রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দুই দিনের ভারত সফরে বিশেষ নজর রয়েছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আহ্বানে ২৩ তম ভারত ও রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লি এসেছেন পুতিন। মনে করা হচ্ছে এই সফরে সামরিক, বাণিজ্য ও খনিজ তেলের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। পুতিনের এই ভারত সফরে আসার আগেই রাশিয়ার তরফ থেকে নেওয়া হয়েছে একটি বড় সিদ্ধান্ত। রাশিয়ার সংসদ ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিকে অনুমোদন দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ওই সামরিক চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের সামরিক বাহিনী একে অপরকে লজিস্টিক্যাল সাপোর্ট দেবে। অর্থাৎ, এক দেশের বাহিনী অপর দেশের সামরিক পরিকাঠামো ব্যবহার করতে পারবে। আরও সহজ করে বললে, ভারত রাশিয়ার বন্দর, এয়ারবেস ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে। জাহাজের জ্বালানি ও মেরামতি এবং চিকিৎসা সহায়তা ও খাওয়ার এই সকল কিছু সহজ হবে এই চুক্তিতে। বিশেষত যুদ্ধজাহাজ, বিমান, সাবমেরিন এবং অন্যান্য সামরিক ইউনিট দ্রুত ও সমন্বিতভাবে মোতায়েনের সুযোগ পাবে। ফলে ভারত – রাশিয়া সম্পর্ক যে ঘনিষ্ট থেকে আরও ঘনিষ্টতর হচ্ছে তা পরিষ্কার।
বছরে একবার ভারত ও রাশিয়া নিজেদের মধ্যে হিসেব করবে যে কে কত সুবিধা ভোগ করল। টাকা কে কাকে দেবে। এই সম্পূর্ণ হিসেবটাই হবে ক্যাশলেস সিস্টেমে। এর ফলে ভারতের লাভ হবে অনেক গুলি ক্ষেত্রে যেমন, প্রথমত, প্রথমবার ভারত রাশিয়ার আরেক্টিক বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। দ্বিতীয়ত, ভারত Northern Sea রুট ব্যবহার করার সুযোগ পাবে। ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্র পথ ভারত সরাসরি ব্যবহার ও নজরদারি করতে পারবে। তৃতীয়ত, রাশিয়ার ফার ইস্ট ও প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের নৌ বাহিনী আরও সক্রিয় হতে পারবে। চতুর্থত, নৌ বাহিনী এখন থেকে আরও বেশি পরিমানে শক্তিশালী হবে। দূরে গিয়ে যুদ্ধ জাহাজকে আর বারবার দেশে ফিরতে হবে না। পঞ্চম, ভারতের কৌশলগত স্বাধীনতা বাড়বে।
রাশিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভারত আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ভারতের সাথে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চাই। অন্যদিকে, পুতিনের এই ভারত সফরে খুশি নয় আমেরিকা। এ প্রেক্ষিতে ভারতের স্পষ্ট উত্তর, আমরা নিজেদের স্বার্থে চলব। কারুর বলায় আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত বদলাব না।
পুতিনের সফর দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্যকে নতুন পথে পরিচালিত করতে পারে।
বিশ্বমঞ্চে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করা এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এই চুক্তির মূল লক্ষ্য। বিশ্বব্যাপী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চুক্তি শুধু ভারত–রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্ত করছে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর নিরাপত্তা ও শক্তি ভারসাম্যকেও নতুনভাবে প্রভাবিত করছে। এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি ভারতের বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থকে সংহত করবে। এই RELOS চুক্তি ভারতের আঞ্চলিক কৌশল ও নিরাপত্তা অবস্থানকে দৃঢ় করছে। RELOS চুক্তি বাস্তবায়ন এবং পুতিনের সফর দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্যকে নতুন পথে পরিচালিত করতে পারে।












Discussion about this post