবে কাজ করবে? মাথায় রাখতে হবে হাসিনা ছিল বাংলাদেশের শক্তিশালী প্রধানমন্ত্রী শুধু বাংলাদেশ নয় বিদেশের মাটিতেও হাসিনার ক্ষমতা সবায়ের জানা সেই জায়গায় কোন দুর্বল সরকার বাংলাদেশের হলেই আমেরিকার স্বার্থপূরণে সুবিধা হয়। দ্বিতীয়ত, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ হাতে পাওয়ার জন্য।’ প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মায়ানমার থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরের এই দ্বীপ তার ভৌগোলিক অবস্থানের জন্যই বিশেষ ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। যা বরাবরের আমেরিকার নজরে ছিল সেই দ্বীপ টি যে ভাবে চিন ভারত মহাসাগরে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে, তাতে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ আমেরিকার অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে হাসিনা অভিযোগ করেছিলেন, ওয়াশিংটনের তরফে তাঁকে বার্তা দেওয়া হয়েছিল, যদি সেন্ট মার্টিন দ্বীপ আমেরিকার হাতে তুলে দেন, তা হলে ঢাকায় ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। কিন্তু দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সেই প্রস্তাবে তিনি রাজি হননি। প্রকাশিত বইটি যে বাংলাদেশে সেনাপ্রধানের মুখোশ খুলে দিয়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post