জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে ‘কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগে রবিবার ফজলুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিএনপি। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম উপদেষ্টা। কিন্তু ফজলুর রহমানের অভিযোগ আরও গুরুতর। তিনি রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে দাবি করেন, মব জাস্টিস সৃষ্টি করে তাঁকেই মারার পরিকল্পনা হয়েছে। বাংলাদেশেরই সাধারণ মানুষের প্রতি তিনি প্রশ্ন তুললেন, এই দেশে তাঁর বেঁচে থাকার অধিকার আছে কি না। বিশ্বজুড়ে ঘৃণিত ‘মব জাস্টিস’ তাঁর ওপর চলতে পারে কি না। এগুলোর উত্তর যদি ‘না’ হয়, তাহলে এসবের প্রতিবাদ করুন।
উল্লেখ্য, রবিবার মধ্যরাত থেকে বিএনপি নেতা তথা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকে গ্রেফতারের দাবিতে ঢাকার সেগুনবাগিচা এলাকায় তাঁর বাড়ির সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন একদল ব্যক্তি। তবে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা মাত্র এগারো জন, এর মধ্যে একজন নারীও আছেন। সে দেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত, মব জাস্টিসের নামে বাংলাদেশে যেভাবে মব সৃষ্টি করা হচ্ছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, সবচেয়ে গুরুতর দিক হল মব জাস্টিসের নামে যাকে খুশি হত্যাও করা হচ্ছে। এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলে ফজলুর রহমান আসলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মুখোশটাই খুলে দিলেন। প্রকাশ্য রাস্তায় ফজলুর রহমানের বাড়ির সামনে যেভাবে ওই এগারোজন দিনভর কুরুচিকর স্লোগান দিলেন, আপত্তিকর ভাষায় পোস্টার নিয়ে বসে থাকলেন এমনকি ওই মুক্তিযোদ্ধাকে প্রাণে মারার হুমকি পর্যন্ত দিলেন, তাতেই শোনা গেল মব জাস্টিসের সুর। ওই বিক্ষোভের মাঝে একজন তরুণীও ছিলেন। তিনি যে ভাষায় স্লোগান তুলেছেন তা অত্যন্ত আস্চর্যজনক। এ বিষয়ে ফজলুর রহমানের অভিযোগের তির বিদেশে থাকা কয়েকজন অ্যাক্টিভিস্টের দিকে। বলাই বাহুল্য তাঁর ইঙ্গিত পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসেনের মতো বিদেশে থেকে বাংলাদেশকে অশান্ত করার চক্রান্তকারীরা। তবে তিনি এই মব জাস্টিসের পিছনে জামায়তে ইসলামীর হাতও দেখছেন।
প্রসঙ্গত, রবিবার মধ্যরাত থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত ওই এগারো জন বিক্ষোভকারী ফজলুর রহমানের বাড়ির সামনে বসে ক্রমাগত স্লোগান দিয়েছেন। স্বভাবতই ওই বিএনপি নেতা তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। তাঁর কথায়, আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী সবার কাছে আহ্বান করছি, আপনারা আমার মৌলিক অধিকার এবং আমার সন্তানদের বেঁচে থাকার অধিকার, আমার স্ত্রীর বেঁচে থাকার অধিকার আপনারা দয়া করে নিশ্চিত করুন। আরও আশ্চর্যজনক বিষয় হল, দলের সর্বোচ্চ নেত্রীর উপদেষ্টা যে গুরুতর বিষয় নিয়ে বারংবার প্রশ্ন তুলছেন, সেটাকে অস্বীকার করে উল্টে তাঁকেই শো-কজ নোটিশ পাঠিয়েছে বিএনপি। অর্থাৎ, ক্ষমতার লোভে অন্ধ তারেক রহমান ও তাঁর অনুগামীরা মুক্তিযোদ্ধা তথা প্রবীন আইনজীবীকেই কাঠগড়ায় তুলছেন। অথচ তিনি সঙ্গত প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় শিল্প হল মব জাস্টিস।












Discussion about this post