ট্রাম্প ভাঙলে মৌনব্রতি। কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে এবং বর্তমান ভূরাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে দুই শীর্ষ নেতার ফোনালাপ নিঃসন্দেহে তাৎপর্য বহন করে। সূত্রের খবর, নমোকে ডন বলেছেন, সাম্প্রতিক অতীতে তিনি কিছু ভুল পদক্ষেপ করেছিলেন। সময় দাবি করছে সেই সব ভুল পদক্ষেপ ভুলে গিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলার। এখানে দুঃখপ্রকাশ করার কোনও প্রয়োজন নেই। আমাদের ভাবা উচিত দুই দেশের সার্বিক স্বার্থের কথা, সার্বিক মঙ্গলের কথা। বলা হচ্ছে, এই ফোনালাপ পুরোটাই বাংলাদেশ কেন্দ্রিক। সূত্রের খবর, ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধে ভারতের মধ্যস্থতা দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কথা হয়েছে সোমবার রাতে। ট্রাম্পের দাবি, তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি করিয়েছেন। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, আমেরিকা ও তার সহযোগি দেশগুলির থেকে আরও বেশি তেল কিনবে ভারত। যদিও সাউথব্লক থেকে এই বিষয়ে সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে ফোনালাপের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির কথা ঘোষণা করেছেন। তবে রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর চাপানো ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর বিষয়ে কিন্তু কোনও মন্তব্য করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের ঘোষণার পরেই প্রধানমন্ত্রী মোদিও এই চুক্তির রূপরেখা চূ়ড়ান্ত করবেন বলে জানিয়েছেন। জরিমানার ২৫ শতাংশের কী হবে, এটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তবে সার্জিও গোরের ইঙ্গিত এই শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। তিনি জানিয়েছেন, ভারতকে দিতে হবে ১৮ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারত ৪৫ লক্ষ কোটিরও বেশি মূল্যের জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি, কয়লা এবং অন্যান্য অনেক পণ্য কিনবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন “ আজ আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে পেরে আনন্দিত। ভারতে তৈরি হওয়া পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার সিদ্ধান্তে আমি খুশি। ঘোষণার জন্য ১৪০ কোটি ভারতবাসীর তরফে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ।”
প্রধানমন্ত্রীর মতে, দুটি বৃহৎ অর্থনীতির দেশ এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র একসঙ্গে কাজ করলে উপকৃত হয় আমজনতা। দ্বিপাক্ষিক সহযোহগিতার হাতকে প্রশস্ত করে। ট্রাম্পের নেতৃত্ব বিশ্বজুড়ে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শান্তির জন্য প্রেসিডেন্টে প্রচেষ্টাকে ভারত সমর্থন করে। আমাদের অংশীদারিকে অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আমি তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠিভাবে কাজ করার জন্য উন্মুখ।
প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কথোপকথনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কাঠিন্য যে অনেকটাই গলবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তার একটা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আগামী ৬ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আমেরিকা যাচ্ছেন। সূত্রের খবর, জয়শঙ্করের সফরে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কথা হবে। কোনও কোনও মহল থেকে কিন্তু এই বিষয়ে আগাম জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা হাত গুটিয়ে নিলে ভারত পদক্ষেপ করবে।
তেল ক্রয় প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, তিনি পীযূস গয়ালকে পাঠাবেন। তেলের দাম দেখে গয়াল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। বর্তমানে রাশিয়া থেকে তেল কেনা হলেও ইরান থেকে সাউথব্লক তেল কেনা স্থগিত রেখেছে। এর কারণ, সে দেশের সঙ্গে ইজরায়েলের টানাপোড়েন। তবে এসব কিছুকে ছাড়িয়ে গিয়েছে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের আসন্ন মার্কিন সফর। সূত্রের খবর, বাংলাদেশের বিষয়ে ভারতের পরিকল্পনা কি, সেটাই জয়শঙ্করের থেকে শুনতে চাইছে আমেরিকা।












Discussion about this post