২০২৪ সালের ৮ আগস্ট, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা পদে বহাল হয়েছিলেন শান্তির নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। একটি গণ অভ্যুত্থানের জোরে বাংলাদেশে ক্ষমতাস্রিত হয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। তারপর ক্ষমতায় আসে এক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যার মাথায় এই মুহাম্মদ ইউনূস। বিগত সময়ে আমরা দেখেছি তিনি পাকিস্তানকে পাশে পেতে ভারতকে কার্যত দূর ছাই করেছেন। এই অবহে পাকিস্তানের সঙ্গে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করার পাশাপাশি বাংলাদেশের ইউনূস সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি বিমান পরিষেবা শুরু করে দিয়েছেন। ঢাকা ও করাচির মধ্যে ফ্লাইট ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গিয়েছে। যা নিয়ে উচ্চশিত দুই দেশ। বিমান বাংলাদেশ এয়ারওয়েস জানিয়েছে, প্রথম উড়ানের সমস্ত টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। উল্লেখ্য ২০১২ সালের পর থেকে ঢাকা এবং করাচির মধ্যে সরাসরি কোনও বিমান চলেনি। ফলে বিগত ১৪ বছর পর বৃহস্পতিবারই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রথম বিমানটি উড়েছে। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে সপ্তাহে দু’দিন করে এই আন্তর্জাতিক বিমান চলবে। জানা যাচ্ছে পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু করতে বাংলাদেশের সংস্থাটি গত কয়েক মাস ধরে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে। অবশেষে ছাড়পত্র দিয়েছে পাকিস্তান। এর পরেই পরীক্ষামূলক ভাবে সপ্তাহে দু’দিন উড়ানের সূচি নির্ধারিত হয়। এখন প্রশ্ন হল, এই বিমানের যাত্রী ভাড়া কত পড়তে পারে?
ঘটনা হল, বিমান বাংলাদেশ ঢাকা থেকে করাচি বিমান পরিষেবা শুরু করেছে। যা গত বৃহস্পতিবার রাতে করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাটি স্পর্ষ করেছিল, আর ওই বিমানটিকে ওয়াটার ক্যানন বা জলকামান দিয়ে স্বাগত জানায় পাকিস্তান। কিন্তু বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-করাচি বিমান চালু করলেও পাকিস্তানের রাষ্ট্রায়ত্ব বিমান সংস্থা পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স এখনও তা চালু করেনি। এর পিছনে রয়েছে একটা গভীর রহস্য। উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ভ্রমণকারী যাত্রীরা মূলত দুবাই বা দোহার মতো কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে সংযোগকারী ফ্লাইটের উপর নির্ভর করে। জেনে রাখা প্রয়োজন, ঢাকা এবং করাচির মধ্যে আকাশপথের দূরত্ব প্রায় ২,৩৭০ কিলোমিটার। কিন্তু এই আকাশসীমা ভারতের উপর দিয়ে। ফলে বিমানটি যদি ভারতের আকাশপথ ব্যবহার করে তাহলে তার দুরত্ব হবে ওই ২,৩৭০ কিলোমিটার। কিন্তু যদি ভারতের আকাশপথ বন্ধ থাকে, তাহলে ওই বিমানকে আরও কয়েক হাজার কিলোমিটার ঘুরপথে গন্তব্যে পৌঁছতে হবে। যেমনটা হয় পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রে। তাই বিমান বাংলাদেশ ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু করলেও পাকিস্তান ওই ঝুঁকি নেয়নি।
এখন প্রশ্ন উঠছে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে, নয়াদিল্লি কি তাঁদের আকাশপথে ঢাকা-করাচি বিমান পরিষেবা পরিচালনার অনুমতি দেবে? আপাতত এই বিমান চালু হলেও ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তা ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে। কারণ, পাকিস্তান এয়ারলাইন্স এই পরিষেবা চালু করেনি, কারণ ভারত তাঁদের আকাশসীমা পাকিস্তানি বিমানের জন্য খোলা রাখেনি। তবে বাংলাদেশের বিমানগুলি এখনও এই সুবিধা পায়। কিন্তু যদি ভারত ঢাকা-করাচি সরাসরি বিমানের জন্য ভারতের আকাশপথ বন্ধ করে দেয় তাহলে কি হবে? সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই ২,৩০০ কিলোমিটারের যাত্রা ঘুরপথে প্রায় ৫,৮০০ কিলোমিটারেরও বেশি হয়ে যাবে। এবং ওই যাত্রাপথ প্রায় ৮ ঘণ্টার বেশি লেগে যাবে। সে ক্ষেত্রে ঢাকা-করাচি ফ্লাইটকে গোটা ভারতীয় উপদ্বীপ প্রদক্ষিণ করতে হবে। তাতে খরচ ও সময় দুইই বেশি লাগবে। এই বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে বিদ্যমান চুক্তি অনুসারে পরিষেবাটি পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মূল চাবিকাঠি নয়াদিল্লির হাতেই রয়েছে। টেকনিক্যালি এবং আইনিভাবে, ভারতের হাতেই চাবিকাঠি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “হ্যাঁ, আমরা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বিমান সংযোগের বিষয়ে প্রতিবেদন দেখেছি। বাংলাদেশের সাথে বিমান পরিষেবা চুক্তি অনুসারে এই ধরনের সমস্যাগুলি সমাধান করা হবে।
তবে এই বিষয়টি এখন নয়া দিল্লির বিবেচনাধীন রয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে ভারত তাঁদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিতে পারে বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইটগুলির জন্য। তা হলে সেটা হবে অত্যন্ত ব্যায়বহুল বিমানযাত্রা। যা বাংলাদেশের বিমান সংস্থাগুলির জন্য খুবই বিপদের হবে। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের পর প্রথমবারের মতো সরাসরি সমুদ্র বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে। মোংলা বন্দরে পাকিস্তানি জাহাজগুলিকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে। ভিসা শিথিল করা হয়েছে। ভারত সবই কড়া নজরে দেখছে। এখন দেখার নয়া দিল্লি কোনও কড়া সিদ্ধান্ত নেয় কিনা। ভারত যদি তাঁদের আকাশপথ বন্ধ করে দেয়, তাহলে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক হবে, এ কথা বলাই বাহুল্য।











Discussion about this post