পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন যে, ভিক্ষুকের কখনও পছন্দ করার অধিকার থাকে না। তিনি আসলে অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝেছেন যে যারা সামরিক এবং অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল, তাদের সঙ্গে ভিক্ষুকের মতই ব্যবহার করে আমেরিকা। তাই ট্রাম্পের এত চাটুকারিতার পরও তাদের ভাগ্যে অবহেলা ছাড়া আর কিছুই জুটল না। এই মহুর্তে পরিস্থিতি এমন তৈরী হয়েছে যে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলে দিল আমেরিকা। এবার অনেকেই বলবেন ব্যবহার বলতে কি বোঝাতে চাইছি। আসলে আমেরিকা পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ ব্যবহার করে ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছিল। যাতে যে কোন দর কষাকষিতে ভারতকে চাপে রাখা যায়। ভারত আরমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের মধ্যে পরবর্তী ১০ বছর ধরে প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা চালানোর জন্য একটি চুক্তি সই করেছে। যে চুক্তির ফলে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ খুবই চাপে থাকবে। পাকিস্তান ট্রাম্পের ইশারায় অনেক লম্ফঝম্ফ করছিল, কিন্তু এই চুক্তির পরএকেবারে চুপসে গেল। কারণ আমেরিকা জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার জন্য ভারতকে দুরে রাখা যাবে না। কারণ ভারত আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু এবং সামরিক সহযোগী। ঠিক তেমন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র যাকিছু সামরিক ব্যবস্থা তৈরী করবে তার ব্যবহার করবে ভারত, তাও আবার আমেরিকার অনুমতি ছাড়াই। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, স্টারলিং বাংলাদেশে তাদের সদর দফতর খুললেও, তাকে কন্ট্রোল করবে ভারতের গেয়েন্দা সংস্থা। কারণ এই চুক্তিতে বলা হয়েছে আগামী দশ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের যত নজদারী সিস্টেম রয়েছে তার সবকিছুতেই বিনা অনুমতিতে প্রবেশাধিকার পাবে ভারত। ভারতের পিছনে লাগার ফলটা বুঝতে পারবে ইউনূস সহেব। এবার বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কোন দেশই কোন দেশের পাকিপাকি শত্রু নয়, আবার পাকাপাকি বন্ধুও নয়। তবে ব্যতিক্রমও থাকে। যেমন ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আবার বন্ধুত্ব্য হতে পারে। কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে কোনদিনই বন্ধুত্ব্য হবে না। তেমন চীন আমেরিকার সঙ্গে ভারতের কখনই পাকাপাকি বন্ধুত্ব্য না হলেও, রাশিয়া এবং ভারতের বন্ধুত্ব্য অটুট থাকবে। এবার আসা যাক ভারত আমেরিকার বিষয়ে। দুই দেশ বেশ কিছুদিন ধরে বহু ঘাত প্রতিঘাতের পর আবার কাছাকাছি আসতে শুরু করেছে। যদিও দুই দেশের মধ্যে এখনও অনেক বিষয়ে মতের অমিল আছে। এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কারণ আমেরিকা বুঝেছে ভারত আর কোন শক্তির কাছে মাথা নিচু করে থাকবে না। তার জন্য যদি কঠিন কোন পরিস্থিতির সামনা সামনি হতে হয়, ভারত তার জন্য প্রস্তুত।আমেরিকা সেটি বুঝেই ভারতের সঙ্গে আবার বন্ধুত্ব্য করতে চায়ছে। ভারত জানে ভু-রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে স্বার্থের কারণে, যদি স্বার্থ থাকে তবে শত্রুও বন্ধু হয়ে ওঠে, আর স্বার্থ না থাকলে বন্ধুও শত্রু হয়ে ওঠে। ভারত আমেরিকার সম্পর্কটিও তাই। ২০২৫ সালটি বাদ দিলে আগের আট বছরে ভারত আমেরিকার সম্পর্কে সবদিক থেকে অনেক উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তবে ২০২৫শে ট্রাম্প এসেই ভারতের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, যার ফলে সম্পর্ক খারাপ হয়। তবে ২০২৫ শেষ হওয়ার আগেই সেই সম্পর্ক আবার নতুন করে সুসম্পর্কে মোড় নিতে চলেছে। জানা যাচ্ছে ভারত আরমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের মধ্যে পরবর্তী ১০ বছর ধরে প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা চালানোর জন্য একটি চুক্তি সই করেছে।
কুয়ালালামপুরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বিষয়ক সচিব পিট হেগসেথ আর ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের মধ্যে এক বৈঠকের পর এই চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
দুটি দেশের মধ্যে এই চুক্তি যেমন “সহযোগিতা, তথ্য আদান-প্রদান আর কারিগরি সহযোগিতা” বৃদ্ধি করবে, তেমনই “আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আর প্রতিরোধ” গড়ে তুলবে বলেও নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন মি. হেগসেথ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপরে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দেওয়ার ফলে দুটি দেশের মধ্যে যে উত্তেজনা তৈরিই হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠে তারা যখন বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার পথে এগোচ্ছে, তার মধ্যেই এই প্রতিরক্ষা বিষয়ক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলো।ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতার বৃহত্তর পরিসরের সবকিছুকেই এই চুক্তিটি নীতি নির্দেশনা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।রাজনাথ সিং তার এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “কৌশলগত দিক থেকে আমরা যেভাবে আরও বেশি করে কাছাকাছি আসছি, তারই ইঙ্গিত এই চুক্তি। অংশীদারিত্বের এক নতুন দশক শুরু হলো।
“আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রতিরক্ষা খাত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে থাকবে। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে যাতে একটি উন্মুক্ত, স্বচ্ছ এবং নিয়মনীতি মেনে চলা এলাকা হিসাবে নিশ্চিত করা যায়, তার জন্য আমাদের অংশীদারিত্ব খুব গুরুত্বপূর্ণ।”এখন দেখার এই চুক্তির পর ভূ-রাজনৈতিক আর কোন কোন পরিবর্তন অপেক্ষা করছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post