আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তার মেঘ। অভিয়োগ উঠছে, বিশেষ একটি স্বার্থাণ্বেষী গোষ্ঠী এই ভোট বানচাল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তদারকি সরকার প্রধান মুহাম্মাদ ইউনূসের যে নির্বাচন নিয়ে প্রবল অনিহা ছিল, তা আর নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। কার্যত আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তিনি বাধ্য হয়ে ভোটের ঘোষণা দিয়েছেন। বাংলাদেশ নির্বাচন নিয়ে কমবেশি সব পক্ষের আগ্রহ রয়েছে। এই ভোটে নেই আওয়ামী লীগ। তা নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। হাসিনা দিল্লি থেকে তাঁর দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। জানিয়ে দিয়েছেন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ কর্মীদের কী দায়িত্ব হবে। এবারের ভোটে বড়ো চমক তারেকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তিনি ফাঁকে মাঠে গোল দেবেন না কি জয়ের স্বাদ পেতে গেলে তাঁকে কাঠখড় পোডা়তে হবে, তা নিয়েও কম আলোচনা হচ্ছে না। পদ্মাপারের নির্বাচনের আগে বেশ কিছু অঘটন ঘটতে পারে বলে কোনও কোনও মহল থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অনেকে মনে করছে ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ করতে পারে। সীমান্ত ভারতীয় সেনার সাম্প্রতিক তৎপরতা সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সীমান্তের স্পর্শকাতার এলাকায় আরও বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আগে সীমান্তে নজরদারি চালাত বিএসএফ। এখন তাদের সঙ্গে নজরদারির দায়িত্বে রয়েছে ভারতীয় সেনা। চিকেন নেকের নিরাপত্তার জন্য তৈরি করা হয়েছে তিনখানা গ্যারিসন। সেখানে প্রস্তুত রয়েছে ভৈরব বাহিনী। হাসিমারাতে রয়েছে রাফায়েল, সুখোই যুদ্ধিবিমান। উত্তর-পূর্বের প্রতিটি বায়ুসেনা ঘাঁটিতে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে যুদ্ধবিমানকে। প্রশ্ন একটাই ভারত কি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সামরকি অভিযানের সিদ্ধান্ত নিতে পারে?
একবাক্যে উত্তর না। সামরিক অভিযানের একটা ক্ষেত্র কয়েক মাস আগেও ছিল। ভারত সামরিক অভিযানে যাওয়ার পরিবর্তে ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ পলিসি নিয়েছিল। আর দিনকয়েক বাদেই যেহেতু বাংলাদেশে নির্বাচন, তাই সাউথব্লক আর কোনওভাবেই ওই দেশের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক পদক্ষেপ করবে না। ভোট এবং ভোটের ফলাফলের জন্য সাউথব্লক অপেক্ষা করবে। বাংলাদেশে বস্ত্র কারখানা ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশে দেখা দিয়েছে আর্থিক সংকট। ইতিমধ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে ভারত একটি চুক্তি সই করেছে। বাণিজ্য হয়েছে মুক্ত। তাতে বাংলাদেশের চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হয়েছে। ইউরোপের বাজারে ভারতীয় পণ্য আরও কমদামে পাওয়া যাবে। কিন্তু বাংলাদেশকে ইইউ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলিতে তাদের দেশে তৈরি হওয়া পণ্য বিক্রি করতে হবে চড়া দামে। এই চুক্তিতে উদ্বেগের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও।
এদিকে, বাংলাদেশ নির্বাচনের মুখে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটিলিয়ন (র্যাব) কে বিলুপ্ত ঘোষণা করলে তদারকি সরকার প্রধান। অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত কোর কমিটির সুপারিশ মেনে র্যাবের নাম বদলে দেওয়া হচ্ছে। বাহিনীর নতুন নাম হবে স্পেশ্যাল ইন্টারভেনশন ফোর্স বা এসআইএফ। বাহিনীর প্রতিষ্ঠা হয় ২০০৪ সালে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন তখন খালেদা জিয়া। সেই সময় থেকে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে। ২০০৮-য়ে হাসিনার আমলে তা চরমে পৌঁছায়। হাসিনা-বিরোধীদের অনেকে আওয়ামী লীগের বিরোধীদের অনেকে এই বাহিনীকে ‘মুজিবুর রহমানের জমানার রক্ষীবাহিনীর নতুন সংস্করণ’ বলে চিহ্নিত করতেন!সন্ত্রাসদমন, মাদক চোরাচালান রোধ এবং আপৎকালীন পরিস্থিতিতে অভিযানের জন্য গড়ে তোলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ।
বাহিনীর ক্ষমতা ছাঁটাইয়ের উদ্দেশ্য নিয়েই কি তদারকি সরকার এর নামটাই বদলে দিল।












Discussion about this post