বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এই উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতিভবন তথা বঙ্গভবনে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। উল্লেখ করা যেতে পারে, এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৮ মাস পর মুখোমুখি দেখা হল রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এবং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের। কিন্তু দুজনের মধ্যে সেভাবে সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ হল কই? রবিবারের ওই অনুষ্ঠানের ভিডিও ফুটেজ দেখা গেল, অনুষ্ঠনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টা একই সাথে ঢুকলেন। কিন্তু অত্যন্ত দৃষ্টিকটুভাবে মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রপতির উল্টোদিকে হাঁটা লাগালেন। যা রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদার অবমাননার সামিল বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। আসলে গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে একেবারেই ভালো সম্পর্ক নেই। এটা ১৫ মাস পর এসেও থেকে গেল। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই মুহূর্তে মুহাম্মদ ইউনূসের পরিস্থিতি একেবারেই ভালো নয়। তবুও তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সদ্ভাবে নেই।
উল্লেথ্য সপ্তাহ তিনেক আগেই যখন মুহাম্মদ ইউনূস সরকার বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোটের ঘোষণা করেছিলেন, তখন এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। তিনি সেবার আক্ষেপের সুরেই দাবি করেছিলেন, জাতীয় সংসদের নির্বাচন এবং জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটের পালা মিটলেই ইস্তফা দেবেন। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘আমি অপমানিত হচ্ছি। তাই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তখনই অনেকে মনে করেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছেন। আর সেই চাপ এসে পড়েছে রাষ্ট্রপতির উপরেই। তাই তিনি যারপরনাই বিরক্ত। উল্লেখ্য, নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন হলেও বাংলাদেশের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে না। তাঁর কার্যকাল আরও কয়েক বছর রয়েছে। অর্থাৎ তিনি কার্যকালের আগেই পদত্যাগ করতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন। এর পিছনে যে প্রবল চাপ ও ক্রমাগত অপমানিত হওয়ার ঘটনাই রয়েছে সেটাও অনেকে বলতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু এই মুহূর্তে মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই প্রবল চাপে রয়েছেন। একদিকে দেশের আভ্যন্তরীণ চাপ অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চাপ। দুইই সামলাতে হচ্ছে তাঁকে। এই আবহে অনেকেই মনে করেছিলেন, পুরোনো বিবাদ ভুলে হয়তো রাষ্ট্রপতি মোহম্মদ সাহাবুদ্দিনকে সৌজন্যতা দেখাবেন ইউনূস। কিন্তু তিনি স্বভাবসূলভ দাম্ভিকতায় তার ধার ধারেননি। অনুষ্ঠানের শুরুতেই রাষ্ট্রপতিকে পাশ কাটিয়ে সোজা অন্যদিকে হেঁটে গেলেন। ভিডিওয় দেখা গেল, সাহাবুদ্দিন চুপ্পুও মাথা নিচু করে একাই গিয়ে চেয়ারে বসলেন। আসলে সাংবিধানিক বাধ্যবাধ্যকতা থেকেই বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিকে শপথ গ্রহন করাতে হল রাষ্ট্রপতিকে। আর সেই একই কারণে প্রধান উপদেষ্টাকে উপস্থিত থাকতে হল ওই অনুষ্ঠানে। কিন্তু একটাও কি সৌজন্য সাক্ষাৎ বা একসাথে হাসিমুখো ছবি তোলা যেত না? আসলে ইউনূস আছেন ইউনূসেই। তিনি এখনও পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার আশা জিইয়ে রাখছেন। তাই উপেক্ষা বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে।












Discussion about this post