এতদিন যাবৎ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক মানে অনেকে মনে করতেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের ইউটার্ন লক্ষ্য করা গিয়েছে। যদিও বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা থেকে ভারত সহযোগিতার হাত বাড়াতে চেয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই সাহায্য নেয়নি। পরে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ছুটে গিয়েছেন পদ্মাপাড়ে। এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চিঠি তারেককে হস্তান্তর করেছেন। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভারত বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে সেটা স্পষ্ট হয়েছে। এরমধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভর্মার সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হয় প্রায় ৪০ মিনিট। সেই বৈঠক থেকে যে বার্তা বেরিয়ে এল তাতে এখন পরিষ্কার করে দিচ্ছে যে ভারত, বিএনপির উপর আস্থা রাখছে এবং ভারত চাইছে নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসুক তারেক রহমাননের নেতৃত্বে। তবে কি নরেন্দ্র মোদির সবুজ বার্তার পর বাংলাদেশে পরিবর্তন আসতে চলেছে?
বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় বর্মার বৈঠককে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা চলছে। একটি তথ্য বেরিয়ে এসেছে। যেখানে থেকে অনেকই মনে করছেন, ভারত মনে প্রাণে চাইছে আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশে সরকার গঠন করুক বিএনপি। যার নেতৃত্বে থাকবেন তারেক রহমান। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মিত হবে। এমনই বার্তা ভারতের। সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান হিংসার মধ্যেই বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রনয় ভার্মা বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে বিএনপি কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার একদিন পর এই সাক্ষাৎকার হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের মুখপাত্র সাইরুল কবির খান জানিয়েছেন, দুজনের মধ্যে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে বৈঠক চলে। এর আগে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দিতে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী।
২০২৬ সালের ১০ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ রাজনীতিতে একটা ঐতিহাসিক মোড় নিতে পারে। বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ভারতের সঙ্গে বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে কোনও আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বিএনপির এই নেতা বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী বিএনপির নবনির্মিত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি প্রত্যাশা নিয়ে জানিয়েছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মীত হবে। প্রণয় ভর্মাও স্বাগত জানিয়েছেন। স্থিতিশীলতার জন্য দুই দেশ কিভাবে এগিয়ে যেতে পারে সেই বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এদিকে কিছুদিন আগে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বললেন, ভারতের এক কূটনীতিকের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। যেটা নাকি গোপন রাখার কথা বলা হয়েছিল। তাহলে প্রশ্ন এখন একটাই, জামাত আসলেও কি ভারতের সমস্যা নেই? নাকি জামাতের আমির যেটা বলেছেন, সেটা গুরুত্ব দিতে নারাজ কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা? তবে এটা স্পষ্ট, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপিকে বেছে নিয়েছে ভারত। সৌজন্য সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, বিএনপির সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত ভারত। যদিও অনেকে বলে থাকেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করেনি। কিন্তু এর আগে দেখা গিয়েছে, দীর্ঘদিন বিএলপির সঙ্গে কাজ করেছে ভারত সরকার। কারণ ক্ষমতায় ছিলেন জিয়াওর রহমান। বেগম খালেদা জিয়া ১০ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। ফলে সবমিলিয়ে আগেমী ১২ই ফেব্রুয়ারির পর আশা করা যাচ্ছে, ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নত হবে। যদি তার জন্য এখনও কিছুদিনের অপেক্ষা….!












Discussion about this post