বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন করে আর বিশেষ কিছু বলার দরকার পড়ে না। হাসিনার আমলে দেশটা কেমন ছিল, আর বর্তমানে তদারকি সরকারের আমলে দেশটার কী হাল হয়েছে, সেটা তো এখন ওপেন সিক্রেট। আন্তর্জাতিকমহলে দেশটার মান-সম্মান দায়িত্ব নিয়ে ডুবিয়ে দিয়েছে তদারকি সরকার প্রধান। নিজে তো ডুবেছেন। সেই সঙ্গে দেশের মানুষ, দেশের অর্থনীতিকে ডুবিয়ে দিয়েছেন। হাসিনা বিদায়ে যারা খুশি হয়েছি, উচ্ছ্বসিত হয়েছিল, তারা এখন বুঝতে পারছে, কী ভুল তারা করেছে। জুলাই যোদ্ধাদের প্ররোচনায় পা দিয়ে তারা নিজেদের পায়ে নিজেরা কুড়ুল মেরেছেন।
ইউনূস ক্ষমতায় বসার পর থেকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একের পর এক চমক দেখিয়ে চলেছেন। আর তার সেই চমকে চমকিত হয়েছে আপামর বাংলাদেশবাসী। তারা একদিকে যেমন চমকিত, অপরদিকে তারা পুলকিত। জেন-জি প্রজন্ম এই ইউনূসের ওপর ভরসা করেছিল। তাঁর ওপর আস্থা রেখেছিল। তারা বিশ্বাস করেছিল, ইউনূসের আমলে বাংলাদেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছে যাবে। তারা দেখবে এক নতুন বাংলাদেশ। তাদের সেই স্বপ্ন স্বপ্ন হিসেবেই রয়ে গেল। দেশের পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে বাংলাদেশিদের এখন অন্য কোনও দেশে যাওয়াটাই স্বপ্ন।
আগে যেটা ছিল যে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে কেউ ভিন দেশে গেলে তাদের বঙ্কিম দৃষ্টিতে দেখা হত। এখন তো তাদের দেখার পাশাপাশি বাংলাদেশি পাসপোর্টটিকেও বঙ্কিম দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। অভিবাসন দফতরে গেলে তাদের এমনভাবে দেখা হয় যা ইঙ্গিত দেয় তারা বাংলাদেশের কোনও না কোনও একটি চিড়িয়াখানা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসেছে।
বাংলাদেশের একটি প্রথম সারির গণমাধ্যম একটি খবর প্রকাশ করেছে। খবরের শিরোনাম ‘বিদেশের দ্বার বাংলাদেশিদের জন্য ছোট হয়ে আসছে’। প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশের প্রায় তিন কোটি মানুষ প্রবাসে বাস করেন। তাদের মধ্যে অনেকে অবৈধপথে, অনিয়মিত পথে প্রবাশে গিয়েছেন। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তাদের একটা ভূমিকা রয়েছে। তবে দিনদিন বাংলাদেশিদের জন্য বহির্বিশ্বের পথ কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে। বিদেশে পড়তে যাওয়া বা ঘুরতে যাওয়া, এমনকী চিকিৎসার জন্য অন্য কোনও দেশে যাওয়া – সব ক্ষেত্রেই ভিসা পেতে তাদের সমস্যা হচ্ছে। কোনও কোনও দেশ বিজ্ঞপ্তি জারি করে ভিসা দেওয়ার হার কমিয়ে দিয়েছে। কোনও কোনও দেশ ঘোষণা ছাডাই সেটা করেছে। এতে সমস্যায় যেমন পড়েছে শিক্ষার্থীরা, সমস্যায় পড়েছে শ্রমজীবী মানুষ। সমান সমস্যা উন্নত চিকিৎসার জন্য যাঁরা মুখিয়ে আছেন তাঁরাও। থাইল্যান্ডের মতো দেশ, যারা কিছুদিন আগেও বাংলাদেশিদের ভিসা দিতে কুণ্ঠা বোধ করত না এখন তারাও বাকিদের দেখাদেখি ভিসা ইস্যু করা বন্ধ করে দিয়েছে। বাংলাদেশিবাসী এদের সকলের কাছে হয়ে উঠেছে অচ্ছু্ৎ।
কূটনৈতিক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবৈধ অভিবাসীদের কারণে দেশের সুনাম তো ক্ষুণ্ণ হয়েছে। কূটনৈতিক কারণেও কিছু জায়গায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনৈতিক পন্থা ও ভুয়ো জটিলতা সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে। এসবের কারণে শ্রমবাজার হারিয়েছে রেমিট্যান্সের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধালাভের পথও বন্ধ হচ্ছে। একটা বিষয় লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, হাসিনা-পরবর্তী পর্যায়ে বেশ কয়েকমাস কিন্তু বাংলাদেশিদের ভিসা পেতে অসুবিধে হত না। কিন্তু যেই মুহূর্তে সে দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হল, সে দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের মাখামাখি চরমে পৌঁছল, যে মুহূর্তে দেশটির নাম জড়িয়ে গেল ভারতের বুকে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে সেই মুহূর্তে কিন্তু এই সব দেশগুলি ভিসার ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ করল।












Discussion about this post