২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। আঠারো মাসের বেশি সময় পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে গণভোটও। মজার বিষয় হল, এই দুটি ভোটে দুটি আলাদা অক্ষের উৎসাহ। মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁদের দোসর জামাত পক্ষের উৎসাহ গণভোট। অন্যদিকে তারেক রহমানের দল বিএনপির উৎসাহ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করতে। এখন দেখার, এ ব্যাপারে কারা এগিয়ে থাকে। কিন্তু যে অভিযোগটা উঠতে হচ্ছে, তাও কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগের দিন অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যে থেকেই বহু জায়গায় ভোটকেন্দ্র দখল করে ছাপ্পা শুরু করে দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। এমনই অভিযোগ, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের। কেউ কেউ বলছেন, ২০১৮ সালে আওয়্মী লীগের নির্বাচনকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে এবারের নির্বাচন।
ভোলা, বরগুণা, চাপাইনবাবগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ. গোপালগঞ্জ-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃহস্পতিবার সকালে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটাররা অভিযোগ করেছেন সকাল সকাল আসলেও তাঁরা ভোট দিতে পারেননি। তাঁদের অভিযোগ, আগেই হয়ে গিয়েছিল। এমনকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতেও এমন কয়েকটি ভোটকেন্দ্র থেকে এমন অভিযোগ সামনে এসেছে। ভোটারদের মূল অভিযোগ করেছেন, সকালের প্রথম ঘন্টায় এসেই দেখেন রাতেই ভোট হয়ে গেছে। বুধবার রাত থেকেই বাংলাদেশের সমাজাকি যোগাযোগ মাধ্যমে এমনই অসংখ্য ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, রাতের অন্ধকারে ভোটকেন্দ্রগুলি দখল নিয়ে ব্যপক ছাপ্পা বা বেআইনি ভোট দেওয়া চলছে। আরও আশ্চর্যের বিষয়, ওই ব্যালটপেপারে নির্দিষ্ট স্থানে ভোটকর্মীদের স্বাক্ষরও রয়েছে। কোথাও দেখা যাচ্ছে, বুধবার রাতেই প্রিসাইডিং অফিসারের কক্ষে বসে বৈঠক করছেন জামায়াত নেতারা। সেখানে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকরা সেই গোপন বৈঠকের পর্দাফাঁস করলেন।
আবার নায়ায়ণগঞ্জ-৩ আসনে রাতের অন্ধকারেই ব্যাপক ভোটদান হয়ে যায়, ব্যালটবক্সে সেগুলিও ভরাও হয়ে যায়। এমনই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। অন্যদিকে বরগুনা পৌরসভা ভোট কেন্দ্রে রাতেই রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ। বেশিরভাগ জায়গায় জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ। সব ক্ষেত্রেই নির্বাচনি আধিকারিকরা জামায়াতের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করছেন বলে অভিযোগ। অর্থাৎ, ভোটগ্রহণের আগের রাতেই তৈরি হচ্ছিল রেজাল্টশিট বা ফলাফলের কাগজ।
অন্যদিকে ভোলা-১ আসন, ঢাকা-১৮ আসনের মতো একাধিক আসনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভোটাররা গিয়ে শুনতে পাচ্ছেন তাঁদের ভোট হয়ে গিয়েছে।
যদিও বাংলাদেশে এই মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা যার দায়িত্ব, সেই সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান এদিন ভোট দিয়েছেন। এরপর তিনি বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি, বাংলাদেশে অত্যন্ত শান্তিপুর্ণভাবে ভোট চলছে। পাশাপাশি তিনি আস্তত্ব করেছেন, সকলে নির্ভয়ে ভোট দিন।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার যাই বলুক। বাংলাদেশে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং চলছে বুধবার রাত থেকেই। যেখানেই জামাত সুযোগ পাচ্ছে সেখানেই তাঁরা রাত থেকেই ভোটের বাক্স ভরিয়ে দিচ্ছে। এখন দেখার মূল ফলাফল কি হয়।












Discussion about this post