বাংলাদেশে আজ এক শোকের দিন। চিরনিদ্রায় পরলোক গমন করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই শেষে অবশেষে আজ প্রয়াত হলেন তিনি।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সে দেশের বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে খালেদা জিয়ার মৃত্যু রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। বিএনপি দলের পক্ষ থেকে সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার ক্ষমতায় এসেছেন তিনি। একদিকে বিএনপি অন্যদিকে আওয়ামী লীগ একদিকে খালেদা একদিকে হাসিনা ছিল বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছিল সাপে-নেউলের সম্পর্ক। তবে যদিও আজ খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অডিও বার্তায় শোক প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনা। খালেদা জিয়ার শাসনকাল রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুরু থেকেই বিতর্কও পিছু ছাড়েনি তাকে। বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা ভুরি ভুরি দুর্নীতির অভিযোগ আর্থিক তচরুপের অভিযোগ আজও তাড়া করে বেড়ায় খালেদা জিয়াকে। বিশেষ করে দুর্নীতির অভিযোগে বারবার শিরোনামে উঠে এসেছিলেন বাংলাদেশের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লিগ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার অভিযোগ তুলেছিলেন খালেদা জিয়া তাঁর ছেলে তারেক রহমানের নামে বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি কিনেছেন। এমনকি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শোনা যায় কোন একটি নির্দিষ্ট দেশে নয় বরঞ্চ বিভিন্ন দেশে যেমন বেলজিয়াম, মালেশিয়া, দুবাই, সৌদি আরব, লন্ডনের মতন জায়গায় কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি কেনা হয়েছে বাংলাদেশের টাকা ধ্বংস করে। এমনকি মালিকানায় রয়েছেন তারেক রহমান এবং খালেদা জিয়া স্বয়ং নিজে। যদিও মালিকানার দাবি করা হলেও এসব অভিযোগ বরাবরই খারিজ করেছে খালেদা জিয়া ও তাঁর দল বিএনপি। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদের পরিমাণ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিশাল বহর সম্পত্তির মালিক খালেদা জিয়া দেশে-বিদেশে রয়েছে প্রচুর সম্পত্তি। জানিয়ে বারংবার গর্জে উঠেছিলেন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ।
তার থেকেও বড় বিষয় সমস্ত সম্পত্তির দুর্নীতি ছাপিয়ে গিয়েছিল ‘জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট’ দুর্নীতি। যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশে।এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন খালেদা জিয়া। হাসিনার রাজত্বে ওই মামলায় বাংলাদেশের আদালত তাঁকে ১৭ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। সেই সময় থেকেই একাধিকবার অসুস্থ হয়ে পড়ার জন্য পরবর্তীতে তিনি জামিন পান। অন্যদিকে ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময়ে গঠিত ‘শহিদ জিয়াউর রহমান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’ কে কেন্দ্র করেও একাধিক অভিযোগ বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রাস্টের নামে অবৈধ উৎস থেকে ‘কালো টাকা’ সংগ্রহ করত খালেদা জিয়া।
এছাড়াও ২০০৫ সালে কাকরাইলে ৪২ কাঠা জমি কেনার সময় জমির আসল দামের থেকে অনেক বেশি টাকা জমির মালিকদের দিয়েছিল খালেদার সরকার। কিন্তু উপযুক্ত প্রমানের অভাবে আদালতে ছাড় পেয়ে যান খালেদা। এছাড়াও ২০০৫ সালের ৯ জানুয়ারি তেজগাঁওয়ের একটি ব্যাঙ্কে খোলা সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ‘কালো টাকা’ সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। এই মামলাতেও দোষী সাব্যস্ত হন। কারাদণ্ডের সাজা দেয় বাংলাদেশ আদালত। এইরকম দেশে বিদেশে ভুরি ভুরি দুর্নীতির অভিযোগ আছে বেগম খালেদা জিয়াকে কেন্দ্র করে।বর্তমানে বাংলাদেশে খালেদার সম্পত্তির পরিমাণ এবং বিদেশে তারেকের বিপুল সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।বিএনপির চেয়ারপারসন এবং তিনবারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শেষকৃত্য হবে বুধবার। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা এবং সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে হবে এই কবর দেওয়ার কাজ। তাঁর স্বামী প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশেই তাঁকে কবর দেওয়া হবে। মঙ্গলবার দুপুরে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নেন বিএনপি-র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির।বৈঠকে তিনি খালেদা জিয়ার শেষকৃত্য এবং কবরের বিষয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন ইউনূস সরকার। এছাড়া বুধবার সারাদেশে সাধারণ ছুটি থাকবে। মঙ্গলবার, সাংবাদিকদের জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদ। মঙ্গলবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মহম্মদ ইউনূস বলেন ‘প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং আগামীকাল তাঁর শেষকৃত্যের দিনে এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছি।’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post