বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট ক্ষণে ক্ষণে বদল হচ্ছে। একদিকে যখন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস একাধিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ঠিক তখন আবার খবর, রবিবার বিকেলে হঠাৎ করেই প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। যমুনায় হঠাৎ কেন এই সাক্ষাৎকার? কি উঠে এল এই বৈঠক থেকে? প্রধান বিচারপতি আফ্রিকা সফর করে ফিরেছেন বাংলাদেশে। তারপরই এই বৈঠক বলে জানা গিয়েছে।
এই বৈঠক নিয়ে বেশি করে জল্পনা ছড়াচ্ছে, তার কারণ সাধারণত প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ তেমনভাবে লক্ষ্য করা যায় না। যদিও সাক্ষাত করতে কোনও বাধা নেই। তবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকার দেখা যায় প্রধান বিচারপতির। কারণ রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ করেন। তবে কি বাংলাদেশে কিছু ঘটতে চলেছে? সেই কারণেই কি এই বৈঠক? এদিকে সম্প্রতি সেনাবাহিনী বা আন্ত বাহিনী জনসংযোগ দফতর আইএসপিআর থেকে একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কারা কারা ৫ ই আগস্ট এর সময় সেনা দপ্তরের আশ্রয় নিয়েছিল। যদিও প্রথম দিকে সেনাবাহিনীর তরফে বলা হয়েছিল ৬২৬ জন সেনাবাহিনীর কাছে আশ্রয় নিয়েছিল। তখন থেকেই অনেকে দাবি তুলছিলেন, যাতে সেনাবাহিনী তালিকা প্রকাশ করে। তারপর সেনাবাহিনী তালিকা প্রকাশ করে। সেখানেই দেখা যায়, তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান আশ্রয় নিয়েছিলেন সেনানিবাসে। ছিলেন সুপ্রিম কোর্টে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সাত সদস্যের অন্যতম বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিম। এখান থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, নেতৃত্বে মোহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যে অন্তর্বর্তী কালীন সরকার গঠন হল, সেটি তো সংবিধান অনুযায়ী হয়নি। তাহলে সেই সরকার এখন কিভাবে? আসলে তখন বলা হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্ট, যাদের সংবিধানের রক্ষক বলা হয়, সেই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ প্রধান বিচারপতি ওবাইদুল হাসান এর নেতৃত্বে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে যে এখন যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তাতে দেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে। সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে, যেহেতু রাষ্ট্রপতি যেকোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপিল বিভাগের মতামত চাইতে পারে, তাই তিনি এক্ষেত্রে মতামত চেয়েছিলেন। এই ১০৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যদি কোনও সময় রাষ্ট্রপতি নিকট প্রতীয়মান হয় যে আইনের এইরূপ কোনও প্রশ্ন উত্থাপিত হয় বা প্রশ্ন উত্থাপনের সম্ভাবনা দেখা দেয়, যে এমন ধরনের বা এমন জন গুরুত্বপূর্ণ যে সুপ্রিম কোর্টের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন, তাহলে রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগে বিবেচনার জন্য প্রেরণ করতে পারবেন। এবং আপিল বিভাগ বিবেচনায় উপযুক্ত শুনানির পর প্রশ্নটির সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে সে ওই মতামত জ্ঞাপন করতে পারবেন।
কিন্তু সেই সময় সাধারণ জনগণের কাছে এ বিষয়টি এমন ভাবে উত্থাপিত করা হলো, তখনকার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এর নেতৃত্বে আর আপিল বিভাগের আরও ছয় সদস্যের বিচারপতি সম্মিলিতভাবে ঠিক করেছেন, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে। যে তথ্য সামনে এসেছে সেটা অত্যন্ত ভয়ংকর। প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের আর এক বিচারপতি প্রাণ ভয়ে এবং মব জাস্টিসের ভোট ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন। এখানে প্রশ্ন উঠছে, সেই বিচারপতিরা যদি ক্যান্টনমেন্টে থাকেন, তবে কিভাবে, কোন শুনানির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?
প্রশ্ন আরও উঠছে, তারা যখন সেনানিবাসে ছিলেন, তখন কি তাদের উপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল? এখন আবার বর্তমান প্রধান বিচারপতি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে। তবে কি কোনরকম পরামর্শ বা এই বিষয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠক? উঠে আসছে একাধিক প্রশ্ন।












Discussion about this post