সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগের ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। যদিও পরে জানানো হয়, প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করছেন না। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মোহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের নাটক শেষ হয়নি। এটি তিনি জারি রাখবেন। উত্তেজনা জারি রাখবেন জামাত বা বিএনপির মত রাজনৈতিক দলগুলির জন্য। যাতে খুব সহজেই তার উদ্দেশ্যগুলো তিনি বাস্তবায়ন করতে পারেন। অন্যদিকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল, সেগুলি আর গোপন নেই। এমনকি পাকিস্তানি আইএসআই এর পিছনে রয়েছে বলে খবর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এও বলছেন, অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে। তার কারণ তাদের ষড়যন্ত্র একবার দুবার বিফলে গেলেও বারবার যে বিফলে যাবে তা একেবারেই নয়।
এর পাশাপাশি সামনে আসছে, প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ বিষয় প্রশ্ন শেষে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল সেটা অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। বলা হয়েছিল, সরকারের দায়িত্ব পালন অসম্ভব করে তোলা হলে সব কারণ জনসম্মুখে উত্থাপন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত। এখানেই প্রশ্ন হচ্ছে, তবে কি সরকারকে কোনভাবে কেউ ব্ল্যাকমেইল করছে? এর আগে ঐক্যমত কমিশনের উপপ্রধানও একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, যদি সংস্কার করতে না পারেন, তবে ফাঁস করে দিয়ে চলে যাবেন। কিন্তু কি ফাঁস করে দেওয়ার কথা বলছেন তিনি? আর ফাঁস করে দিয়ে কোথায় যাবেন? কে বা করা সরকারকে চাপ দিচ্ছে? আর এর নেপথ্যে কারণ টাই বা কি?
আসলে ৮ ই আগস্ট যখন মহম্মদ ইউনুস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন, তখন বলা হয়েছিল সংবিধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলে কোনও উল্লেখ নেই। তাহলে সেই সরকার এখন কিভাবে? আসলে তখন বলা হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্ট, যাদের সংবিধানের রক্ষক বলা হয়, সেই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ প্রধান বিচারপতি ওবাইদুল হাসান এর নেতৃত্বে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে যে এখন যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তাতে দেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে। সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে, যেহেতু রাষ্ট্রপতি যেকোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপিল বিভাগের মতামত চাইতে পারে, তাই তিনি এক্ষেত্রে মতামত চেয়েছিলেন। এই ১০৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যদি কোনও সময় রাষ্ট্রপতি নিকট প্রতীয়মান হয় যে আইনের এইরূপ কোনও প্রশ্ন উত্থাপিত হয় বা প্রশ্ন উত্থাপনের সম্ভাবনা দেখা দেয়, যে এমন ধরনের বা এমন জন গুরুত্বপূর্ণ যে সুপ্রিম কোর্টের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন, তাহলে রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগে বিবেচনার জন্য প্রেরণ করতে পারবেন। এবং আপিল বিভাগ বিবেচনায় উপযুক্ত শুনানির পর প্রশ্নটির সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে সে ওই মতামত জ্ঞাপন করতে পারবেন।
কিন্তু সেই সময় সাধারণ জনগণের কাছে এ বিষয়টি এমন ভাবে উত্থাপিত করা হল, তখনকার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এর নেতৃত্বে আর আপিল বিভাগের আরও ছয় সদস্যের বিচারপতি সম্মিলিতভাবে ঠিক করেছেন, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে। যে তথ্য সামনে এসেছে সেটা অত্যন্ত ভয়ংকর। প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের আর এক বিচারপতি প্রাণ ভয়ে এবং মব জাস্টিসের ভোট ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন। এখানে প্রশ্ন উঠছে, সেই বিচারপতিরা যদি ক্যান্টনমেন্টে থাকেন, তবে কিভাবে, কোন শুনানির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? প্রশ্ন আরও উঠছে, কোনও ভাবে কি তখন প্রধান বিচারপতি সই জালিয়াতি করা হয়েছিল। তারা যখন সেনানিবাসে ছিলেন, তখন কি তাদের উপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল? এখন সেই কারণেই কোনও না কোনও পক্ষ ব্ল্যাকমেল করছে প্রধান উপদেষ্টা কে? আর সেই কারণেই কি পদত্যাগের ইচ্ছে প্রকাশ?












Discussion about this post