যদি দিল্লী বিস্ফোরণে বাংলাদেশ যোগ না পাওয়া যেত, তাহলে কি খলিলুর সাহেব ডোভাল সাহেবের ডাকে দিল্লী আসতেন। বাংলাদেশ যে ভারতে সন্ত্রাসী কাজে মদতদাতা হিসাবে কাজ করে চলেছে, তার প্রমাণ কিছু দিন আগেই ভারতীয় সেনা অফিসাররা ঢাকায় গিয়ে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে এসেছে। এবং সেটিও সেনাপ্রধানকে সঙ্গে নিয়ে। কোথায় কোথায় সন্ত্রাসী ঘাঁটি তৈরী হয়েছে, তার নিখূঁত ছবি আছে ভারতের কাছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখন আর বাংলাদেশ নেই, তারা পাকিস্তানে ফিরে গেছে সরকারী ভাবে, সরকারী ভবে বলার কারণ বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশী মানুষ এখনও মুক্তিযুদ্ধকেই তাদের স্বাধীনতা মেনে সম্মান করে। আর সেই মুক্তিযুদ্ধই হল পাকিস্তানের লজ্জা জনক হারের নিদর্শন। তাই ৫ই আগস্টের পর যত আক্রোশ ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ কে নিয়ে। শুধু পাকিস্তানের সঙ্গে গলা জড়াজড়িই নয়, পাকিস্তানকে নিস্পাপ তকমা দিতে, কেউ বলছে মুক্তি যুদ্ধে পাকিস্তান লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করেনি। বাংলাদেশই পাকিস্তানের সঙ্গে অন্যায় করেছে আলাদা দেশ চেয়ে যুদ্ধ করে। কেউ আবার বলছে এটা ভারত তাদের সুবিধার জন্য করিয়েছে। কিন্তু এখনও জামাত সাহস করে বলতে পারছে না, তারা আবার পাকিস্তানে ফিরে যেতে চায়। তবে কাজ কর্মে তার প্রমান দিচ্ছে। যেমন ৭১এর যুদ্ধের সময় রাজাকারেরা করত, এখন আওয়ামীলীগের সঙ্গে তাই করা হচ্ছে। আওয়ামীলীগের যে নেতা কর্মীরা প্রবাসে আছে বা লুকিয়ে আছে, জামাতের লোক জন তাদের বাড়ী গিয়ে মহিলাদের সঙ্গে গণিমতের মাল হিসাবে ব্যবহার করছে। অথচ দেশের মানুষকে গণতন্ত্রের অধিকার দিয়ে, যে শিক্ষিত ছাত্ররা আন্দোলোন করল, তারা এই নিয়ে মুখে কুলুপ দিয়েছে, অথবা তারাও রাজাকারের মত মজা নিচ্ছে। দিল্লী বিস্ফোরণের পর যখন বাংলাদেশের দিকে সরকারীভাবে বা সমাজ মাধ্যম থেকে কোন অভিযোগের আঙুলই উঠেনি, তখনই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন মিডিয়াতে বলেন যে তারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়। মানে ঠাকুর ঘরে কে আমি তো কলা খায়নি। যেখানে তার উচিৎ ছিল সরকারী ভাবে দিল্লী বিস্ফোরণের নিন্দা করা, এবং তদন্তে সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া, সেটি না করে তারা বুঝিয়েই দিয়েছে তারা যুক্ত। ফলে ভারত দিল্লী বিস্ফোরণের পর বাংলাদেশ নিয়ে কি ভাবছে অথবা বাংলাদেশের মধ্যে ভারত বিরোধী কার্যকলাপের কতটা প্রমান জোগাড় করেছে।
সেই সবের আভাস পেতে একদিন আগেই দিল্লী এসেছিলেন বাংলাদেশে জাতীয় নিরপত্তা উপদেষ্টা। কিন্তু দিল্লী বিস্ফোরণ নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে ফলে এই নিয়ে কিছু না বললেও, ডোভাল সাহেব বাংলাদেশের জাতীয় নিরপত্তা উপদেষ্টাকে বলেছেন, ৫ই আগস্টের পর বাংলাদেশে পাকিস্তানের গতিবিধি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে ভারতের কোন আপত্তি নেই। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে কোন দেশে কে আসবে সেটি সেই দেশের ব্যাপার। তবে ভারতীয় সীমান্তে এমন কোন লোক জনের আনা গোনা ভারত মেনে নেবে না, যাতে ভারতের নিরপত্তা বিঘ্নিত হয়। শুধু দিল্লী ব্লাস্ট নয়, কিছু দিন আগে মুর্শিদাবাদে যে স্থানীয়ভাবে দাঙ্গা হয়েছিল, সেখানেও আনসারউল্লা বাংলা টিমের লোক জন জড়িয়ে ছিল।ডোভাল সাহেব বলেছেন তোমরা আনসারউল্লা বাংলা টিমের প্রধান জসীমুদ্দীনকে ছেড়ে দিয়েছ, সে এখন ভারতে জঙ্গীবাদের মদত দিচ্ছে। ৫ই আগস্টের পর বাংলাদেশ সেই সব জঙ্গীদেরও ছেড়ে দিয়েছে যাদের বিরুদ্ধে শুধু ভারতেই নয়, বাংলাদেশেও অপরাধী হিসাবে সাজা ঘোষনা হয়েছিল। তারা এখন ভারত বিরোধী কাজে যুক্ত। তাছাড়া দেশের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে, সরকারী পদে থেকে কিভাবে ভারতের অংশকে নিজেদের ম্যাপে ঢুকিয়ে অন্য দেশে সেগুলি প্রচার করছে বাংলাদেশের তদরকী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস। যদিও ভারতের এই গোয়েন্দা প্রধান হাসতে হাসতেই জানতে চেয়েছিলেন। তবে শুধু দিল্লী বিস্ফোরণে উপদেষ্টাদের যোগ সাজেসই নয়, গত ১৫ মাসে বাংলাদেশ, কি কি ভাবে এবং কোথায় কোথায় ভারত বিরোধীত কার্য কলাপ সংগঠিত করেছে তার সমস্ত নথি প্রমান সহ খলিলুর সাহেবকে দেওয়া হয়েছে। এবং এই ভাবে ভারত বিরোধীতা চলতে থাকলে, ভারত কোন উপদেষ্টার জন্য কোন সেফ এক্সিট এর ব্যবস্থা যে করবে না, তাও ঠারে ঠরে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তো খলিলুর সাহেব কি বুঝলেন তা বোঝা যাবে তিনি বাংলাদেশে ফিরে সাত দিন কাটার পর। সেখানে সরকারে মধ্যে কতটা পরিবর্তন এসেছে তার উপর।তবে ভারতের কঠিন অবস্থান দেখার পর তিনি, নিজের সরকারের বেশ কিছু ভুল নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ৫ই আগস্টের পর আওয়ামীলীগের বহু নেতাকর্মীকে বিনা বিচারে আটকে রাখা হয়েছে। যাদের অপরাধের সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু যে প্রশ্নটি দুই দেশের মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে যে,হাসিনার আদেশে যদি ১৪০০ মানুষকে খুন করা হয়ে থাকে, যদিও সংখ্যা নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি আছে। তাহলে হাজার হাজার পুলিশকে পুড়িয়ে ঝুলিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হল, বহু সাধারণ আওয়ামীলীগের নেতা কর্মী থেকে সংখ্যালঘুদের গুম খুন করা হল তার দায় কে নেবে। এই দিনই যেমন শেষ দিন নয়, তেমন এই বিচারও শেষ বিচার নয়। আবারও বিচার হবে।












Discussion about this post