বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ভারত বিরোধিতা এমন একটা পর্যায়ে রয়েছে তাতে হাওয়া দিচ্ছেন সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারাও। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নিজে এবং তাঁর কয়েকজন উপদেষ্টা ক্রমাগত ভারতকে আক্রমণ ও হুমকি দিয়ে গিয়েছেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য যা সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত তা নিয়ে ক্রমাগত হুমকি দিয়েছেন। এর পর থেকেই কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ নদিয়া, মালদা, কোচবিহার, মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার মতো কয়েকটি জেলায় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসাতে তারা বাধা দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি-র সদস্যরা। সেটা নিয়েও শুরু হয়েছিল টানাপোড়েন। এমনকি দু-দেশের বাসিন্দারাও এই ধরণের সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন বলে বেশ কয়েকটি খবর সামনে এসেছিল। এই আবহেই সীমান্ত সংঘাত আরও উস্কে দিয়েছিব বাংলাদেশে। তাদের দাবি ছিল, সীমান্তে বৈআইনি নির্মাণ চালাচ্ছে বিএসএফ। যদিও তা নিয়ে ভারতের কোনও প্রতিক্রিয়া ছিল না।
এবার বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঢাকার অন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বিচার চলছে। বেশ কয়েকটি মামলার মধ্যে একটি মামলার সাজা ঘোষণাও হয়ে গিয়েছে। তাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ফাঁসির সাজা হয়েছে। কিন্তু এই দুজনই এখন ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন, ফলে তাঁদের সাজা কার্যকর করতে হলে দুজনকে আগে বাংলাদেশে নিয়ে যেতে হবে। ঠিক এই আবহেই ভারত সফরে এসেছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ডঃ খলিলুর রহমান। তিনি একটি বৈঠকে অংশগ্রহন করতে এলেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সাথে। এই বৈঠক নিয়েও চলছে জোরদার জল্পনা।
ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সংগঠন ‘কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভে’যোগ দিতে দিল্লি এসেছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। আগেই বলেছি, তিনি এই সম্মেলনের ফাঁকে তাঁর কাউন্টার পার্ট ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সাথে একটি দীর্ঘ বৈঠক করেন। কূটনৈতিক মহলের দাবি, ওই বৈঠকের পরদিনই ছিল মূল সম্মেলন। আর তাৎপর্যপূর্ণভাবে ওই সম্মেলনে নিজের বক্তৃতায় বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এমন কিছু বক্তব্য দিয়েছেন, যা এখন মূল চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। খলিলুর রহমান নিজের বক্তৃতা শুরুই করেন দিল্লি বিস্ফোরণের নিন্দা এবং হতাহতদের পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানিয়ে। পাশাপাশি খলিলুর দাবি করেছেন, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে অপরাধ ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখার যে দৃষ্টিভঙ্গী কনক্লেভের রয়েছে, তার সঙ্গে বাংলাদেশ একমত। সন্ত্রাস প্রতিরোধে যথাযথ পদক্ষেপ করেছে ঢাকা। এমনকি তিনি নিজের বক্তৃতায় ভারতের সুরেই সুর মিলিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে “জিরো টলারেন্স” নীতি নিয়ে চলছে। এটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
সূত্রের খবর, বুধবার বাংলাদেশে ইউনূস সরকারের আমলে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের নতুন করে বাড়বাড়ন্ত নিয়ে বুধবার খলিলুরের হাতে একটি বিশেষ রিপোর্ট বা “ডসিয়ের” তুলে দিয়েছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। পাকিস্তানি মৌলবাদী নেতারা যে ভাবে বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলিতে ঘুরে ঘুরে ছাত্রদের জেহাদি পথে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও প্রমান দেওয়া হয়েছে ওই ডসিয়েরে। এমনকি, দিল্লি বিস্ফোরণে জড়িত জঙ্গিদের বয়ান বা অন্যান্য প্রমান-সহ বেশ কয়েকটি তথ্য ওই ডসিয়েরে দেওয়া হয়েছে, যাতে এই ঘটনায় বাংলাদেশের যোগাযোগ স্পষ্ট রয়েছে। অন্যদিকে তবে ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের দেশান্তরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বিষয়ে দুই পড়শি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে কোনও কথা হয়নি বলে জানাচ্ছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কয়েকটি সূত্র। সবমিলিয়ে এটা বলাই যায়, বাংলাদেশে যে যতই বাঘ থাকুক না কেন, আসলে তাঁরা সত্যের সামনে দাঁড়িয়ে “সরি, ভেরি ভেরি সরি” বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করেন। যেমনটা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে বলেছেন।












Discussion about this post