মুহাম্মদ ইউনূসকে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট বাংলাদেশের ক্ষমতায় আনা হয়েছিল এক মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে। পরবর্তী সময় শান্তির নোবেলজয়ী এই অর্থনীতির অধ্যাপক নিজেই এ কথা স্বীকার করেছিলেন। তাঁর ক্ষমতায় আসার পর পেড়িয়ে গিয়েছে আঠারো মাস। কিন্তু একজন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে একজন সরকার প্রধানের যেটা করার কথা ছিল, সেটাই করেননি মুহাম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের দাবি, অন্তর্বর্তী প্রশাসনের দায়িত্ব হল দ্রুত একটি সুষ্ঠ, অবাধ ও অন্তর্ভূক্তিমূলক নির্বচন করিয়ে দেশে একটি স্থায়ী এবং সুস্থ সরকার উপহার দেওয়া। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূস আঠারো মাসের বেশি ক্ষমতা আঁকড়ে বরং উল্টো কাজটাই করে গিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের জন্য এমন এমন সিদ্ধান্ত এবং চুক্তি করেছেন যা কার্যত তাঁর এক্তিয়ারের বাইরে। তিনি বেশি মনযোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ইউনূসের সরকার একের পর এক সিদ্ধান্ত এবং চুক্তি করে চলেছেন। অনেকটা যেন নীরবে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে চলেছেন মুহাম্মদ ইউনূস। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই সরকার কি সংস্কারের সরকার নাকি কোনও সামরিক যুগের নীল নকশা আঁকছে তাঁরা? বিগত দেড় বছরে ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি বিশ্বের নজর কেড়েছে তা হল প্রতিরক্ষা খাতের কেনাকাটায়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশ দাবি করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছরে দেশ অনেকটাই এগিয়েছে, কিন্তু সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে আধুনিক সামরিক সাজসজ্জায়। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ স্থল, বিমান ও নৌসেনার হাতে যে অস্ত্রশস্ত্র, যুদ্ধবিমান এবং যুদ্ধজাহাজ বা সাবমেরিন রয়েছে তা কার্যত মান্ধাতার আমলের। সময়ের সঙ্গে কিছু কিছু সমরাস্ত্র কেনা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। আবার ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান এমনই যে ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখলেই তাঁদের কোনও বাহ্যিক আক্রমণের ভয় থাকে না। কারণ বাংলাদেশ সীমান্তের ৮০ শতাংশই ভারত দিয়ে ঘেরা এবং কিছুটা মিয়ানমার আর বাকিটা বঙ্গোপসাগর। তাই বৈদশিক আক্রমণ হলে তা ভারত বা মিয়ানমার থেকেই হওয়ার সম্ভাবনা। তাই বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার অর্থ ভারতের বিরুদ্ধেই ঘুঁটি সাজানো। সে কারণে বাংলাদেশের বিগত ৫৫ বছরে কোনও সরকারই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র নিয়ে খুব একটা মাথাব্যাথা করেনি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হয়ে আসার পরই মুহাম্মদ ইউনূস এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে বধ্যপরিকর।
বাংলাদেশের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান এবং কারও বিরাগভাজন না হওয়া নীতি নিয়ে চলছিল বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে তাঁরা বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলির সঙ্গে সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক সম্পর্ক রেখে চলছিল। কিন্তু এবার ইউনূসের বাংলাদেশ নিজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মজবুত করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে। এর মাধ্যমে তাঁরা আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক যুদ্ধজাহাজের দিকে হাত বাড়িয়েছে। পাকিস্তান, চিন, তুরস্ক, ইতালি থেকে কেনা হচ্ছে নানান যুদ্ধ সামগ্রী। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এতদিন একটা ভারসাম্যের নীতি নিয়ে চলা বাংলাদেশ এখন যেভাবে বিভিন্ন দেশ থেকে অস্ত্রশস্ত্র ও যুদ্ধবিমান, ড্রোন, এয়ার ডিফেন্স কিনতে উদ্যোগী হয়েছে, তাতে তাঁরা প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পারবেন তো? কিন্তু এই বিষয়ে একটাই প্রশ্ন সামনে আসে, বাংলাদেশের এত অস্ত্রের কেন দরকার পড়ল এই মুহূর্তে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইউনূস সরকার প্রথম থেকেই ভারতের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে একটা বার্তা দিতে চাইছিলেন। তিনি পাকিস্তান, তুর্কি ও চিনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্য একাধিক যুদ্ধাস্ত্র কিনতে চলেছে। চিন থেকে অত্যাধুনিক জে-১০সি যুদ্ধবিমান কেনার পাশাপাশি এসওয়াই-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কিনতে চলেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যেই তুরস্ক থেকে ২৬টি অত্যাধুনিক ‘তুলপার লাইট ট্যাংক’ কেনার আলোচনা করছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি অত্যাধুনিক ড্রোন কেনা হচ্ছে এরদোগানের দেশ থেকে। ইতালির সঙ্গে ইউনূস সরকার ইউরো ফাইটার জেট কেনার বিষয়ে সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া চিনের থেকে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কেনার ব্যাপারেও কথা চলছে বলে জানা গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই সবই চলছে ভারতকে চাপে রাখার জন্য। পাকিস্তান ও তুর্কিকে পাশে নিয়ে এক ভয়ানক খেলায় মেতে উঠতে চাইছেন মুহাম্মদ ইউনূস। যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলার জন্য যথেষ্ট বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।











Discussion about this post