বাংলাদেশে বহু চর্চিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বৃহস্পতিবার। এখন চলছে ভোটগণনার কাজ। মনে করা হচ্ছে, গণনা শেষ হতে হতে শুক্রবার বিকেলও হয়ে যেতে পারে। ফলে কোন রাজনৈতিক দল এবার বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসতে চলেছে, তা নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই। ইতিমধ্যেই গণনাপর্বে কোথাও দাড়িপাল্লা তো কোথাও ধানের শীষ এগিয়ে। যেহেতু এবার নৌকা প্রতীক ব্যালট পেপারে নেই, সেহেতু এই দুই দলের মধ্যে কোনও একটি দলই ভোটের ময়দানে বাজিমাত করবে। তবে ভোটের ফলাফল ত্রিশঙ্কু হলে জাতীয় সরকার গঠনের মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। যদিও ভোট পূর্ববর্তী জনমত জরিপগুলির প্রায় সবগুলিতেই এগিয়ে রাখা হয়েছে বিএনপিকে। তবে আইএলডি নামে একটি সংস্থার জরিপে জামাত জোটকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁদের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ১০৫ আসনে এগিয়ে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট। আর বিএনপি জোট এগিয়ে আছে ১০১টিতে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে ৭৫ আসনে। অন্য প্রার্থীরা এগিয়ে আছে ১৯টিতে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৪৪.১ শতাংশ ভোটার। সেখানে জামাতের পক্ষে রয়েছেন ৪৩ শতাংশের সামান্য বেশি ভোটার। ৬.৫ শতাংশ ভোটার কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি বলে ওই সমীক্ষায় উঠে এসেছে। যদিও বৃহস্পতিবার ভোটের হার বলছে এবার জামাতের দিকেই পাল্লা ভারি। কারণ মোট ভোটের হার ৫০ শতাংশের নিচে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ৩০০ আসনের সংসদ নির্বাচনে জামায়াত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ২১৫ আসনে। বাকি ৮৫ আসনে তাদের দলীয় কোন প্রার্থীই নাই। এরমধ্যে যদি ৫০ শতাংশ আসনও জামায়াতে ইসলামী পায়, তাহলেই তাঁরা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ফলাফল করতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশের ১২.৭ কোটি ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী। সেখানে জামায়াতে ইসলামী একজন নারীকেও ভোটের টিকিট দেয়নি। পাশাপাশি, বিগত আঠারো মাসে জামায়াতের তরফে নারীদের নিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য এবং সিদ্ধান্ত ভোটের ময়দানে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান জানিয়েছিলেন. কোনও নারী জামায়াতের নেতৃত্বে আসতে পারবেন না। এই মন্তব্যের পরও প্রবল বিতর্ক হয়েছিল। ফলে এরপরও যদি তাঁরা অর্ধেক আসনে জেতে, অর্থাৎ ১০০-১০৫টির বেশি আসন পায়, তাহলে তা হবে মিরাকল।
তবে কোনও কোনও মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ১৭০ থেকে ১৭৫টি আসন পেতে পারে। ৬৪ হাজার ৮৯০ ভোটারের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি করা এক জনমত জরিপে এমনই দাবি করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর সোশ্যাল ইনসাইট। তবুও বিএনপির তরফে ভোটের হার জানার পর সাবধানী প্রতিক্রিয়া এসেছে। তারেক রহমান বলেছেন, তাঁরা তাঁদের জোটসঙ্গীদের নিয়েই সরকার গঠনে আগ্রহী। বিএনপি সভাপতি তথা প্রার্থী তারেক রহমান এগিয়ে রয়েছেন ঢাকা-১৭ কেন্দ্রে। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রায় পাঁচ দশকের দ্বি-দলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় জামায়াত কখনোই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারেনি। সেই চেষ্টাও তাঁরা করেওনি এতদিন। বটবৃক্ষের মতো বিশাল বিএনপির ছায়ায় থাকতে চেয়েছে। এবারই প্রথম তাঁরা বিএনপির ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে ১১টি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে ভোটের ময়দানে উপস্থিত হয়েছে। তাও আবার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি। রক্ষে একটাই আওয়ামী লীগ ময়দানে নেই। এখন দেখার, জামাতের ভাগ্যে শিঁকে ছেঁড়ে কিনা।












Discussion about this post