বিএনপি সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বেশ কয়েকটি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। সেই সব পরিস্থিতির অধিকাংশ ছিল রাজনৈতিক। সরকার গঠন হওয়ার এক মাসের মধ্যে ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড করিয়ে দিল বিএনপি সরকারকে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কমবেশি প্রভাব সব দেশেই পড়েছে। তবে বাংলাদেশ প্রভাব বেশ গুরুতর। ইউনূস সরকারের গত দেড় বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ছিল বেশ রুগ্ন। জ্বালানি সংকট দেশটাকে কার্যত ভেন্টিলেশনে পাঠিয়ে দিয়েছে। সরকার বলছে, দেশে তেলের মজুত রয়েছে। সরবরাহে কোনও প্রভাব পড়বে না। কিন্তু বাস্তবচিত্র বলছে অন্যকথা। রাজধানী ঢাকা সহ দেশের সব পেট্রোলপাম্পে গাড়ির লম্বা লাইন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন আগামীদিনে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হতে পারে। শুরু হয়েছে Panic buying.
আগে জানা দরকার এই Panic buying বলতে কী বোঝায়? অর্থনীতিতে Panic buying বলতে বোঝায় ভয় বা আতঙ্ক থেকে ক্রয় করা। সম্ভাব্য সংকটের কথা মাথায় রেখে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সংরক্ষণ বা মজুত। এই ধরনের ক্রয়ের মূলত তিনটি বৈশিষ্ট্য আছে। প্রথম Panic buying is a type of behavior marked by a rapid increase in purchase volume, typically causing the price of a good or security to increase. অর্থাৎ ভয় বা আতঙ্ক থেকে বাজার থেকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি করে পণ্য ক্রয় করা , যা পরোক্ষভাবে দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটায়।
দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য Panic buying in the financial markets is typically evidenced by a spike in volume with the majority of investors seeking buy positions, made worse by fear of missing out and short squeezes. যখন সবাই একসাথে পণ্য কিনতে থাকে, তখন দোকান বা বাজারে পণ্য ফুরিয়ে যায়, যা বাস্তবে প্রকৃত অভাব তৈরি করে। তৃতীয় বৈশিষ্ঠ যাকে বলা হয় বলা হয় গণমনস্তত্ত্ব। Panic buying may also occur by consumers in an economy who fear that rapid inflation will erode the buying power of their money and so make excessive purchases, driving prices even higher.
এক শ্রেণির মানুষ মনে করে তাদের আগামীদিনে ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, বাজার পড়ে যাবে। জ্বালানির অভাবে পণ্য সরবরাহ ধাক্কা খাবে। তারা তখন প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশ করে পণ্য কিনতে শুরু করে। এটা হল গ্রাহকের দৃষ্টিভঙ্গীতে। বিক্রেতাদের দৃষ্টিভঙ্গীতে Panic buying বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। ক্রেতারাও যে কল্পআতঙ্কে প্রয়োজনের তুলনায় পণ্য ক্রয় করে, বিক্রেতারাও সেই একই আতঙ্কে তারা স্টক ক্লিয়ার করতে থাকে। তারাও মনে করে ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। বা সম্ভাব্য আতঙ্কের কথা মাথায় রেখে তারা তখন ক্রয়ের বদলে সঞ্চয়ের দিকে বেশ করে নজর দেবে। গোটা বিশ্ব এই রকম এক সংকটের সাক্ষী ছিল অতিমারীর সময়। মানুষ ভয়ের চোটে স্যানিটাইজার, মাস্ক কিনতে শুরু করে।
প্রশ্ন হল কেন এই আতঙ্ক? এই আতঙ্কের পিছনে কিছু বাস্তব কারণও রয়েছে। বিশ্বরাজনীতিতে এখন অস্থিরতা চলছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়া স্বাভাবিক। পৃথিবীর বড়ো অংশের তেল এই অঞ্চল থেকে আসে। বাংলাদেশও জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভর। তাই, আন্তর্জাতিকবাজারে সমস্যা তৈরি হলে দেশের বাজারেও সমস্যা তৈরি হয়। কিন্তু বাস্তবতা হল প্রকৃত ঘাটতির চেয়ে গুজব এবং আতঙ্ক বড়ো সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে। এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। একে বলা হয় Self fulfilling shortage
জ্বালানি বাজারে এই আতঙ্ক তৈরি হওয়ার কিছু বাস্তব ভিত্তি রয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার পর কোনও জাহাজ পণ্য নিয়ে যাওয়া আসা করতে পারছে না। বিশ্বে যে পরিমাণ গ্যাস ও তেল সরবরাহ হয়, তার ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সব দেশের জ্বালানি রফতানি করার অন্যতম পথ এই হরমুজ প্রণালী। ফলে, সরবরাহ থমকে যাওয়ার আশঙ্কায় বাজারে এক আশ্চর্যধরনের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। আর তা থেকেই শুরু হয়েছে Panic buying. এর সুযোগে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের একাংশ জ্বালানি মজুত করতে সুরু করেছে। উদ্দেশ্য পরবর্তী সময়ে কালো বাজারে বিক্রি করে দেওয়া। বাংলাদেশে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তারেক রহমান সরকার কীভাবে সেই সংকটের মোকাবিলা করে, সেটাই এখন দেখার দরকার।












Discussion about this post