বদল নয়, এ যেন বদলার বাংলাদেশ। প্রতিশোধ, প্রতিহিংসার বাংলাদেশ। মুজিব বিদ্বেষ এমন জায়গায় পৌঁছল, যেখানে তার বাড়ি, স্মৃতি তো দূর, এইবার তার মাজার ভাঙার উদ্যোগ দেখা গেল। রণক্ষেত্র হয়ে উঠল গোপালগঞ্জ। আগেই খবর পেয়ে গোপালগঞ্জে সক্রিয় ছিল আওয়ামী লীগ নেতা, কর্মীরা। তাদেরই প্রতিরোধের মুখে পড়ল জাতীয় নাগরিক পার্টির কর্মীরা। প্রবল সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু ঘটেছে বলে খবর। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে জারি করা হয়েছে কারফিউ। আক্রান্ত হয়েছেন এনসিপির নেতারা। কেউ কেউ বলছেন, পাকিস্তানের দালাল হয়ে কাজ করছে যারা, তাদের উপযুক্ত শাস্তি দিয়েছে হাসিনার দল।
জুলাই মাস পড়তেই ছাত্রনেতাদের একাধিক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। কারণ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বর্ষপূর্তি। বুধবারও ছিল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির কর্মসূচি। তাদের মূল উদ্দেশ্যে, বঙ্গবন্ধুর কবর ভেঙে দেওয়া। আগেভাগেই সমস্ত প্রস্তুতি সেরে রেখেছিল ছাত্রনেতারা। আনা হয়েছিল বুলডোজার। সঙ্গে ছিল একাধিক সরঞ্জাম। এমনকি তাদের কর্মসূচি যাতে নির্বিঘ্নে পালন করা যায়, তার জন্য সক্রিয় ছিল পুলিশও। কিন্তু তাদের কর্মসূচিতে প্রতিরোধ গড়ে তোলা আওয়ামী লীগ নেতা, কর্মীরা।
যখন পুলিশ প্রশাসন টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুরের মাজার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে,তখনই প্রতিরোধ গড়ে তোলে আওয়ামী লীগের কর্মীরা। চলে দু পক্ষের মধ্যে প্রবল সংঘর্ষ। এমনকি গোপালগঞ্জের পুর পার্ক এবং লঞ্চঘাট এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি হয় আওয়ামী লীগের। পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ থেকে সেনাবাহিনী পর্যন্ত হিমশিম খায়। শেষমেষ কারফিউ জারি করা হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর প্রহরায় এলাকা ছাড়েন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা।
এই ঘটনায় মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষুব্ধ হয়। সরকারের মতে, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিল ছাত্রনেতারা। কিন্তু তাদের বাধা দেওয়া মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করা। এমনকি পুলিশ, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা ও গণমাধ্যমের উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি। এটি করেছে ছাত্রলীগ এবং আওয়ামীলীগ। তাদের নাকি বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানানো হয়।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করাতে যদি মুজিবের কবর ভাঙ্গার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে তো বাধা দেবেই বঙ্গবন্ধুর পূজারীরা। আর বাংলাদেশের স্মৃতিসৌধ ভাঙ্গা কোনও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হতে পারে না। তাহলে সরকারের তরফের শান্তিপূর্ণ বলা হচ্ছে কিভাবে? উঠে আসছে প্রশ্ন। এর আগে যখন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি ভাঙ্গা হয়েছিল, তখন বলা হয়েছিল সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু মাজার ভাঙতে ছাত্র নেতারা গিয়েছিল। এবারও কি মহম্মদ ইউনূস বলবেন, এটাও সাধারণ মানুষের কাজ? উল্টে দেখা গেল সাধারণ মানুষই মুজিবের কবর ভাঙ্গাতে প্রতিরোধ গড়ে তুলল।












Discussion about this post