বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পরপর দুটি ঘটনা ঘটেছে। কিছুদিন আগে দেখা গিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। তার কিছুদিন পর দেখা গেল, গুদাম থেকে গোলা-বারুদ চুরির ঘটনা। তা ঘিরে অনেকগুলি প্রশ্ন ওঠে। বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিতর্কও তৈরি হয়। এইবার যে ঘটনা সামনে এল, তাতে জানা যাচ্ছে, ঢাকা বিমানবন্দরে একটি বিদেশী বিমান প্রায় আট ঘন্টা অস্বাভাবিকভাবে অবস্থান করেছে। এবং সেখান থেকে কি পরিমাণে পণ্য খালাস হয়েছে, তাতে সন্দেহ করা হচ্ছে। সর্বমোট প্রায় ১২ ঘন্টা ওই বিমানের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড চলে বলে খবর। আর এই খবর প্রথম প্রকাশ করে ভারতীয় গণমাধ্যম। সন্দেহ করা হয়, কোনওভাবে এরসঙ্গে মার্কিন সাম্রাজ্যের কোনও সংযোগ রয়েছে কিনা!
ভারতীয় গণমাধ্যম খবর করেছে, ৩রা নভেম্বর ঢাকা বিমানবন্দরে ANTONOV-124 বিমানটি পণ্য খালাস করেছিল। ওই বিমানটি প্রায় ১২ ঘন্টা অবস্থান করে বলে জানায় তারা। এর আগে আজারবাইজানের বাঁকু থেকে উড়ে পাকিস্তানের আকাশসীমা এড়িয়ে পারস্য উপসাগরের উপর দিয়ে উড়ে যায়। চার ইঞ্জিন বিশিষ্ট এই বিমানটি অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পরে রাত ৮ টা ৫ মিনিটে চলে যায়। বিমানের গন্তব্য ছিল হংকং। এই বিমানটি বেসামরিক বিমান। আন্তর্জাতিক পণ্য আদান প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়। বিমানের অস্বাভাবিক দিকটি ছিল, একই দিনের শুরুতে আজারবাইজানের বাঁকুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ভারতীয় সময় অনুযায়ী সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে উড়ে যায়। এরপর বিমানটি দক্ষিণ দিকে ইরাক ও ইরানের উপর দিয়ে উড়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। যেখানে বাহারানে মার্কিন সামরিক বাহিনী পর্যাপ্ত নৌ সম্পদ রয়েছে।
মার্কিন নৌ বাহিনীর পঞ্চম নৌ বহর পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর এবং আরব সাগরে কাজ করে। এটা বাহারিয়ানে অবস্থিত এবং এর একটি কনফিগারেশন রয়েছে, যার মধ্যে একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি দুবাইয়ের উপর দিয়ে উড়েছিল, মাসকাট পেরিয়েছিল এবং আরব সাগর পেরিয়েছিল বলে খবর। সেটি করাচির গুজরাট উপকূল পেরোনোর আগে। এরপর দক্ষিণ দিকে ঘুরে ছত্তিশগড়, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপর দিয়ে উড়ে যায়। ৩রা নভেম্বর বিকেলে ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
বিমানে কি কি পণ্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং কোন অজ্ঞাত তার চালানটি গ্রহণ করেছিল, সেই নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। ঢাকা বিমান বন্দরে রানওয়েতে অবতরণের কিছুক্ষণ আগে বিমানটি বন্দর দিকটি ধারণ করার কোনও ভিডিও ফিস করার সময় এর নিবন্ধন নম্বর UR-82027 ভেসে ওঠে। এর ফলে ফ্লাইট নম্বর ADB 341F দেখা যায়। এটি একটি অসামরিক বিমান বলে জানা যায়। এটি প্রায় ৩৫ বছরের পুরোনো। যদিও ২০২৫ সালের এপ্রিলে এটি পোল্যান্ডের রেসিজ জো তে এটি আমেরিকান লজেস্টিক হাবে মার্কিন এফ 16 যুদ্ধবিমানের ভেরিয়েন্টের একটি ফিয়ুস লেস প্রেরণ করেছিল। এমনকি ইউক্রেনে সামরিক সাহায্য পাঠানোর জন্য রেসেজোকে একটি কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি দেশের উপর দিয়ে ঘটে চলা কোনও কর্মকাণ্ড যখন প্রতিবেশী দেশ নজর রাখে, তাতে সন্দেহ তো বাড়েই। তবে কি এমন কোনও কর্মকাণ্ডে জড়াতে চলেছে বাংলাদেশ? যদিও তার উত্তর পাওয়া যাবে আগামী দিনেই।












Discussion about this post