মন থেকে অতীতের স্মৃতি মুছে ফেলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন পাক বিদেশমন্ত্রী তথা উপপ্রধানমন্ত্রী ঈশাক দার। শনি ও রবিবার তিনি ঢাকায় ছিলেন এবং দু-দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি বা বর্তমান তদারকি সরকারের চালিকা শক্তিগুলির সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করেন। বিএনপি, জামায়তে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা ঈশাক দারের সঙ্গে দেখা করেছেন। তেমনই ঈশাক দার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও বৈঠক করেন। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা পত্র স্বাক্ষর করেন। সবমিলিয়ে বেশ জমজমাট ছিল এই সফর। তবে এর মধ্যেই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছে যে খবর এসেছে তা যথেষ্টই গুরুতর। জানা যাচ্ছে পাকিস্তান এবার বাংলাদেশকে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপনাস্ত্র দিচ্ছে। সেই বিষয়েও গোপন সমঝোতা হয়ে গিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে কয়েক মাস ধরেই আলোচনা চলছিল বলে খবর। এবার ঈশাক দার বাংলাদেশে গিয়ে ক্ষেপনাস্ত্র নিয়ে সদর্থক আশ্বাস দিয়েছেন বলেই ভারতীয় গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন। এও জানা যাচ্ছে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার আরেকটি পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়জুর রহমানের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল ১৬ আগস্ট ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন। এই সফরের উদ্দেশ্য হল বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা “নতুন উচ্চতায় পৌঁছানো” নিশ্চিত করা। নয়া দিল্লি পুরো পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক সেনাবাহিনীর নির্বিচারে গণহত্যা চালানোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা, যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ ও স্বাধীনতাপূর্ববর্তী সম্পদের সুষম বণ্টনের যে দাবি বাংলাদেশের তরফে ছিল, পাক বিদেশমন্ত্রী সেই দাবি অমূলে নস্যাৎ করেছেন। যা নিয়ে বাংলাদেশ মৃদু প্রতিবাদ জানালেও খুব একটা রা কাড়েননি মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্যান্য উপদেষ্টারা। এমনকি জামাত বা বিএনপিও কোনও প্রতিবাদ করেনি পাক বিদেশমন্ত্রীর মন্তব্যে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশের আসল উদ্দেশ্য কি। ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ও কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা,পাকিস্তান বাংলাদেশকে আব্দালি ক্ষেপণাস্ত্র দিতে চলেছে। এটি স্বল্প পাল্লার ব্যালেস্টিক মিসাইল, যার পাল্লা ৪০০ কিলোমিটার অর্থাৎ ভারতের বেশ কয়েকটি বড় শহর এর আওতায় চলে আসবে। এখন প্রশ্ন হল, কেন পাকিস্তান এই ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র দিতে চাইছে বাংলাদেশকে? ইন্ডিয়ান ডিফেন্স রিসার্চ উইং বা আইডিআরডাবলিউ তাঁদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ কিনতে চাইছে স্বল্প পাল্লার আব্দালি এসআরবিএম ক্ষেপণাস্ত্র। কারণ এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাতে কোনও ক্ষেপণাস্ত্র নেই। অপরদিকে পাকিস্তানও আগ্রহী বাংলাদেশকে এই ক্ষেপণাস্ত্র দিতে। ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, মূলত দুটি কারণে ঢাকাকে ওই ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করতে চাইছে পাকিস্তান। প্রথমত,ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতির সুযোগ নিয়ে এই অঞ্চলে প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করতে চায় ইসলামাবাদ। দ্বিতীয়ত এটির যা পাল্লা তাতে একমাত্র ভারতের বিরুদ্ধেই আব্দালি ব্যবহার করা যাবে।
জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশকে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়া নিয়ে ইউনূস প্রশাসনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরেই কথাবার্তা চালাচ্ছিল পাক সেনাবাহিনী ও তাঁদের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। কিন্তু গত মে মাসে পাকিস্তানের মাটিতে ভারতীয় সেনা অপারেশন সিদুঁর অভিযান চালায়। এতে পাক সেনাবাহিনীর বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাকিস্তানের একাধিক সামরিক ও বিমানঘাঁটি কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। যার মেরামতির কাজ চালাচ্ছে পাক সেনাবাহিনী। ফলে বদলার আগুণে জ্বলছে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিণ্ডি। তাই তাঁরা ভারতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ফ্রন্ট খুলতে চাইছে ভারতের পূর্ব প্রান্তে এতে শিলিগুড়ি করিডোর বা ভারতের চিকেন নেক যেমন সহজেই টার্গেট করা যাবে, তেমনই উত্তর-পূর্ব ভারতও আক্রমণ করা যাবে। সেই কারণেই ইউনূস এবং জামাতের ছত্রছায়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপন করেছে পাকিস্তান। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তান ও ইউনূস সরকারের মধ্যে যোগসুত্রের কাজ করছে জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশ। বাংলাদেশ যদি পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র হাতে পায় তাহলে কি তা ভারতের জন্য কি হুমকি? প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আব্দালি ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির জন্য একটা হুমকি তো বটেই। যেখানে মুহাম্মদ ইউনূস একাধিকবার ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলি নিয়ে হুমকি দিয়েছেন। এটা তাঁর সরকারের মনোভাবেরই প্রতিফলন। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত এনসিপি নেতারা স্পষ্ট ভাষায় পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে আসছেন। সবমিলিয়ে পাকিস্তান যদি বাংলাদেশকে আব্দালি বা অন্য কোনও ক্ষেপণাস্ত্র দেয় তা ভারতের জন্য হুমকি। তবে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশ তীর ও এস-৪০০ যে কতটা কার্যকরি সেটা অপারেশন সিঁদূরের সময়ই প্রমাণিত হয়েছে। ফলে আব্দালি হোক বা সাহিন বা গজনভি, যে ক্ষেপণাস্ত্রই পাকিস্তান বাংলাদেশের হাতে তুলে দিক, ভারতের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।












Discussion about this post