গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার চোখের জলে বিদায় নিলেন বিএনপি নেত্রী তথা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ভোর তখন ছটা খালেদার চিকিৎসকের টিম উদ্বেগের সঙ্গে জনসমক্ষে প্রেস কনফারেন্স করে এই দুঃসংবাদটি জানানোর সাথে সাথে বুলেটের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে বেগম জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ। 80 বছর বয়সে প্রয়াত হন বিএনপি সভানেত্রী যিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মৃত্যু
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অপরিহার্য ক্ষতি বলে মত রাজনৈতিক বিশেষকদের। সে দেশের বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন সাথে খালেদার মৃত্যু বাংলাদেশের এক অপরিসীম ক্ষতি বলেও প্রকাশ করেছেন। দেশের সংসদীয় নির্বাচনে কখনও পরাজিত হননি বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। কেমন ছিলেন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে খালেদা জিয়া কেমনই বা ছিল তাঁর শাসনে তৎকালীন বাংলাদেশ। আসুন জেনে নিই এই প্রতিবেদনে-
গত প্রায় চার দশক ধরে বাংলাদেশের নির্বাচনে খালেদা জিয়া অন্যতম জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনটি সংসদীয় নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রতিবারই পাঁচটি আসনে প্রার্থী ছিলেন। শুধু তাই নয় বিরাট ক্ষমতা নিয়ে সবগুলো আসনে তিনিই জয়লাভ করতেন। সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সেবারও ব্যতিক্রম ঘটেনি, সেই নির্বাচনেও তিনি সবগুলো আসনেই জয়ী হয়েছেন।
তারপরে রাজ্য রাজনীতির মধ্যে ঝড় ওঠে বাংলাদেশের শেখ হাসিনা ও তার আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে পরাজয় করে ক্ষমতায় আসে এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই ছিল সাপ ও নেউলের সম্পর্ক। আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি। আর দুর্নীতির মামলায় দু-বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আদেশে ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি বেগম খালেদা জিয়া। সবশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনও বয়কট করে বিএনপি। অর্থাৎ ২০১৪ সাল থেকে নির্বাচনের বাইরে ছিলেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। এরই মধ্যে আবারও ২০২৪ আগস্ট মাস বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঝড় ওঠে। ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পড়ে দেশ ছেড়ে পালাতে হয় আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে। ক্ষমতার অলিন্দে আছেন শান্তিতে নোবেল জয়ী মুহাম্মদ ইউনূস যদিও তার ক্ষমতার রাজত্বে দেড় বছরের মধ্যেই বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরি হয়। বাংলাদেশ শাসন করতে গিয়ে ল্যাজে-গোবরের অবস্থা হয় ইউনূসের। এবং সদ্য তার উপদেষ্টা মহল থেকে নির্বাচনের ঘোষণা করা হয় ২০২৬ ফেব্রুয়ারি মাস বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন। একদিকে আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া অন্যদিকে বিএনপি’র পালে হাওয়া লাগা। এরই মধ্যে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল। তারই মধ্যে ঘটে গেল এই চরম দুঃসংবাদ।
খালেদা জিয়া ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন বাংলাদেশে।এর মধ্যে দ্বিতীয় দফার দায়িত্বকাল ছিল একমাস।
তাঁর সম্পর্কে বিএনপি-র চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইংশ শায়রুল কবির খান জানান ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপি বিজয়ী হয়। ওই বছরই বেগম জিয়া পঞ্চম সংসদে প্রধানমন্ত্রী হন। তাঁর নেতৃত্বে সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার পদ্ধতি থেকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার পদ্ধতিতে প্রবর্তিত হয়। অন্যদিকে ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের পর এক মাসের জন্য ষষ্ঠ সংসদের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রণয়নের পর ওই বছর সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে যায় খালেদা জিয়ার দল বিএনপি, তিনি হন প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা।১৯৯৯ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি, গোলাম আজমের নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামী ও শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোটের সমন্বয়ে গঠিত চারদলীয় ঐক্যজোটের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২০০১ সালে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে নির্বাচনের পর বিরোধী দলীয় নেত্রী হন খালেদা জিয়া।
জীবন দশায় এটাই ছিল খালেদা জিয়ার নেত্রী হিসেবে শেষ পদ। তাঁর প্রয়াণ কাঁদিয়ে তুলেছে বাংলাদেশকে একইভাবে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন ঘোর বিরোধী শেখ হাসিনাও।
সাবেক রাষ্ট্রপতি স্বামীর পাশের কবর ই খালেদার শেষ ঠাঁই হলো বাংলাদেশে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post