ভদ্রলোকের ছাতির ৫৬ ইঞ্চির সেটা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। গোটা দুনিয়াকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল আমেরিকার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস ধরে দিল্লির। কী করেছে সাউথব্লক? কী এমন সিদ্ধান্ত নিল, যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস অন্য কোনও দেশ দেখাবে না?
গোটা দুনিয়া জেনে গিয়েছে, যে দিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনে শুল্কযুদ্ধ শুরু হয়েছে। মি. ডন এবং তাঁর প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০০% হারে শুল্ক আরোপের। কিন্তু তাতে যে আখেরে তাদের ক্ষতি হবে, সেটা ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনকে কে বোঝাবে? আমেরিকায় যে সব দেশ থেকে পণ্য রফতানি করা হয়, তার মধ্যে সব থেকে সস্তায় পণ্য রফতানি করে থাকে ভারত। ওষুধ থেকে শুরু করে নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রীর বেশিরভাগ রফতানি করে ভারত। এই চড়া হারে শুল্ক আরোপ করলে ভারত থেকে পণ্য রফতানি প্রভাবিত হবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ট্রাম্প আসলে আমেরিকার স্বার্থ দেখতে গিয়ে দেশটাকে খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে রাশিয়ার থেকে কম দামে তেল কেনা। সেটা অবশ্য তারা গোপন করেনি। শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের কথা জানাতে গিয়ে ওয়াশিটনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাশিয়া থেকে যে সব দেশ তেল কিনবে, সেই সব দেশের ওপর চড়া হারে শুল্ক আরো করা হবে।
যদিও তাতে ভারতের তেমন কোনও ক্ষতি হবে না। সাউথব্লক ইতিমধ্যে বিকল্প বাজার খুঁজে পেয়েছে। সেই সব দেশে ইতোমধ্যে পণ্য রফতানি করতে শুরু করেছে। আর তার মাশুল গুনছে আমেরিকা। ট্রাম্পের এই স্বেচ্ছাচারিতায় সে দেশের একাংশ নাগরিক রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তাদের যুক্তি ভারতের সঙ্গে শত্রুতা করতে গিয়ে ট্রাম্প তাঁর দেশের মানুষকে বিপদের মুখে ফেলে দিয়েছেন। আগে ভারত থেকে যে সব পণ্য কম দামে পাওয়া যেত এখন সেই একই পণ্য কিনতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি ডলার দিয়ে।
এদিকে আবার বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের শুল্কনীতি ঠিক ভারতের উল্টো। আগে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্কের হার ছিল ১৫%। সেটা বাড়িয়ে প্রথমে করা হয় ২০ %। ২০২৫-য়ের প্রথম দিকে সেটা একদফায় বাজডিয়ে ৩৭ % করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে শুল্ক হ্রাস করে করা হয় ৩৫ %। সেটা পরে আরও হ্রাস করে নামিয়ে আনা হয় ২০%। সূত্রের খবর, বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকার এই শুল্কপ্রীতির কারণ তদারকি সরকারের সঙ্গে গোপন সমঝোতা। চট্টগ্রাম বন্দর বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে ডনে পরামর্শে। ঢাকাকে বলা হয়েছে তারা যেন চিনের সঙ্গে বেশি মাখামাখি না করে। কিন্তু আত্মনির্ভর ভারত যে ট্রাম্পের কথা চলবে না সেটা দিল্লি আগেই বুঝিয়ে দিয়েছে। শুল্কযুদ্ধের আবহে সেই বার্তা আরও একবার তাদের দেওয়া হল। আর ভারত সর্বশেষ যে পদক্ষেপটি আমেরিকার বিরুদ্ধে করেছে সেটা শুনলে অনেকেই অবাক হবেন। আমেরিকাগামী ১৩০টি পণ্যবাহী জাহাজকে দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাহাজের মধ্যে ছিল বাসমতি চাল বিভিন্ন পণ্যের রফতানি বন্ধ করার ইঙ্গিত দিয়েছে। সেই সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমেরিকা যে হারে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করবে, ভারতও সেই হারে মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করবে।
সেটা করলে আমেরিকাকে যে কাঁড়ি কাঁড়ি ডলার গচ্চা দিতে হবে সেটা বুঝতে পেরে ট্রাম্প প্রশাসন গলার সুর অনেকটাই নরম করেছে। চিনের মোকাবিলায় তারা ভারতকে পাশে পেতে চাইছে। বিরল খনিজ নিয়ে বেজিংয়ের সঙ্গে লড়াইয়ে এবার ভারতকে পাশে পেতে সক্রিয় হল আমেরিকা সহ পশ্চিমী দুনিয়া। জি-৭ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলি এই সংক্রান্ত আলোচনার জন্য ভারতকে একটি ‘বিশেষ ফিনান্স মিনিস্টার্স মিটিং’-য়ে আমন্ত্রণ করা হয়েছে।












Discussion about this post