বাংলাদেশকে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করতে হয়েছিল বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবর রহমানকে। ভারত ও অন্যান্য রাষ্ট্রের সহযোগিতায় যে আসতে আসতে বাংলাদেশ গড়ছিলেন সেই মুজীব কন্যা শেখ হাসিনার আজ করুণ পরিণতি। স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে ফাঁসির সাজা পেলেন শেখ হাসিনা। হিংসায় উস্কানি দেওয়া, হত্যার নির্দেশ এবং দমনপীড়ন আটকানোর ক্ষেত্রে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা এই তিন অভিযোগে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ১৭ ই নভেম্বর ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। এই রায়ের ধিক্কার জানিয়েছে বিশ্বের দেশ গুলি। তারা বলেন গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হাসিনা। হাসিনাকে টেনে ক্ষমতাচ্যুত করানোর পিছনে হাসিনা ঘনিষ্ট ওয়াকার – ই।
বাবার আদর্শে চলে উত্তরাধিকারী রূপে এবং স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের জনপ্রিয়তাকে সঙ্গী করে বাংলাদেশের সর্ব্বোচ্চ শীর্ষ নেতৃত্বের পদে পৌঁছেছিলেন হাসিনা। একসময়ের গনত্রান্তিক সংগ্রামের সঙ্গী তথা সাড়ে ১৫ বছর দেশ শাসন করার পর হাসিনাই অবশেষে স্বৈর শাসকের তকমা নিয়ে গণ অভ্যুথানে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। বাংলাদেশের কোনও সরকার এর আগে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হননি কিন্তু এই প্রথম মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হলেন মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা। হাসিনা সরকার পতনের পর তাকে নিয়ে নানান অভিযোগ ও মন্তব্য করে গেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বাংলাদেশের জনগণ সেই অভিযোগ ও মন্তব্য শুরুতে বিশ্বাস করলেও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাদের কাছে সবটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে যায়। ফলে তারা সত্যিটা বোঝার পর অন্তর্বর্তী সরকারের দিক থেকে মুখ ফেরাতে শুরু করেন।
সম্প্রতি শেখ হাসিনা একাধিক সাক্ষাৎকারে সেনাপ্রধান ওয়াকারের সম্মন্ধে বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন। সর্ষের ভিতরেই যে ভূত তা তিনি জনসমুক্ষে সবটা জানিয়েছেন। ওয়াকার নিজের পদ ও ক্ষমতা ধরে রাখার লোভে দেশের প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট হওয়ার পরেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিস্বাসঘাতকতা করে প্রধানমন্ত্রীকে টেনে হিচড়ে তার পদ থেকে নামিয়েছেন। বাংলাদেশে হাসিনার বিরুদ্ধে গণ অভ্যুত্থানের আগের দিন অর্থাৎ ৪ ই অগাস্ট গভীর রাত পর্যন্ত ওয়াকার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে উচ্ছ পর্যায়ের বৈঠকের পর বৈঠকের সকল তথ্য অন্য রাজনৈতিক দলের কাছে বলেছিল। হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও হাসিনাকে না জানিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নিজে নিয়েছে ওয়াকার উজ্জামান। গণভবনে হামলা করার জন্য ওয়াকার – ই জনগণকে উসকে ছিল। সরকারের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সরকারের নির্দেশকে উপেক্ষা করে রাজধানী ঢাকায় ঢোকার সমস্ত রাস্তা থেকে সকল সেনাবাহিনী তুলে নিয়েছিল ওয়াকার। ফলে খুব সহজেই ষড়যন্ত্রকারীরা গণভবন হামলা করতে সক্ষম হয়েছে।
এতকিছু দেশদ্রোহিতা করেও ওয়াকার সবার চোখে ভালো সেজে সদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হাসিনার ঘনিষ্ট হওয়ার পরও মুজিব কন্যাকে পিছন থেকে ছুড়ি মেরে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে ওয়াকার দেশে ঠিকই নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। হাসিনাকে এত ষড়যন্ত্র করে ফাঁসির সাজা শোনানো হলে ঘর শত্রু বিভীষণ ওয়াকার কে কেন কোনও সাজা দেওয়া হল না প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।












Discussion about this post