ফের উত্তপ্ত ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত। পরিস্থিতি এমন জটিল হয়ে উঠল যে বিএসএফ বাধ্য হল বাংলাদেশের যুবকের উপর গুলি চালাতে। বিএসএফের এই কার্যকলাপের তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন আধিকারিকরা। অনেকে বলছেন, বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বা বিজিবি যদি করা হাতে সামাল দিত, তাহলে এই পরিস্থিতি তৈরি হত না। অর্থাৎ কেউ কেউ বলছেন, ভারত একশন শুরু করলে জয় হবেই।
জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের পরশুরাম উপজেলার বাসিন্দা মো. মিল্লাত হোসেন (২১) নামে এক যুবককে গুলি করে বিএসএফ। তবে এই প্রথম নয়, এর আগে আরও একজনের উপর গুলি চালানো হয়েছিল। তার নাম মহম্মদ আফছার। তার বয়স ৩১। আর এতেই সমালোচনা করছে অনেকে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা হত, তবে বিএসএফের সমালোচনা করা যেত। কিন্তু প্রতিনিয়ত বর্ডার পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে চাইছে বাংলাদেশী মানুষেরা। সুরক্ষার কথা ভেবে ভারতের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী তো একশন নেবেই। প্রশ্ন উঠে, বাংলাদশের সীমান্তে বিজিবি থাকার পরও কিভাবে তারা অনুপ্রবেশ করতে পারে? বিজিবি ঠিক মত দায়িত্ব পালন করছে না, নাকি তাদের এমনই নির্দেশ দেওয়া রয়েছে? যাতে অনুপ্রবেশকারীরা যাতে অবাধে ভারতে প্রবেশ করতে পারে? এমনকি শুধু সাধারণ কোনও মানুষ নয়, রুপু পাচারকারী, সোনা পাচারকারী, আবার কখনো গরু পাচারকারী। আর আসছে ভারতে অন্যায় কার্যকলাপ চালাবে বলে।
অন্যদিকে ভারতের বিরুদ্ধে আরও একটি বিষয় নিয়ে সোচ্চার হয়েছে বাংলাদেশ। বলা হচ্ছে, ২৫ জন বাংলাদেশিকে ভারত পুশ ইন করেছে জোর করে। অবৈধ বাংলাদেশিদের পুশ ইন করলেই বাংলাদেশের তরফে প্রতিবাদ করা হচ্ছে। তবুও থামছে না ভারত। প্রশ্ন, হঠাৎ ভারত এতটা আগ্রাসন মনোভাব কেন দেখাচ্ছে বাংলাদেশকে? আসলে ভিসা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার পাকিস্তানকে ছাড় দিচ্ছে। পাকিস্তানের যত সন্ত্রাস, জঙ্গি বাংলাদেশে প্রবেশ করে ঘুর পথে সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করবে। যেটা ভারত একেবারেই মেনে নেবে না। তাই আগেভাগেই সতর্ক হয়ে গিয়েছে ভারত। অর্থাৎ ভারতের আগ্রাসন মনোভাবের নেপথ্যে রয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
এমনিতেই খবর পাকিস্তান ও বাংলাদেশ মিলে ভারতের উত্তর পূর্ব অঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। আর সেটাকে লক্ষ্য নিয়েই ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি ভারত বুঝিয়ে দিচ্ছে, বিগত ১১ মাস ধরে বাংলাদেশে ব্যবহারটা করেছে, তার পাল্টা হিসেবে ভারত ফিরিয়ে দিচ্ছে। একটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে শত্রুতা তৈরি করে কখনো বাংলাদেশকে ভালো থাকতে পারবে না, সেটা সেখানকার প্রধান উপদেষ্টার বোঝা উচিত। বলছে ওয়াকিবহাল মহল।
এর আগেও অনুপ্রবেশ ঘটতো। শেখ হাসিনার আমলেও অনুপ্রবেশ ঘটলে, পতাকা বৈঠক করে মিটিয়ে নেওয়া হতো। কিন্তু এখন স্পষ্ট লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিজিবি সদস্যরা প্রভাবিত হয়ে অনুপ্রবেশ ঢোকাতে সাহায্য করছে। যেটা ভারতীয় সেনারা কোনভাবেই মেনে নেবে না।












Discussion about this post