বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি’র সমাবেশ। যেখানে সারা দেশে এনসিপি জুলাই পদযাত্রা করছে, সেখানে তাঁরা ঘোষণা করেছিল ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’। যা আগুনে ঘি দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। ঘটনা পরম্পরায় এনসিপি-র সমাবেশ এবং তাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘিরে সহিংসতায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে খবর। মৃতের সংখ্যা বেসরকারি মতে সাতজন। কেন এত মৃত্যু, কাদের জন্য, কি কারণে এত মৃত্যু? দাবি, যারা মারা গিয়েছেন তাঁরা আওয়ামী লীগ সমর্থক, আর তাঁরা সেনাবাহিনীর গুলিতে মারা গিয়েছেন। এখানে অনেকগুলো প্রশ্ন সামনে আসে, সেনাবাহিনী কেন গুলি চালালো, কেনই বা এনসিপি মার্চ ফর গোপালগঞ্জ কর্মসূচি নিল?
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর দফায় দফায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও গুলিতে রীতিমত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্ক ও লঞ্চঘাট এলাকা। আসলে প্রথম থেকেই এনসিপির সমাবেশকে ঘিরে গোটা গোপালগঞ্জ থমথমে অবস্থান ছিল। এই অবস্থায়, এনসিপির মঞ্চে আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে বলেই দাবি। কিন্তু বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত খবর অনুযায়ী, ভাষণ দিয়েছিলেন নাহিদ, হাসনাত বা সারজিস আলমরা। আবার এই দাবিও উঠছে যে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন পয়েন্টে আওয়ামীলীগের কর্মী সমর্থকরা জড়ো হয়েছিলেন আর তারাই হামলা চালায় ইন সিপি নেতাদের গাড়ির বহরে। প্রশ্ন হল কেন এটা হল?
গোপালগঞ্জের ঘটনা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল, এখনো বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব টিকে আছে, আর তা প্রবলভাবেই টিকে আছে।
কারণ বুধবার দুপুরে ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি শেষ করে ফেরার সময় আওয়ামী লীগের হামলার মুখে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন এনসিপি’র শীর্ষ নেতারা। তাঁদের কেউ কেউ লুকিয়ে বাংলাদেশ সেনার সাজোয়া গাড়ির ভিতর লুকোন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের কড়া পাহারায় গোপালগঞ্জ ছাড়েন বলেই জানা যায়। ঘটনার পর বিপুল সংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী ও বিজিবি’র সদস্যদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জারি করা হয় ১৪৪ ধারা বা কার্ফু।
এনসিপির দাবি, নেতাদের “হত্যার উদ্দেশ্যে জঙ্গি কায়দায় হামলা” চালানো হয়েছে এবং “আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের সন্ত্রাসীরা” এই হামলা চালিয়েছে। কিন্তু আদৌ কি তাই?
উল্লেখ্য এনসিপি’র কর্মসূচিকে ঘিরে বুধবার সকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পুলিশের গাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের গাড়িতেও আগুন লাগানো হয়। বিবিসি বাংলার দাবি, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও প্রাণঘাতী কোনও অস্ত্র ব্যবহার করেনি। যা বর্তমান অন্তরবর্তী সরকারের নীতি। তাহলে কারা গুলি চালালো? দাবি সেনাবাহিনীর সদস্যরা গুলি চালিয়েছে। কেন তাঁরা গুলি চালালো সেটাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আসলে, বাংলাদেশ সেনাপ্রধান জানিয়েছিলেন, কোনও রকম অরাজকতা বরদাস্ত হবে না। এর জন্যই কি সেনাবাহিনী গুলি চালিয়েছে?
সূত্রের খবর, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন শুধু বাতিল করেনি, তাঁদের নৌকা প্রতিকও সরিয়ে নেয় ওয়েবসাইট থেকে। আর তা করা হয়েছিল এনসিপি নেতা তথা বাংলাদেশের অন্যতম উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ারা একটা ফেসবুক পোস্টের পর। অর্থাৎ, মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে বসে যাই বলুক, আসলে বাংলাদেশে তাঁকে চলতে হয় এই নব্য ছাত্রনেতাদের কথায়। এটাই মূল ক্ষোভের কারণ। যার বিস্ফোরণ ঘটেছে গোপালগঞ্জে।












Discussion about this post