বিশ্ববিখ্যাত অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের হাল ধরার পর এক বছরেরও বেশি সময় কেটে গেছে এবং একটি নতুন অর্থবছরের সূচনাও হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি যে একট সংকটের মধ্যে ছিল, সেটা স্বীকার করে নিয়েও এই অন্তর্বর্তী সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক বিগত এক বছরে বারবার বলতে চেয়েছে, আগের অবস্থা থেকে বাংলাদেশের আর্থিক হাল অনেকটাই ভালো হয়েছে। যেমন বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল হয়েছে, ব্যাঙ্কিং খাতে কিছু কিছু সমস্যার সমাধান হয়েছে, বিদেশ থেকে শ্রমিকদের পাঠানো অর্থ বা রেমিটান্সের পরিমাণ বেড়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এমনকি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এই দাবিও করছে, বাংলাদেশের রফতানি শিল্প আগের থেকে অনেকটাই উন্নতি করেছে। কিন্তু তাঁদের কল্পনার ফানুস ফুটো করে দিল বিশ্বব্যাঙ্ক এবং আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল বা আইএমএফ। সম্প্রতি আইএমএফ বাংলাদেশকে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির ষষ্ঠ কিস্তি দেওয়ার বিষয়ে কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে। তাঁরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত বাংলাদেশে একটা স্থায়ী নির্বাচিত সরকার গঠিত হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত এই কিস্তি স্থগিত থাকবে।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ-এর যৌথ বার্ষিক সভায় বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর আইএমএফের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করেছিলেন। ওই বৈঠকেই আইএমএফের কর্তারা স্পষ্ট করে জানান, বাংলাদেশে নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের সঙ্গে ঋণ শর্তাবলী এবং বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচির বিষয়ে পুনরায় আলোচনা করতে চান তাঁরা। এর ফলে ষষ্ঠ কিস্তির মুক্তি স্থগিত থাকবে। আইএমএফের এই দুঃসংবাদ আসলে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি অনাস্থার সামিল। এমনটাই মনে করছেন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর বলেন, আমরা সংস্কারের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছি, কিন্তু আইএমএফ নির্বাচিত সরকারের অংশগ্রহণ ছাড়া এগোতে অনিচ্ছুক। এটি আমাদের অর্থ ব্যবস্থাপনায় আস্থার অভাবের সংকেত। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যাপক উন্নতির যে ফানুস উড়িয়েছিলেন মুহাম্মদ ইউনূসরা সেটা কী একেবারেই মিথ্যা প্রচার ছিল?
বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদদের দাবি, শেখ হাসিনার আমলেই বাংলাদেশ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পেয়েছিল। যা পরে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের টপআপ-সহ ৫.৫ বিলিয়নে গিয়ে দাঁড়ায়। এ পর্যন্ত ৩.৬ বিলিয়ন ডলার পেয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু ষষ্ঠ কিস্তির জন্য কোয়ান্টিটেটিভ পারফরম্যান্স ক্রাইটেরিয়া পূরণের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার শর্তও যুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। বিগত ১৫ মাসে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা, রাজস্ব সংগ্রহের ব্যর্থতা এবং সংস্কারে ঢিলেমি, রাজনৈতিক অনিশ্চিয়তা এবং মব সংস্কৃতি এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চেও সমালোচিত হচ্ছে। ফলে আইএমএফের এই অবস্থানকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অদক্ষতার ফল হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে রাজস্ব সংগ্রহে ভাটা পড়েছে। এই খাতে জুন ২০২৫ পর্যন্ত ৬৫ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদেশি মুদ্রা রিজার্ভের চাপ। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি অনাস্থাকে আরও গভীর করেছে। বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তরফে জানা গিয়েছে, আইএমএফের টিম ২৯ অক্টোবর ঢাকায় আসছে দুই সপ্তাহের পর্যালোচনার জন্য। কিন্তু নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কিস্তি ছাড়ার সম্ভাবনা নেই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল আইএমএফের এই সিদ্ধান্তকে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যর্থতার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন। যা নির্বাচনের দাবিকে আরও জোরালো করবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post