ডাকসু নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতে জাকসু নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠানের কিছুক্ষণ আগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সংরক্ষিত প্যানেল নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। তারা জাকসু নির্বাচনে নানা রকম অনিয়মের অভিযোগ তোলে। এর পাশাপাশি ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগে তিনজন শিক্ষক ও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। তারা নাকি বিএনপিপন্থী শিক্ষক। ব্যালট পেপার নিয়ে চরম অভিযোগ সামনে আসছে। অভিযোগ তুলছে ছাত্রদল।
ডাকসু নির্বাচনে সকলকে অবাক করে জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির অভূতপূর্ব ফল করেছে। তারা কয়েক কদম পিছনে ফেলেছে বিএনপির ছাত্রদল এবং এনসিপি সমর্থিত বাগছাসকে। এরমধ্যে অভিযোগ, জাকসু নির্বাচন সুষ্ঠভাবে হয়নি। এমন অভিযোগ তুলে জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে। ছাত্রদল সমর্থিত জিএস পদপ্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী বলেন, ভোট দেওয়ার সময় ১৫ নম্বর ছাত্রী হলে আঙুলে দেওয়া কালী মুছে যাচ্ছিল। সেই ১৫ নম্বর ছাত্রী হলে একটি ব্যালট পেপার ফ্লোরে পাওয়া গিয়েছে। এই কারণে হলে দু’ঘণ্টা নির্বাচন বন্ধ ছিল। এমনকি আরেকটি হলে, ভোটার তালিকায় ছবি না থাকায় নির্বাচন বন্ধ ছিল।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণে অসংগতির নানা অভিযোগ তুলে জাকসু নির্বাচন বর্জন করছে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল। নেতৃত্বের দাবি,আঙুলে দেওয়া কালি মুছে যাওয়া, ব্যালট পেপার ফ্লোরে ছড়িয়ে থাকা এবং মব সৃষ্টি করে ভোট চুরির করা। কিন্তু এই দাবিগুলির মধ্যে যে দাবিটি সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সেটা হল,জামাত ঘনিষ্টের সংস্থাকে দিয়েই নাকি ব্যালট পেপার ছাপিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রশ্ন উঠছে, জাকসু নির্বাচনে ব্যালট পেপার ছাপলো কে?
এমনকি তানজিলা হোসাইন বলেন, আমাদের প্রশ্ন, জামাত নেতার কোম্পানি থেকে ছাপানো ব্যালট শতকরা ১০ থেকে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত ব্যালেন্স শিবিরকে দেওয়া হয়েছে কিনা? হলগুলিতে আমাদের প্রার্থী ও এজেন্টের বাধা দিয়ে ওই চাল ব্যালট দিয়ে ভোট কষ্ট করা হচ্ছে কিনা? এইসব ঘটনা প্রমাণ করে, টোটালি ইলেকশন ইঙ্গিয়ারিং করা হয়েছে জাকসু নির্বাচনে। কোনভাবেই সুস্থ নির্বাচন হচ্ছে না। এটি একটি পরিপূর্ণ কারচুপির নির্বাচন। প্রহসনের নির্বাচন।
অন্যদিকে ওএমআর এবং ব্যালট পেপার ছাপানোর অভিযোগের বিষয়ে আরিফ উল্লাহ বলেন, এইচ আর সফট বিডি নামে যে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে, তার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রোপনুজ্জামান রনি বিএনপি সমর্থক। অথচ এই নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।
এদিকে আবার জাকসু নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন ও পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের চারটি প্যানেলের প্রার্থীরা। এই চারটি প্যানেল হল সম্প্রীতির ঐক্য, সংশপ্তক পর্ষদ, স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র-ফ্রন্টের আংশিক প্যানেল।
অর্থাৎ যেভাবে ডাকসু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল, জাকসু নির্বাচনেও কারচুপির অভিযোগ উঠছে। পাশাপাশি জামাতের ছাত্রশিবির যে নির্বাচনে জয়ী হয়েছে, তাতে অনেকে বলছেন জাকসুতে তারা জয়ী হতে পারে। অন্যদিকে যেভাবে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে তাতে বিএনপি আশার আলো দেখছে না। তবে ফলাফলের আশায় প্রত্যেকে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডাকসু বা জাকসু নির্বাচনের ফলাফল অনেকটাই জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে। এখন দেখার, শেষমেশ ফলাফল কি বলে!












Discussion about this post