২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন বা আগস্টের গণঅভ্যুত্থান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বই সামনে থেকে লড়াই চালিয়ে বাংলাদেশে পালাবদল এনে দিয়েছিল বলা যায়। কিন্তু সময় যত এগিয়েছে পালাবদলের পর এই ছাত্র নেতা-সমন্বয়করা ততই নিজেদের রূদ্ররূপ মেলে ধরেছেন। ধরাকে সরা জ্ঞান করা এই ছাত্র নেতারা গোটা বাংলাদেশে দাপিয়ে বেরিয়েছেন, মব সৃষ্টি করে দাবি আদায় থেকে হুমকি, তোলাবাজি, চাঁদাবাজির নতুন নতুন নজির গড়েছিল ছাত্ররা। এরপর তাঁরা একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে বেশ ঘটা করে। যার নান জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগেই তাঁরা প্রথম ধাক্কাটি খেল। একক ক্ষমতায় ভোটে জেতা যাবে না বুঝেই তাঁরা জোটের আলোচনা শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট বেঁধে ভোটে লড়ার সিদ্ধান্ত নেন নাহিদ, সারজিস, হাসনাতরা। যা কার্যত মেনে নিতে পারেননি এনসিপির অন্য একটি গোষ্ঠী। সেই থেকেই এনসিপিতে ভাঙনের শুরু। এনসিপি থেকে নতুন রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়ে যায়। মূলত এনসিপির মধ্যে বাম ও মধ্যপন্থী মতাদর্শের তরুণদের উদ্যোগে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে মাস দুই আগে। এই দলটির নাম দেওয়া হয় এনপিএ বা নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন। এবার ফের এনসিপি ভেঙে আরেকটি প্ল্যাটফর্ম বা দল গঠনের উদ্যোগ সামনে আসছে। আর তা করছেন মেটিকুলাস ডিজাইনের জনক মাহফুজ আলম।
জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের উদ্যোগে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ হয়ে গিয়েছে। শুক্রবার ‘অল্টারনেটিভস’ নামের এই প্ল্যাটফর্মের ১৭ সদস্যের জাতীয় সাংগঠনিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন জাতীয় নাগরিক পার্টির সাবেক নেতা৷ অল্টারনেটিভসের ফেসবুক পেজে এই কমিটিসংক্রান্ত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর পর মাহফুজ আলমের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ওই পোস্ট শেয়ার করা হয়। সাংগঠনিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে পরে ন্যাশনাল অর্গানাইজিং কমিটির সদস্যসংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে অল্টারনেটিভসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। ফলে আঁটঘাঁট বেধেই যে মাহফুজ আলম মাঠে নেমেছেন তা বোঝা যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তরুণ ছাত্রনেতাদের মধ্যে এত বিভেদ কেন!
অলটারনেটিভস’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, নতুন রাজনৈতিক চিন্তার বিকাশ এবং জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার হৃত স্বপ্ন পুনরুদ্ধার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যেই আগামী দিনে দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে মাহফুজের নতুন দল। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক যোগাযোগ এবং আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক-জনতাকে এক করে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার কাজ করেছে মাহফুজের অলটারনেটিভস। এই কাজে মাহফুজের সঙ্গে রয়েছেন এনসিপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনূভা জাবিনও। তিনি গত বছর ২৮ ডিসেম্বর এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষমতার স্বাদ পাওয়া ছাত্র নেতা-সমন্বয়করা নিজেদের ধরে রাখতে পারেননি। একটি অংশের মতে, যে স্বপ্ন নিয়ে তাঁরা আন্দোলন শুরু করেছিলেন তা মাঝপথেই হাইজ্যাক হয়ে যায়। তাঁরা মূলত সরকারি চাকরির কোটা বিরোধী আন্দোলনে রাস্তায় নেমেছিলেন। কিন্তু পরে এক গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সেটা হাসিনা হঠাও আন্দোলনে পরিণত হয়। এখানেই তরুণদের স্বপ্ন চুরমার হওয়ার শুরু। এরপর ক্ষমতা এবং মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশ্রয়ে তরুণ ছাত্রদের লক্ষ্য অন্যদিকে ঘুরে যায়। যার ফল এখন ভুগতে শুরু করেছে এনসিপি। রাজনৈতিক দল হিসেবে যাত্রা শুরু করে প্রথম ভোটের আগেই যেমন ভাঙন ধরে এনসিপিতে। তেমনই ভোটের ময়দানে ধরাসায়ী হয় এনসিপির অনেক রাঘব বোয়াল। এবার মাহফুজ এনসিপি ভাঙিয়ে নতুন দল গড়ে নিলেন। আগামীদিনে আদৌ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারেবে তো জাতীয় নাগরিক পার্টি?












Discussion about this post