তত্ত্বাবধায়ক সরকার কি ফিরছে বাংলাদেশে? এই খবর যেদিন লেখা হচ্ছে অর্থাৎ বুধবার, ২২ অক্টোবর, সেই সময় বাংলাদেশ হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি চলছে আপিল বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চে। বেঞ্চের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। সরকারের হয়ে আদালতে সওয়াল করেছেন বাংলাদেশে অ্যাডভোকেড জেনারেল মহম্মদ আসাদুজ্জামান। মামলা দায়ের করেছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর। তার হয়ে আদালতে সওয়াল করছেন দুই প্রবীণ আইনজীবী তথা সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ জৈনুল আবেদিন এবং ব্যারিস্টার রাহুল কুদ্দুস কাজাল। জামায়াতে ইসলামী এই মামলায় তাদের পক্ষে সওয়ালের জন্য নিয়োগ করেছেন মহম্মদ শিশির মনিরকে। এই মামলার সঙ্গে আরও একটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে হাইকোর্টে। সেই মামলার শুনানিতে হাজির উপস্থিত ছিলেন এএসএমম শাহরিয়ার কবির।
মামলা দায়ের হয় গত বছর ২৬ অগাস্ট। বাংলাদেশের বিশিষ্ট নাগরিকেরা যৌথভাবে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তারা তদারকি সরকারের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। হাইকোর্টে তাঁরা মামলা রুজু করতে চাইলে হাইকোর্ট তা গ্রহণে সম্মতি জানায়। বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীও যৌথভাবে তাদের সমমনোভাবাপন্ন বুদ্ধিজীবীদের সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। নওগাঁর রানীনগরে নারায়ণপাড়ার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে গত বছর একটি আবেদন করেন।
এবার প্রশ্ন হচ্ছে কাকে বলে তত্ত্বাধায়ক সরকার? আইন বলছে, জাতীয় নির্বাচনের চলাকালীন দায়িত্বপালনকারী সরকারই হল তত্ত্বাধায়ক সরকার। সংবিধানে এই ধরনের সরকারের অন্তর্ভুক্তি হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে গৃহীত হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পেয়েছিল প্রথম নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ। এই সংশোধনীকে চ্যালঞ্জ জানিয়ে, ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহ সহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ হাইকোর্ট ওই রিট খারিজ করে তত্ত্বাধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে।
তবে হাসিনার শাসনামলে সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে এক রায়ে তত্ত্বাধায়ক সরকার ব্যবস্থা পাল্টে যায়। অন্যদিকে, বিগত সরকারের পতনের পরে পরে পুরাতন তত্ত্বাধায়ক সরকার ব্যবস্থায় ফিরে যেতে মামলাটি আবার আপিল বিভাগের শুনানিতে ওঠে। আবেদনকারীদের আর্জি গৃহীত হলে বাংলাদেশ পুরনো তত্ত্বাধায়ক সরকারের ব্যবস্থায় ফিরে যাবে। সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বাংলাদেশের যা রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ইউনূস সরকারের যে সকরুণ দশা, দেশজুড়ে যে নৈরজ্য চলছে, তার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ তত্ত্বাধায়ক সরকারের প্রত্যাবর্তনের স্বপক্ষেই রায় দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে অবৈধ তদারকি সরকারকে চলে যেতে হবে। তবে কয়েকটি ‘যদি’ এবং ‘কিন্তু’ উঠে আসছে। হাইকোর্ট রায় দিতে পারে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা পালন করবে ইউনূসের সরকার। সেটা হলে উপদেষ্টার সংখ্যা কমিয়ে ১১ –তে আনতে হবে। অথবা হাইকোর্ট বলতে পারে, এই সরকার থাকবে। তবে সরকারের মাথায় বসবেন অন্য কেউ।
এই মামলার প্রসঙ্গে বিএনপির সহসভাপতি তথা দলের প্রবীণ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আশা করি তত্ত্বাধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরাতে আমাদের আবেদনের নিষ্পত্তি হবে আপিল বিভাগে। সংবিধানে তত্ত্বাধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল হবে। আপিল বিভাগ চাইলে রায়ে কিছু পর্যবেক্ষণ দিতে পারেন। এসব কিছু হাইকোর্ট থেকে আমাদের প্রত্যাশা। সব কিছু আপিল বিভাগের ওপর নির্ভর করছে। ’ একই আশা জামায়াতে ইসলামীরও।












Discussion about this post