এগিয়ে আসছে সেই দিন। ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খানের বিরুদ্ধে ওঠা মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগের শাস্তি কবে ঘোষণা করা হবে, সেটা ১৩ নভেম্বর জানিয়ে দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি) বিচারপতি গোলাম মর্তূজা। ইতিমধ্যে সরকারপক্ষের আইনজীবী তথা ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম হাসিনা এবং তাজুলের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। তাজুলের কথা, হাসিনার বিরুদ্ধে ১৪ শো মানুষকে খুন করার অভিযোগ রয়েছে। তাই,তাঁর ১৪ শো বার ফাঁসি হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে সেটা কখনই সম্ভব নয়। তাই, অন্তত একবার ফাঁসিকাঠে তাঁকে চডা়নো হোক। ১৩ নভেম্বর আদালত যদি শাস্তির দিন তারিখ ঘোষণা করে, তাহলে পরের দুটি দিন বাংলাদেশে সরকারি ছুটি। সেক্ষেত্রে ১৬ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহের যে কোনও দিন আইসিটি হাসিনা ও আসাদুজ্জমান খানের শাস্তি ঘোষণা করতে পারে। তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া যায়, যে আদালত হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খানকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিল, সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
প্রথমতো বাংলাদেশ আইসিটি হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দিলে, সরকারের তরফে তারা ভারতের কাছে তাঁর প্রত্যর্পণের আর্জি জানাবে। হাসিনা এই মুহূর্তে দিল্লিতে রয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের দাবি মেনে ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরত পাঠাতে সম্মত হলেও দুই দেশকে একটি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সেই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে, এমনটা ধরে নেওয়া যায় না। আওয়ামী লীগের এক নেতা জানিয়েছেন, নেত্রীর বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণার দিনটি দলকে সুসংহত করার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছে। তাঁর বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যেদিন সাজা ঘোষণা করবে, সেদিন গোটা দেশ গর্জে উঠবে।
প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে হাসিনা সরে যাওয়ার পর দেশে দুটি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। একটি গোষ্ঠী আওয়ামীপন্থী। দ্বিতীয় গোষ্ঠীতে রয়েছে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি। তাদের সঙ্গে রয়েছে সে দেশের বিভিন্ন মৌলবাদী শক্তি। একটা বিষয় কিন্তু লক্ষ্য করার মতো। হাসিনা বাংলাদেশ থেকে দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়ার পর কিন্তু চুপচাপ ছিলেন না। নানা সময়ে তিনি দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন। আন্দোলনের নীল নকশা তৈরি করে দিয়েছেন। এই আবহে হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি সাক্ষাৎকার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সেই সাক্ষাৎকারে জয়কে বলতে শোনা যায় আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যাতে অংশগ্রহণ করতে পারে, সেটা তদারকি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।
একটা বিষয় কিন্তু বেশ পরিষ্কার। ১৬ মাস আগে আওয়ামী লীগ আর ১৬ মাস বাদে আওয়ী লীগের মধ্যে কিন্তু বিরাট একটা তফাৎ ধরা পড়ে। দলের সক্রিয়তা আগের থেকে অনেক বেশি। তারা করেছে ঝটিকা মিছিল। করছে পথ সভা। তাদের এই কর্মসূচিতে নাভিশ্বাস ওঠে তদারকি সরকারের। এমনকী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেও আওয়ামী লীগকে দমিয়ে রাখা যায়নি। সুতরাং, সাজা ঘোষণার দিন তারা যে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, সেটা সহজেই অনুমান করা যেতে পারে। কোনও কোনও মহল থেকে আবার এটাও বলা হচ্ছে, হাসিনার বিরুদ্ধে এমন সাজা ঘোষণা হল, যাতে দেশে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং নির্বাচন বাতিল করতে হয়। ফলে, এই সম্ভাব্য রায়কে কেন্দ্র করে বহু সম্ভবনার জন্ম হচ্ছে। বাস্তব পরিস্থিতি কী বলে, তার জন্য আমাদের কয়েকটি দিন অপেক্ষা করতে হবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post