বাংলাদেশের অন্দরে এখনও কান পাতলে শোনা যায়, শেখ মুজিবর রহমানের রক্ষী বাহিনীর সমালোচনা। এদিকে আওয়ামী লীগকে ঘায়েল করতে যে অস্ত্র ব্যবহার করেছিল, সেটা হল রক্ষী বাহিনী। কিন্তু স্বাধীনতার প্রায় ৫৫ বছর পরে আবারও সেই রক্ষী বাহিনীর দেখা মিলতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের প্রায় নয় হাজার তরুণ তরুণীকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যেটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু তার আগে প্রজেক্ট করে নিজেদের নির্বাচনী এলাকা কভার করা যায় এমন সংখ্যার কিছু মানুষকে অর্থাৎ ৯ হাজার জনকে তৈরি করে এই প্রশিক্ষণ দেওয়ার অর্থ দেশের লক্ষী বাহিনী তৈরি করা। এমনকি বলা হচ্ছে, ৯ হাজার এই সংখ্যাটি ৩০০ আসনের সঙ্গে ভালো যায়। প্রতি আসনে ৩০ জন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নিজেদের লোক রাখা সম্ভব হবে এতে। যারা পুলিশ এবং দলীয় কর্মীদের থেকে বেশি ক্ষমতা বহন করবে। তবে কি কোনওভাবে গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ?
আসলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেটি হল, বাংলাদেশের প্রায় নয় হাজার তরুন তরুণীকে আত্মরক্ষা নানা কলা কৌশল এবং অবিনাস্ত্র বিষয়ে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার এক নজিরবিহীন কর্মসূচি। গত ২১ অক্টোবর এমনই খবর সামনে আসে। এরমধ্যে প্রশ্ন ওঠে, হঠাৎ নির্বাচনের ৩ মাস আগে এমন প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হল কেন? গণমাধ্যমে এমনও বলা হচ্ছে, দেশে ক্রিয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রে ৮ হাজার ৫০ জন তরুণ এবং ৬০০ তরুণীকে ১৫ দিনের আবাসিক প্রশিক্ষণের সুযোগ দিচ্ছে যুব ও ক্রিয়া মন্ত্রনালয়। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী বাংলাদেশের নাগরিকরা এই প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবে। নানা রকম আত্মরক্ষা করার জন্য এবং শুটিং শেখানো হবে। তবে এগুলি সবই মৌলিক বিষয়। এই শুটিং মূলত এয়ারগান দিয়ে হবে। যা বৈধ। এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম মূলত যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পরিকল্পনা। জানা যায়, গত বছরে সেপ্টেম্বর মাসে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। পরিকল্পনার বাজেট ধরা হয়েছে ২৮ কোটি টাকা। এই প্রকল্প সূচনা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিতর্কের দানা বাঁধে আগ্নেয়াস্ত্র শব্দটি ব্যবহারে। এরপর সেটি পাল্টে শুটিং করা হয়। বলা হয়, দেশে সংকট তৈরি হলে প্রত্যেকে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারবে। এবং আত্মরক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণকে সুরক্ষা দিতেও সাহায্য করবে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে পারে বলে বলা হচ্ছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এমন সিদ্ধান্ত অনেককে নানা প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছে। তবে কি কোনওভাবে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ কিছুর আঁচ পাচ্ছেন? কেউ কেউ বলছেন, তরুণদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়াতে যেমন অনেক দিক থেকে সুবিধা, তেমন চিন্তারও রয়েছে। কারণ প্রত্যেকেই শক্তিশালী মনে করলে দেশে গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেটা হয়ে থাকলে, তখন কিভাবে সামাল দেবে সরকার? কেউ কেউ বলছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে যতবার পালা বদল ঘটেছে, ততবার দেশের রক্ষীবাহিনীর কথা সামনে এসেছে। তাতে এক্ষেত্রেও কি তেমন কোনও বিষয় সামনে আসতে শুরু করছে? কারণ এই নিয়ে নানাভাবে আলোচনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। আসলে কোন দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ, সেটাই দেখার।












Discussion about this post