বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে আলোচিত হল জুলাই ঘোষণাপত্র। কিন্তু অভিযোগ, মাত্র তিনটি রাজনৈতিক দলকে এই ঘোষণাপত্রের খসড়া পাঠানো হয়েছিল। বাকি রাজনৈতিক দল এই কপি পেয়েছে ৫ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস মানিক মিঁঋা অ্যাভিনিউ থেকে তা পাঠ করার পর। মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ঘোষণাপত্রের একটি কপি প্রকাশ করা হয়েছিল। তাতেই বাকি রাজনৈতিক দলগুলি জানতে পারে, তাতে কি কি আছে। এটা নিয়েও কম বিতর্ক হচ্ছে না বাংলাদেশে।
আসলে বর্তমান বাংলাদেশ মানেই বিতর্ক। আর সেই দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই এখন কার্যত ব্রাত্য। যেমনটা একদা প্রধান সরকারি দল আওয়ামী লীগ। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছিল এক গণ অভ্যুত্থানের জেরে। এরপর ক্ষমতায় আসে এক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যা নেতৃত্বে আবার আন্তর্জাতিক খ্যতনামা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জেরে ক্ষমতায় আসেন। আর আজ তিনিই নাকি বৈষম্যের পরাকাষ্ঠা হয়ে প্রকাশিত হয়েছেন বাংলাদেশে। এই জুলাই ঘোষণাপত্রের প্রতিটি ছত্রে পূর্ব্বর্তী আওয়ামী সীদ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও অভিযোগ ঠাসা। একটি রাজনৈতিক দল চলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। সেই দলের কেন্ত্রীয় বা শীর্ষ নেতৃত্বের কেউ কেউ দুর্নীতি বা আন্যান্য অভিযোগে অভিযুক্ত হতেই পারেন। সেটা আইন ও বিচারবিভাগের কাজ তাঁদের বিচার করা। কিন্তু তা বলে গোটা রাজনৈতিক গলটাই খারাপ, সেটা কোন যুক্তিতে মেনে নেওযা যায়?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের কেউ কেউ মনে করেন, আওয়ামী লীগের কেউ কেউ ছিলেন দুর্নীতি পরায়ণ ও দুর্বৃত্ত। এমনকি কেউ কেউ নেত্রী শেখ হাসিনাকেও একই পর্যায়ে ফেলেন। যদি তিনি এতটাই দোষী হতেন তাহলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বা বিচারের কাঠগড়ায় তাঁকে হাজির করানো যেত। কিন্তু এক গভীর ষড়ষন্ত্রের মাধ্যমে আন্দোলন করে তাঁকে ক্ষমতা থেকে হঠানো হল। মজার বিষয় হস, সেই ঘটনার এক বছর পর অর্থাৎ গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পর বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রকাশ্যে জাতীয় নির্বাচনের সময় ঘোষণা করলেন। তিনি জানিয়ে দিলেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই বাংলাদেশে ভোট হবে।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ৫ আগস্ট যে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করলেন মুহাম্মদ ইউনূস, সেটা নিয়ে বিভ্রান্তি শুরু হয়েছে। বাংলদেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই অভিযোগ করছেন, এটা হতে পারে না। মাত্র কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে আগাম জানিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস এই ঘোষণাপত্র জারি করে বসলেন। তিনি এও জানিয়েছিলেন, সকলেই এবারের নির্বাচনে হাসিমুখে ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু প্পশ্ন উঠছে, বাংলাদেশে এই মুহূর্তের নৈরাজ্য ঠেকাতে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি কী সব কটি রাজনৈতিক দলকে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আহ্বান জানালেন? বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়েই আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শুধু কি তাঁরা, আওয়ামী লীগের সঙ্গে যে চোদ্দ দলের জোট রয়েছে, তাঁরাও এই নির্বাচনে অনিশ্চিন্ত। আবার এমনও অনেক রাজনৈতিক দল আছে, যারা জুলাই আন্দোলনে সামিল হয়েছিল। আজ তাঁদেরও গুরুত্ব দিচ্ছে না অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তাঁরাও নারাজ মুহাম্মদ ইউনূসের ওপর। সবমিলিয়ে নির্বাচন যে সুষ্ঠ ও অবাধ হবে সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না।












Discussion about this post