ক্রমেই বাংলাদেশ কি হিন্দু বিরোধী রাষ্ট্র হতে চলেছে? ইউনূসের মতিগতি কিন্তু সেই দিকেই এগোচ্ছে। বাংলাদেশের লাগাতার সনাতনী হিন্দুদের উপর হামলা হিন্দুদের পুজো ভন্ডল করা এমনকি নতুন সংযোজন হিন্দুদের অনুষ্ঠান পার্বণেও নিষেধাজ্ঞা ইউনূসের।শীত মানেই পৌষ সংক্রান্তি,পিঠেপুলি,খেজুর গুড়ের গন্ধে ভরে ওঠার একটা ঋতু । বহুল জনপ্রিয় উৎসব বাঙালি হিন্দু সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে এই উৎসবকে কেন্দ্র করে । কিন্তু এই জনপ্রিয় পিঠেপুলির উৎসবটি ইউনূসের বাহিনীর কাছে হারামের উৎসব!যেকারণে বাংলাদেশের কিছু এলাকায় পৌষ সংক্রান্তির মতো লোকউৎসব পালন না করার আহ্বান জানাচ্ছে বাংলাদেশে অবস্থিত ইসলামপন্থীরা।
সাম্প্রতিক সময়ে দাঁড়িয়ে মসজিদকেন্দ্রিক বক্তৃতা, লিফলেট এবং সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে কিছু এলাকায় বলা হচ্ছে যে পৌষ সংক্রান্তি ইসলামসম্মত নয়। এই উৎসব পালনে ধর্মীয় বিধি লঙ্ঘন হয়। তবে কি সে দেশে সনাতনী হিন্দুরা তাদের ধর্মের উৎসব পালন করতে পারবে না? এ কোন বাংলাদেশ যেখানে সনাতনী হিন্দুরা তাদের উৎসব করতে বাধা প্রাপ্ত হচ্ছে।যদিও এই আহ্বান শাসক মহম্মদ ইউনূসের সরকারি কোনও দপ্তরের ঘোষণা না হলেও যারা এই প্রচার করছে তাদের তো বাধা দিচ্ছেন না তাহলে বুঝে নিতেই হয় এর পিছনে ইউনূসের পিছন থেকে হাত রয়েছে।পিঠেপুলি আর খেজুর গুড় খেতে গিয়ে জিহাদিদের হামলার মুখে পড়তে হবে কিনা এনিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছে এলাকার সনাতনী হিন্দু বাসিন্দারা ।
গ্রাম বাংলায় পৌষ সংক্রান্তি মূলত একটি কৃষিজ উৎসব। ধান কাটা শেষে নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দে পরিবার ও প্রতিবেশীরা একত্র হন এবং পিঠে উৎসব, নবান্নের আয়োজন, লোকগান এবং মেলাকে ঘিরেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়ে উঠেছে এই উৎসবের রীতি। ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে এই লোকাচার বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে বলে মত সংস্কৃতিবিদদের। আজ ইউনুসের রাজত্বে বাংলাদেশ সনাতনী হিন্দুরা তাদের সেই জনপ্রিয় উৎসব পালন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ছে। জনসমক্ষে প্রচার করা হচ্ছে বাংলাদেশে এই পিঠে পুলির উৎসব অর্থাৎ পৌষ পার্বণের উৎসব নিষিদ্ধ কেউ যেন এই উৎসব পালন না করে।
খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করার কাজে মূলত মুসলিমরাই যুক্ত । সারা বছরের রোজকার এই সময়েই করে তারা ।এখন যদি এই উৎসব ইসলামপন্থী ও কুচক্রিকারী ইউনূসের কোপের মুখে পড়ে বন্ধ হয় তাহলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে উৎসব পালনকারী এবং ব্যবসায়ীদের রুজি রুটিতে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডঃ মাহবুব আলমের বক্তব্য, ‘লোকউৎসব কোনও ধর্মীয় আচারের বিকল্প নয়। এগুলি সামাজিক বন্ধনকে শক্ত করে। যখন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এই ধরনের উৎসবকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানায়, তখন তা আসলে সমাজের বহুত্ববাদী চরিত্রকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।’
বাংলাদেশের আপামর হিন্দু জনগনও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাঁদের মতে, কোনও উৎসব পালনে বাধা দেওয়ার আহ্বান পরোক্ষভাবে মানুষের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। ভয় ও দ্বিধা তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। অনেক জায়গায় প্রকাশ্যে পিঠে উৎসব বা মেলা আয়োজন করতে অনেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ইসলামি চিন্তাবিদদের একটি অংশ এই আহ্বানের সঙ্গে একমত নন। তাঁদের মতে, ইসলাম মানুষের সংস্কৃতি ও সামাজিক আনন্দকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে না। ধর্মের নামে লোকজ সংস্কৃতিকে এককাঠি করা হলে তা ভুল ব্যাখ্যা হয়ে দাঁড়ায়। তাহলে সবই যদি ঠিক থাকে কেন একদল ইসলামপন্থী কার আশ্রয় থেকে এইভাবে বাংলাদেশে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে?বাংলাদেশের ইতিহাস বলছে, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে লোকসংস্কৃতির বিকাশ, সব ক্ষেত্রেই সাংস্কৃতিক পরিচয় দেশের আত্মপরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেই ঐতিহ্যকে খাটো করার চেষ্টা হলে তা কেবল একটি উৎসব নয়, গোটা সমাজের মননকেই সংকুচিত করে। পৌষ সংক্রান্তির বিতর্ক তাই নিছক একটি দিনের উৎসব ঘিরে নয়। এটি প্রশ্ন তুলছে বাংলাদেশ কোন পথে হাঁটতে চায়। বহুত্ববাদী সংস্কৃতির পথে, না কি সংকীর্ণ ব্যাখ্যার বেড়াজালে আবদ্ধ এক সমাজের দিকে। এই প্রশ্নের উত্তরই হয়তো আগামী দিনে দেশের সামাজিক সুর নির্ধারণ করবে। তবে কট্টর ইসলামের উত্থান বাংলাদেশকে যে তাদের আগের অবস্থান পূর্ব পাকিস্তানেই ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সে কথা বলাই বাহুল্য।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post