এখনই ফাঁসি হচ্ছে না ইয়েমেনে বন্দি ভারতীয় তরুণী নিমিশা প্রিয়ার! মাত্র ২৪ ঘন্টা আগে তাঁর মৃত্যুদণ্ড আপাতত স্থগিত রেখেছেন ইয়েমেনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। জানা যাচ্ছে, এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেন ভারতের সুফি নেতা মুসলিয়ার। তাতেই আপাতত কাজ হয়েছে।
ইয়েমেন বর্তমানে মুসলিম কট্টরপন্থী হাউথি গোষ্ঠীর শাসনাধীন। সেখানে হাউথি নিয়ন্ত্রণ আদালত ভারতীয় নার্স নিমিশাকে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছিল। বুধবারই তাঁর ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল। কেরলের পালক্কাড়ের বাসিন্দা নিমিশা নার্সের কাজ নিয়ে ২০০৮ সালে ইয়েমেনে গিয়েছিলেন। পরে ২০১৭ সালে এক ব্যবসায়িক সঙ্গীকে খুনের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় ২০১৮ সালে দোষী সাব্যস্ত হন নিমিশা। তাঁর ফাঁসির নির্দেশ দেয় ইয়েমেনের আদালত। ওই ভারতীয় নার্সের ফাঁসি আটকানোর জন্য সবরকম চেষ্টা চালানোর জন্য ভারত সরকারের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নিমিশার পরিবারের সদস্যেরা। এমনকি ভারতের সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হয় তাঁর পরিবার। কিন্তু আদালতে কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিল, এই বিষয়ে তাদের যা যা করা প্রয়োজন, সে সবই করা হয়েছে৷ মোদি সরকারের দিক দিয়ে আর বিশেষ কিছু করার নেই। ফলে সকলেই ধরে নিয়েছিলেন, বিদেশ বিভূয়ে নিমিশা প্রিয়ার ফাঁসি হচ্ছেই। এরই মধ্যে ফাঁসির সাজা রদে হস্তক্ষেপ করেন এক সুফি নেতা। ৯৪ বছর বয়সি সুফি নেতা শেখ আবুবকল আহমদ ভারতের গ্র্যান্ড মুফতি খেতাব পেয়েছেন ৷ তিনি ইয়েমেনের ধর্মীয় সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা করেন এবং ইয়েমেনের এক প্রভাবশালী সুন্নি মুসলিম নেতা কান্থাপুরম এপি আবুবাকার মুসলিয়ারের তরফে মাহদির পরিবারের সঙ্গে নিমিশা প্রিয়ার পরিবারের আলোচনার ব্যবস্থা করেন। তাতেই কিছুটা বরফ গলে। অন্যদিকে সব রকম চেষ্টা চালিয়েছে ভারত সরকারও। বিষয়টি স্বর্শকাতর হওয়ার পরেও ভারতীয় আধিকারিকেরা ইয়েমেনের স্থানীয় কারা কর্তৃপক্ষ এবং আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। তারই ফলে মৃত্যুদণ্ড আপাতত স্থগিত করানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
উল্লেখ্য, নিহতের পরিবার ধামার গোষ্ঠীর অন্তর্গত। এতদিন পর্যন্ত তাদের সঙ্গে কথা বলার কোনও উপায় ছিল না। এই প্রথম মৌলানার হস্তক্ষেপে নিমিশা প্রিয়ার হয়ে আর্জি জানানো সম্ভব হল। আপাতত তাতেই স্বস্তির নিঃশাস নিমিশা প্রিয়ার পরিবারে। মৌলানা কান্থাপুরমের অফিসের তরফে জানানো হয়েছে, নিহতের এক আত্মীয় ইয়েমেনের হুদেইয়া স্টেট কোর্টের বিচারক। তিনি ইয়েমেনি সুরা কাউন্সিলেরও সদস্য। ফলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে নিমিশা প্রিয়াকে ক্ষমা করে দেওয়ার আর্জি রাখতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ওই মৌলানা।
জানা যায়, ইয়েমেনে যাওয়ার পরে স্বামী টমি থমাস এবং মেয়ের সঙ্গেই থাকছিলেন নিমিশা। পরে ২০১৪ সালে তাঁর স্বামী এবং ১১ বছরের কন্যা ভারতে ফিরে এলেও নিমিশা ইয়েমেনেই থেকে যান। ইয়েমেনি নাগরিক তালাল আব্দো মাহদির সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল ওই ভারতীয় নার্সের। দুজনে মিলে একটি ক্লিনিক খোলেন তাঁরা। সে দেশের আইন অনুযায়ী, ইয়েমেনে নতুন ব্যবসা শুরু করতে গেলে দেশীয় অংশীদারের দরকার। নতুন ক্লিনিক নিয়েই দুজনের বিবাদ। নিমিশার অভিযোগ, তাঁর পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয় এবং মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছিল। অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে হানান নামে এক সহকর্মীর সঙ্গে মিলে মাহদির দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে জলের ট্যাঙ্কে ফেলে দেন ওই ভারতীয় নার্স। এরপর ইয়েমেন ছেড়ে পালানোর সময় ধরা পড়ে যান নিমিশা। সেই থেকে ইয়েমেনের জেলেই বন্দি ছিলেন তিনি। এখন আপাতত ফাঁসি স্থগিত হল। যদিও ইয়েমেনের কট্টরপন্থী শাসকরা ঠিক কি সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার।












Discussion about this post