ভারতের কিছু মানুষ চাইছে ভারত যুদ্ধ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিক, এবং কোন একটি পক্ষে অবস্থান স্পষ্ট করুক। যার অর্থ অন্য কোন একটি দেশের শত্রুতা অর্জন করুক। অথচ কূটনীতি বলে যে যুদ্ধ ভারতের নয়, সেই যুদ্ধে ভারত কেন জড়াবে।ইরান যেখানে ভারতকে তাদের শত্রু বলে ভাবছে না। সৌদি আরব কাতারের মত মুসলিম দেশগুলিতে তারা আক্রমন করছে, অথচ ভারতকে মানবিক বলে ধন্যবাদ দিচ্ছে।
বিস্তারিত আলোচনার প্রথমে বলে নিই মানবিক কারণে আমরা যুদ্ধই চাই না। তবুও গোটা বিশ্ব জুড়ে যুগ যুগ ধরে যুদ্ধ চলেই আসছে। যুদ্ধ তারাই চাই, যাদের ভবিষ্যৎ সুরিক্ষিত।যুদ্ধের সময় যারা ব্যাঙ্কারে আশ্রয় নিতে পারে, যাদের মধ্যে মানবিকতার লেশ মাত্র নেই। হাজার হাজার অসহায় নারী শিশুর হাহাকার যাদের হৃদয়কে নাড়া দেয় না, যারা ভবিষ্যতের সুরক্ষিত পৃথিবীর কথা বলে, অথচ বর্তমান পৃথিবীই যে মানুষের বাসযোগ্য নয়,তা তারা চিন্তা করে না। তারাই যুদ্ধ চাই।অথচ হাজার হাজার অসহায় শিশু অনাহারে রাস্তায় রাস্তায় বিভ্রান্তের মত ঘুরে বেড়াই, তাদের পরিজনদের হারিয়ে, তারা জানে না তাদের ভবিষ্যৎ কি, তাদের মুখের দিকে তাকালে এটা সভ্য মানুষের পৃথিবী বলে ভাবতে ভয় করে। তবুও যুদ্ধ হয়েছে, হচ্ছে আগামী দিনেও হবে। প্রতিটি দেশের উচিৎ এই যুদ্ধ থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখা। আর এই দিক দিয়ে দেখতে গেলে ভারত অনেকটাই সফল এখন পর্য়ন্ত। তবুও ভারতের কিছু মানুষ খুশি নয়। সৌদি আরবের মত দেশ, যাকে সব থেকে বেশী সুরক্ষিত বলা হয়ে থাকে, সেখানেও মুড়ি মুড়কির মত বোমা পড়ছে। অথচ ভারতবাসী হোলি থেকে ঈদ, সব কিছুই শেলিব্রেশন করছে নিরাপদে। তবুও কিছু মানুষের মনে শান্তি নেই, এই যুদ্ধে ভারতের অবস্থান নিয়ে। অথচ যারা বিভিন্ন দেশে গিয়ে ভারত সরকারের দৌলতে আবার ভারতে ফিরতে পারছে, তারা ভারতীয় বলে নিজেদেরকে গর্বিত বোধ করছে। ধন্যবাদ দিচ্ছে ভারতকে। এমনকি ইরানও ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। তারপরও ভারতের কূটনীতি নিয়ে সমালোচনার শেষ নেই। কারণ হল ইরানের একটি যুদ্ধ জাহাজ ভারত থেকে ইরানে যাওয়ার পথে আমেরিকার দ্বারা আক্রান্ত হয়। আর সেই দোষ নাকি ভারতের। কিন্তু ইরান জানে ভারত ঐ জাহাজকে এই পরিস্থিতিতে ভারত ছাড়তে নিষেধ করেছিল। কিন্তু তারা ভারতের নিষেধ না শুনেই ভারত ছাড়ে। সেখানে ভারতের কি করার আছে। ঐ আক্রান্ত যুদ্ধ জাহাজ ছাড়াও ইরানের আরও দুটি যুদ্ধজাহাজকে আশ্রয় দিয়েছে ভারত, যার কারণে ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ইরান। কেরালার কোচি বন্দরে ইরানের যুদ্ধজাহাজ IRIS Lavan প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে আশ্রয় নেয়। ভারত সরকার মানবিক কারণে জাহাজটিকে আশ্রয় দেয় এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে। এই পদক্ষেপকে ইরান “বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক” হিসেবে উল্লেখ করে ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সংসদে জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত শুধু মানবিক দায়িত্ব পালন করেনি, বরং পশ্চিম এশিয়ার সংকটময় পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক ভারসাম্যও বজায় রেখেছে। ইরানের রাষ্ট্রদূত ভারতের সহযোগিতাকে প্রশংসা করেছেন।ইরান বলেছে, ভারতের এই উদ্যোগ দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।ইরান এটিকে “মানবিক সহায়তা” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সংক্ষেপে বলা যায়, ইরানের যুদ্ধজাহাজকে আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে ভারত শুধু মানবিক সহায়তা প্রদান করেনি, বরং আঞ্চলিক কূটনীতিতে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে—মানবিকতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে।












Discussion about this post