অপারেশন সিঁদুরে কেঁপে গিয়েছিল পাকিস্তান। এবার কী মিয়ানমারেও ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ করল ভারত? সরকারিস্তরে স্বীকার না করা হলেও যেটা জানা যাচ্ছে, ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে নাটকীয়ভাবে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তাতে নাগা জঙ্গি সংগঠন এনএসসিএনের খাপলাং-ইউংআং- গোষ্ঠীর এক ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত জানা যাচ্ছে এই ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছে ওই জঙ্গিগোষ্ঠীর পাঁচজন সদস্য এবং গুরুতর আহচ হয়েছে একজন সিনিয়র এনএসসিএন-কে ওয়াইএ নেতা। অ্ন্যদিকে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে আরাকান আর্মি। এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী দাবি করেছে, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মদতে চরমপন্থী জঙ্গি সংগঠনগুলির সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে রাখাইন প্রদেশে। উল্লেখ্য, আরাকান আর্মি চরমপন্থী জঙ্গি সংগঠন বলতে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের মতো সংগঠনকে বোঝাতে চেয়েছে। যারা বাংলাদেশের প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর কাছ থেকে সাহায্য পেয়ে নিজেদের তৎপরতা বাড়িয়েছে। এই সংগঠনগুলিকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। সবমিলিয়ে ভারত-মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় এখন একটা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে রয়েছে। যে কোনও সময় একটা বড়া ধামাকা হয়ে যেতে পারে। আর এটা হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রবল চাপে পড়বে।
প্রথমে আসি মিয়ানমারে ড্রোন হামলা প্রসঙ্গে। ঠিক যেমনটা গত ৭ মে ভোররাতে পাকিস্তানের মাটিতে অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি জঙ্গিঘাঁটি। অনেকটা সেই ধাঁচেই সোমবার রাতে মিয়ানমারে অপারেশনটি চালানো হয়েছে। অপারেশন সিঁদুরের ছকে ভারতের আরেক পড়শি দেশে আকাশপথে অপারেশনের খবর এই প্রথম প্রকাশ্যে এল। যদিও ভারতীয় সেনা বা ভারতের অন্য কোনও সরকারি সূত্র এমন কোনও ড্রোন হামলার কথা স্বীকার করেনি। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দাবি, যে কায়দায় এই হামলা হয়েছে এবং নিখুঁদভাবে লক্ষ্যবস্তু গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তা থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে এটা ভারতীয় সেনার কাজ। উল্লেখ্য, বিগত কয়েকবছর ধরে গৃহযুদ্ধের আগুনে জ্বলছে মায়ানমার। যার জেরে সীমান্তে বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির তৎপরতা বেড়েছে। ভারত-মিয়ানমার সীমান্তটি প্রায় ১,৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এটি ভারতের চারটি রাজ্যের সঙ্গো লাগোয়া। অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর এবং মিজোরামে ইদানিং জঙ্গি কার্যকলাপ বাড়ছিল। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, মিয়ানমার সীমান্তে আলফা, এনএসসিএনের খাপলাং-ইউংআং গোষ্ঠীর জঙ্গিরা অত্যন্ত সক্রিয় হয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর অসমের তিনসুকিয়া জেলার কাকোপাথর এলাকায় সেনা ক্যাম্পে হামলা চালায় সন্ত্রাসবাদীরা। অন্যদিকে মোদির সফরের আগে মিজোরামেও অসম রাইফেলসের কনভয়ে হামলা হয়েছিল। এবার তারই বদলা নিল ভারত। সেই সঙ্গে পড়শি বাংলাদেশকেও বার্তা দেওয়া হল, যে ভারত জঙ্গি দমনে কোনও রকম কার্পণ্য করবে না। তাঁরা যে দেশেই লুকিয়ে থাকুক না কেন। ভারত ঘরে ঢুকে মারবে।
অন্যদিকে, মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি আবারও সরাসরি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে হুমকি দিল। তাঁদের দাবি, বাংলাদেশ সেনা এবং বিজিবি-র কিছু কট্টরপন্থী মনোভাবাপন্ন আধিকারিক সরাসরি চরমপন্থী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি এবং রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। যে সমস্ত অস্ত্রশস্ত্র একময় বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, সেগুলিই ঘুরপথে তাঁরা বিক্রি করছেন রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের কাছে। এই দুর্নীতিগ্রস্থ আধিকারিকদের জন্যই বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ছে। এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে প্রমাণ-ভিত্তিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল আরাকান আর্মি। কিন্তু এর কোনও সাড়া মেলেনি। গত ১১ অক্টোবর বাংলাদেশ-আরাকান সীমান্তের কাছে অবস্থিত মংডু টাউনশিপে এআরএসএ এবং আরএসও-র উগ্রপন্থী জঙ্গিরা একটি অতর্কিত হামলা চালিয়ে একজন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছিল বলে অভিযোগ আরাকান আর্মির। এরপরই তাঁরা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে চরমপত্র দিল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এবার সবদিক থেকেই চাপে পড়তে চলেছে বাংলাদেশ। একদিকে আরাকান আর্মি, অন্যদিকে মিয়ানমারের জুন্টা প্রশাসন, দু-তরফেই আসছে হুমকি। আর ভারতও বুঝিয়ে দিল, প্রয়োজনে তাঁরাও সীমান্ত এলাকায় কোনও জঙ্গিঘাঁটি গুড়িয়ে দিতে দ্বিধা করবে না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post