এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বের সবচেয়ে চর্চিত বিষয় হল, এপস্টিন ফাইলে কাদের কাদের নাম ফাঁস হল। উল্লেখ্য মার্কিন ধনকূবের তথা সাজাপ্রাপ্ত শিশু যৌন অপরাধী প্রয়াত জেফ্রি এপস্টিন বিশ্বের তাবড় রাজনীতিবিদ এবং তারকাদের মতো পরিচিত ব্যক্তিদের সাথে মেলামেশা করতেন। তিনিই প্রভাব খাঁটাতে নাকি নারী ও শিশুদের ব্যবহার করতেন ওই রাজনীতিবিদদের সয্যাসঙ্গী হতে। পাশাপাশি তিনি একটি তালিকাও তৈরি করতেন, কাদের কাদের কাছে এই জঘন্য ভেট পৌঁছে দিতেন তাঁদের যৌন লালসা তৃপ্ত করতে। এই তালিকায় যেমন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল়্ড ট্রাম্পের নামও রয়েছে, তেমনই বিগত প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন, বা ব্রিটেনের যুবরাজ চার্লসের নামও রয়েছে। তেমনই বিশ্বের বেশ কয়েকজন তাবড় রাজনীতিবিদ এবং ক্রীড়া ও চলচিত্র জগতের তারকার নামও রয়েছে এপস্টিনের তালিকায়। উল্লেখ্য, এই এপস্টিন ফাইলস-এর সঙ্গে নাম জড়ানোর জেরে গত বছর রাজকীয় খেতাব হারিয়েছিলেন ব্রিটিশ রাজা চার্লসের ভাই, রাজকুমার অ্যান্ড্রু। তাঁর একটি ছবি এখন নেট দূনিয়ায় ব্যপক ভাইরাল, মেঝেতে শুয়ে আছেন এক রহস্যময়ী মহিলা। আর তাঁর শরীরের উপরে ঝুঁকে পড়ে ব্রিটিশ রাজা চার্লসের ভাই, রাজকুমার অ্যান্ড্রু। এপস্টিন ফাইলসে এরকম একাধিক যৌন কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়েছে একাধিক বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিত্বের। যেমন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন। তাঁকে নিয়েও এপস্টিন ফাইলসে একাধিক কেচ্ছা কেলেঙ্কারি রয়েছে। কিন্তু ভারতীয় উপমহাদেশে কতজন নেতার বিরুদ্ধে এপস্টিন ফাইলসে লিখিত দলিল রয়েছে? জানা যাচ্ছে এই তালিকায় প্রথমেই নাম আসে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের। যিনি এখন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা এবং বিল ক্লিন্টনের অত্যন্ত ঘনিষ্ট। যা ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, বিতর্তিক এপস্টিন ফাইলসে মুহাম্মদ ইউনূসের নাম এসেছে ১৩ বার। এমনকি এপস্টিন ফাইলগুলিতে মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও উঠে এসেছে। যেহেতু যৌন কেলেঙ্কারির জন্য মার্কিন ধনকুবের কুখ্যাত সেহেতু এপস্টিনের “ব্ল্যাক বুক” এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিচিতিদের “সংক্ষিপ্ত তালিকায়” মুহাম্মদ ইউনূসের নাম ঘিরে তাই বাংলাদেশে চাঞ্চল্য ছড়ানোটাই স্বাভাবিক। জেফ্রি এপস্টিনের বিতর্কিত আর্কাইভ থেকে নতুন বিশ্লেষণ করা নথিপত্র থেকে জানা যায় যে মুহাম্মদ ইউনূস কেবল ওই মার্কিন অর্থদাতার কেবলমাত্র পরিচিতই ছিলেন না, আরও বেশি কিছু ছিলেন। ওই বিতর্কিত ফাইলগুলি দেখায় যে ইউনূস এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এপস্টিনের লজিস্টিক এবং সামাজিক অভ্যন্তরীণ বৃত্তে অত্যন্ত ভালোভাবে যুক্ত ছিলেন। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ “ইউনি” কোড নামে এপস্টিনের ব্যক্তিগত ডাইরিতে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর অফিস থেকে সরাসরি লজিস্টিক সহায়তা পেয়েছিলেন। বিতর্কিত মার্কিন ধনকূবের জেফ্রি এপস্টিনের বাজেয়াপ্ত করা ডায়রি, ইমেল এবং অন্যান্য সংগৃহীত তথ্য থেকে জানা যায়, জেফ্রি এপস্টাইনকে গ্রামীণ আমেরিকার সাথে সম্পর্কিত একটি পিচ ডেক এবং ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের একটি অনুষ্ঠানে উল্লেখ রয়েছে। যেখানে ইউনূসকে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য বিশেষ বিমানে আনা হয়েছিল। দাবি করা হয় যে বিল এবং হিলারি ক্লিনটন ১৯৮০-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইউনূসকে পরিচয় করিয়ে দিতে সহায়তা করেছিলেন। ওই সমস্ত নথিতে গ্রামীণ ব্যাঙ্ককে বড় বড় ফাউন্ডেশন এবং এনজিওগুলি অর্থ পাচারের জন্য ব্যবহার করেছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও ২০১১ সালে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর মুহাম্মদ ইউনূস শীর্ষ মার্কিন সম্মাননা পান, যা সমালোচকরা রাজনৈতিক সুরক্ষার প্রমাণ হিসাবে উল্লেখ করেন।
২০১০ সালের ইমেলগুলি প্রকাশ করে যে কীভাবে এপস্টিনের অভ্যন্তরীণ বৃত্ত মুহাম্মদ ইউনূসের প্রোফাইলকে বাড়িয়ে তুলতে প্রভুত সাহায্য করেছিল। ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১০ সালের একটি ইমেলে, এপস্টাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েলের শ্যালক আল সেকেল, ইউনূসের জন্য তার সংযোগগুলিকে কাজে লাগানোর বিষয়ে সহযোগীদের কাছে গর্ব করেছিলেন। সেকেল লিখেছেন যে তিনি এবং তাঁর বোন ইসাবেল ম্যাক্সওয়েল তাঁদের “খুব ভালো বন্ধু” ইউনূসকে দ্য সিম্পসনস স্রষ্টা ম্যাট গ্রোনিংয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছেন যে এই পরিচয়ের ফলে ইউনূস সরাসরি অনুষ্ঠানের একটি পর্বে অ্যানিমেটেড হয়েছিলেন, এটিকে বিশ্বের জন্য “সত্যিকার অর্থবহ অবদান” হিসাবে বর্ণনা করেছেন। রেকর্ড থেকে জানা যায় যে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, এপস্টাইনের গ্রেপ্তারের মাত্র দুই বছর আগে, ইউনূসের “র্যাডিক্যাল ইকোনমিক প্ল্যান” সম্মেলনের বিজ্ঞাপনের নিউজলেটারগুলি সরাসরি এপস্টিনের গোপন ব্যক্তিগত ইমেল ঠিকানায় রয়েছে। যদিও এই ফাইলগুলিতে মুহাম্মদ ইউনূসকে এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপে রাখার বা তাঁকে যৌন অসদাচরণের সাথে জড়িত করার কোনও প্রমাণ নেই। কিন্তু ইউনূস যে এপস্টিনের বড় সাগরেদ ছিলেন এবং তাঁর সেই বৃত্তে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল এ কথা অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই।












Discussion about this post